আজ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১০ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৭%

চসিকের রাজস্ব বিভাগের কর্মচারীর আর্থিক অনিয়ম তদন্তে অবশেষে কমিটি গঠন

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:19:29 pm, Friday, 25 September 2026
  • 12

চসিকের রাজস্ব বিভাগের কর্মচারীর আর্থিক অনিয়ম তদন্তে অবশেষে কমিটি গঠন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

চসিকের রাজস্ব বিভাগের এক কর্মচারীর বছরের পর বছর ধরে করা নানা আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে অবশেষে আইনি ব্যবস্থার পথে হাঁটছে চসিক। চসিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজস্ব বিভাগের ওই কর্মচারী লাইসেন্সের ফি আত্মসাৎ করেছেন।

এছাড়াও নিজের সার্কেল বা কর্মক্ষেত্রের বাইরে গিয়ে লাইসেন্স তৈরি করে দেয়ার কথা বলে অর্থ গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সময়মতো লাইসেন্স সরবরাহ না করায় বিষয়টি জানাজানি হয়। ঘটনার পর এসব অভিযোগ তদন্তে একজন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত রাজস্ব বিভাগের সার্কেল-৭ এর লাইসেন্স পরিদর্শক মো. নিজাম উদ্দীনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে তাকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সচিবালয় বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার চসিকের উপসচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈনুল হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক কারণ দর্শানোর নোটিশ থেকে এতথ্য জানা যায়। চসিকের কর্মকর্ত-কর্মচারীরা জানান, মো. নিজাম উদ্দীন দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স তৈরি করে দেয়ার কথা বলে সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে আসছেন।

তারা লাইসেন্সের কপি খুঁজলে আজ দিচ্ছি বা কাল দিচ্ছি বলে দীর্ঘদিন সময়ক্ষেপণ করছেন। এছাড়া নিজাম উদ্দীনের কর্মক্ষেত্রের বাইরে অর্থাৎ সার্কেল-৭ এর বাইরে গিয়েও অর্থ নিয়েছেন বলে জানা যায়। এখনো পর্যন্ত কতজন গ্রাহক থেকে অর্থ নিয়েছেন তার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে চসিকের একাধিক কর্মচারী বলেন, অর্ধশতের বেশি গ্রাহক থেকে নিজাম অর্থ আদায় করেছেন।

সবগুলো অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করলে সব জানা যাবে। চসিকের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি অনুযায়ী, লাইসেন্স প্রদানের লক্ষ্যে সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে নিয়মমাফিক বা নির্ধারিত অর্থ গ্রহণ করলেও মো. নিজাম উদ্দিন যথাসময়ে তাদের লাইসেন্স সরবরাহ করেননি। এছাড়া নিজের সার্কেল বা কর্মক্ষেত্রের বাইরে অবস্থিত এলাকার মালিকদের কাছ থেকেও লাইসেন্স তৈরি করে দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অর্থ নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে লাইসেন্স সরবরাহ না করে সেবা গ্রহীতাদের দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করা হয়েছে। এ বিষয়ে রাজস্ব বিভাগে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়ার কথা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত করতে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে চসিক। গত ২২ সেপ্টেম্বর জারি করা এক চিঠিতে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অভিযোগগুলো তদন্ত করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চসিকের এক কর্মকর্তা বলেন, তার (নিজাম উদ্দীন) উপরস্থ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় সার্কেল ৭ এ বছরের পর বছর এ অপকর্ম চলছে। গত ২ বছর আগে থেকে নিজামের ব্যাপারে ভোক্তভোগীরা অফিসে অভিযোগ করছিল। তার তো এতদিন কিছু হয় নাই। মনে হয় না আগামীতে কিছু হবে। নিজাম তো একা খায় নাই, সবাইকে ভাগ দিয়ে চসিকে রাম রাজত্ব কায়েক করেছিল।

তাই নিজামের সাথে তাদেরও শাস্তি হওয়া দরকার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, রাজস্ব বিভাগের লাইসেন্স পরিদর্শকের বিরুদ্ধে লাইসেন্স ফি গ্রহণ করে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। এ বিষয়ে কিছু অভিযোগ আসে আমাদের কাছে। এসব অভিযোগ তদন্তে একজন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট রোডম্যাপ

