আজ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১০ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৭%

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ দেওয়ার সময় বাংলাদেশসহ ৭৭ দেশের ওয়াকআউট

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:54:51 pm, Friday, 25 September 2026
  • 19

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ দেওয়ার সময় বাংলাদেশসহ ৭৭ দেশের ওয়াকআউট

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে মঞ্চে উঠতেই সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান বাংলাদেশসহ ৭৭ দেশের প্রতিনিধি। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নেতানিয়াহু মঞ্চে উঠতেই সভাকক্ষে একযোগে প্রতিবাদ ও ওয়াকআউট শুরু হয়।

অনেক প্রতিনিধি বেরিয়ে যাওয়ার পর সভাকক্ষের অধিকাংশ আসন ফাঁকা হয়ে যায়। এ সময় নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বিরুদ্ধে দুয়োধ্বনিও শোনা যায়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তিন সদস্যকে কয়েকবার সভাকক্ষে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানাতে দেখা যায়। বাংলাদেশ ছাড়াও তালিকায় ছিল ফিলিস্তিন, তুরস্ক, ইরান, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, লেবানন, ইরাক, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইয়েমেন, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগাল, ব্রাজিল, চিলি, স্পেন ও স্লোভেনিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের দেশ।

তবে ওয়াকআউট করেনি এমন দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন। নেতানিয়াহু অবশ্য ওয়াকআউটকারীদের উদ্দেশে শুরুতেই কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, ‘যদি এখনো এই সভাকক্ষে নৈতিকভাবে কাপুরুষ কেউ থেকে থাকেন, তাহলে দয়া করে এখনই বেরিয়ে যান।

’ এরপর তিনি দাবি করেন, বেরিয়ে যাওয়া দেশগুলোর অনেক নেতাই ব্যক্তিগতভাবে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। নেতানিয়াহুর ভাষণ এমন এক সময়ে হলো, যখন গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। ভাষণে তিনি গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন এবং বলেন, ‘কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত’ ইসরায়েল অভিযান চালাবে।

ওয়াকআউটের তালিকায় মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশও ছিল। ইসরায়েলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তালিকায় থাকা ৭৭টি দেশের সবাই যে প্রতিবাদ হিসেবে ওয়াকআউট করেছে, তা নয়। জর্ডান ও মিশর তাদের আসনে বসেনি, কিন্তু ওয়াকআউটেও যোগ দেয়নি। আবার পাকিস্তানের প্রতিনিধিদল প্রতিবাদ জানিয়ে বেরিয়ে গেলেও পরে ভাষণ শোনার জন্য একপাশে দাঁড়িয়েছিল।

নেতানিয়াহুর বক্তব্য চলাকালে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের কাছেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিক্ষোভকারীরা গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধের দাবিতে স্লোগান দেন। ওয়াকআউটের ঘটনায় ইসরায়েলি গণমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ঘটনাটিকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন বা নাটকীয় কূটনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে তুলে ধরেছে।

চ্যানেল ১৪ এটিকে ‘ইসরায়েলের মুখে থুতু’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ফারহান আলী ওয়াহিদের অভিষেক, একাদশে সুযোগ পেলেন আর যারা

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ দেওয়ার সময় বাংলাদেশসহ ৭৭ দেশের ওয়াকআউট

Update Time : 05:54:51 pm, Friday, 25 September 2026

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে মঞ্চে উঠতেই সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান বাংলাদেশসহ ৭৭ দেশের প্রতিনিধি। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নেতানিয়াহু মঞ্চে উঠতেই সভাকক্ষে একযোগে প্রতিবাদ ও ওয়াকআউট শুরু হয়।

অনেক প্রতিনিধি বেরিয়ে যাওয়ার পর সভাকক্ষের অধিকাংশ আসন ফাঁকা হয়ে যায়। এ সময় নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বিরুদ্ধে দুয়োধ্বনিও শোনা যায়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তিন সদস্যকে কয়েকবার সভাকক্ষে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানাতে দেখা যায়। বাংলাদেশ ছাড়াও তালিকায় ছিল ফিলিস্তিন, তুরস্ক, ইরান, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, লেবানন, ইরাক, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইয়েমেন, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগাল, ব্রাজিল, চিলি, স্পেন ও স্লোভেনিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের দেশ।

তবে ওয়াকআউট করেনি এমন দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন। নেতানিয়াহু অবশ্য ওয়াকআউটকারীদের উদ্দেশে শুরুতেই কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, ‘যদি এখনো এই সভাকক্ষে নৈতিকভাবে কাপুরুষ কেউ থেকে থাকেন, তাহলে দয়া করে এখনই বেরিয়ে যান।

’ এরপর তিনি দাবি করেন, বেরিয়ে যাওয়া দেশগুলোর অনেক নেতাই ব্যক্তিগতভাবে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। নেতানিয়াহুর ভাষণ এমন এক সময়ে হলো, যখন গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। ভাষণে তিনি গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন এবং বলেন, ‘কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত’ ইসরায়েল অভিযান চালাবে।

ওয়াকআউটের তালিকায় মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশও ছিল। ইসরায়েলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তালিকায় থাকা ৭৭টি দেশের সবাই যে প্রতিবাদ হিসেবে ওয়াকআউট করেছে, তা নয়। জর্ডান ও মিশর তাদের আসনে বসেনি, কিন্তু ওয়াকআউটেও যোগ দেয়নি। আবার পাকিস্তানের প্রতিনিধিদল প্রতিবাদ জানিয়ে বেরিয়ে গেলেও পরে ভাষণ শোনার জন্য একপাশে দাঁড়িয়েছিল।

নেতানিয়াহুর বক্তব্য চলাকালে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের কাছেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিক্ষোভকারীরা গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধের দাবিতে স্লোগান দেন। ওয়াকআউটের ঘটনায় ইসরায়েলি গণমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ঘটনাটিকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন বা নাটকীয় কূটনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে তুলে ধরেছে।

চ্যানেল ১৪ এটিকে ‘ইসরায়েলের মুখে থুতু’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।