চসিকের রাজস্ব বিভাগের কর্মচারীর আর্থিক অনিয়ম তদন্তে অবশেষে কমিটি গঠন

Update Time : 04:19:29 pm, Friday, 25 September 2026

চসিকের রাজস্ব বিভাগের এক কর্মচারীর বছরের পর বছর ধরে করা নানা আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে অবশেষে আইনি ব্যবস্থার পথে হাঁটছে চসিক। চসিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজস্ব বিভাগের ওই কর্মচারী লাইসেন্সের ফি আত্মসাৎ করেছেন।

এছাড়াও নিজের সার্কেল বা কর্মক্ষেত্রের বাইরে গিয়ে লাইসেন্স তৈরি করে দেয়ার কথা বলে অর্থ গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সময়মতো লাইসেন্স সরবরাহ না করায় বিষয়টি জানাজানি হয়। ঘটনার পর এসব অভিযোগ তদন্তে একজন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত রাজস্ব বিভাগের সার্কেল-৭ এর লাইসেন্স পরিদর্শক মো. নিজাম উদ্দীনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে তাকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সচিবালয় বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার চসিকের উপসচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈনুল হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক কারণ দর্শানোর নোটিশ থেকে এতথ্য জানা যায়। চসিকের কর্মকর্ত-কর্মচারীরা জানান, মো. নিজাম উদ্দীন দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স তৈরি করে দেয়ার কথা বলে সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে আসছেন।

তারা লাইসেন্সের কপি খুঁজলে আজ দিচ্ছি বা কাল দিচ্ছি বলে দীর্ঘদিন সময়ক্ষেপণ করছেন। এছাড়া নিজাম উদ্দীনের কর্মক্ষেত্রের বাইরে অর্থাৎ সার্কেল-৭ এর বাইরে গিয়েও অর্থ নিয়েছেন বলে জানা যায়। এখনো পর্যন্ত কতজন গ্রাহক থেকে অর্থ নিয়েছেন তার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে চসিকের একাধিক কর্মচারী বলেন, অর্ধশতের বেশি গ্রাহক থেকে নিজাম অর্থ আদায় করেছেন।

সবগুলো অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করলে সব জানা যাবে। চসিকের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি অনুযায়ী, লাইসেন্স প্রদানের লক্ষ্যে সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে নিয়মমাফিক বা নির্ধারিত অর্থ গ্রহণ করলেও মো. নিজাম উদ্দিন যথাসময়ে তাদের লাইসেন্স সরবরাহ করেননি। এছাড়া নিজের সার্কেল বা কর্মক্ষেত্রের বাইরে অবস্থিত এলাকার মালিকদের কাছ থেকেও লাইসেন্স তৈরি করে দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অর্থ নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে লাইসেন্স সরবরাহ না করে সেবা গ্রহীতাদের দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করা হয়েছে। এ বিষয়ে রাজস্ব বিভাগে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়ার কথা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত করতে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে চসিক। গত ২২ সেপ্টেম্বর জারি করা এক চিঠিতে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অভিযোগগুলো তদন্ত করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চসিকের এক কর্মকর্তা বলেন, তার (নিজাম উদ্দীন) উপরস্থ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় সার্কেল ৭ এ বছরের পর বছর এ অপকর্ম চলছে। গত ২ বছর আগে থেকে নিজামের ব্যাপারে ভোক্তভোগীরা অফিসে অভিযোগ করছিল। তার তো এতদিন কিছু হয় নাই। মনে হয় না আগামীতে কিছু হবে। নিজাম তো একা খায় নাই, সবাইকে ভাগ দিয়ে চসিকে রাম রাজত্ব কায়েক করেছিল।

তাই নিজামের সাথে তাদেরও শাস্তি হওয়া দরকার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, রাজস্ব বিভাগের লাইসেন্স পরিদর্শকের বিরুদ্ধে লাইসেন্স ফি গ্রহণ করে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। এ বিষয়ে কিছু অভিযোগ আসে আমাদের কাছে। এসব অভিযোগ তদন্তে একজন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।