প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সফরের দ্বিতীয় দিনে স্থানীয় সময় মঙ্গলবারে প্রধানমন্ত্রীর সূচিতে ছিল বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী ও শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একাধিক সাইডলাইন বৈঠকে অংশ নেন তিনি। আলোচনার মূল বিষয় ছিল— দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা। সব বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ ও দেশের জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া। একই সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদাকে তুলে ধরা।
পাশাপাশি জলবায়ু ও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্বনেতাদের যথোপযুক্ত ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। একই দিন সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আসা বিশ্বনেতাদের সম্মানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও ডিনারে যোগ দেন। আজ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া আরও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক প্রতিনিধির সঙ্গে মঙ্গলবার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে তারেক রহমান স্পষ্ট জানান, মিয়ানমারের নাগরিকদের মানবিক কারণে আশ্রয় দেওয়া হলেও এর স্থায়ী সমাধান জরুরি। তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পূর্ণ অধিকার ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন সুনিশ্চিত করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
ইউএনজিএতে অংশগ্রহণের প্রথম দিন, অর্থাৎ ২২ সেপ্টেম্বর, সকালে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদল প্রধান ও তাদের সঙ্গীদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত এক প্রাতরাশ সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদ মিলনায়তনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিনব্যাপী অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফ, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিল্স-এমের সঙ্গে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পাশাপাশি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন।
এ ছাড়া ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্তোনিও কস্তা, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এবং মেটা প্ল্যাটফর্মসের চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানের সঙ্গেও বৈঠক করেন তারেক রহমান। কর্মসূচি অনুসারে, ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিগুলোর মূল কেন্দ্রে ছিল মানবিক সমস্যা, জলবায়ু মোকাবিলা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আন্তর্জাতিক জনহিতকর ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক প্রাতরাশ সভায় অংশ নেন তিনি। গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি এবং রোটারি ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কয়েকটি বৈশ্বিক সংস্থার প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে অংশ নেন। পরে তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা সংকটের ওপর ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস : আ রিনিউড কল ফর আ ডিউরেবল সলিউশন ফ্রম প্রোট্র্যাক্টেড ডিসপ্লেসমেন্ট, উইথ জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিবিলিটি’ শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশ নেন।
একই দিন ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি। এ ছাড়া ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রধান আকর্ষণ আজ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে তার ভাষণ। সূচি অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাধারণ পরিষদ হলে বক্তব্য প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বিকেলের সেশনের ১৮ জন বক্তার মধ্যে তিনি ১১তম। তার বক্তব্যের জন্য ১৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। একই দিন সকালে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলার ওপর আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রারম্ভিক বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। এ ছাড়া তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এবং জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পর নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির আয়োজনে তার সম্মানে দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরের শেষ দিনে ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ত্যাগের আগে ম্যানহাটনে জেপি মরগানের সদর দপ্তরে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেপি মরগান আয়োজিত এক প্রাতরাশ সভায় অংশ নেবেন তারেক রহমান।
একই দিনে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গেও তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে। নিউইয়র্ক সময় ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় দুবাই হয়ে ইমিরেটসের ইকে২০২ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের আহ্বান : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম ছালিহ।
নিউইয়র্কে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল হোটেলে এ বৈঠক হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেন, বৈঠকে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট সমাধান, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে।
সংকটের স্থায়ী সমাধানে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে এই সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক : জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কাছে ইউনাইটেড ন্যাশনস প্লাজায় অবস্থিত তুর্কি হাউসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হক এ কথা জানান। তিনি জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আর সুদৃঢ় করে পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই দেশের শীর্ষ নেতৃদ্বয়। সহকারী প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার ঐতিহাসিক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার এবং বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা।
একই সঙ্গে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন তারা। নাজমুল হক আরও জানান, বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিশেষ করে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনেরও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। কয়েকটি শীর্ষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাইডলাইনে বৈঠক করেছেন হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমে।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হক। তিনি জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও হাইতির মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণে সহযোগিতা আরও জোরদার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে তারা মতবিনিময় করেন।
একই দিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাইডলাইন বৈঠক করেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হক জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রগুলো সম্প্রসারণের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে তারা মতবিনিময় করেন।
এদিন সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগের সঙ্গে সাইডলাইনে বৈঠক করেন তারেক রহমান। সহকারী প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হক জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করা, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণে বিদ্যমান সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারণের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন তারা। এ ছাড়া তারেক রহমানের সঙ্গে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাইডলাইন বৈঠক করেন মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ. হুসেইন মোহামেদ লতিফ। বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করা, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নৈশভোজে যোগদান : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে বিশ্বনেতাদের সম্মানে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাতে নিউইয়র্কের বিলাসবহুল লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে এ ভোজের আয়োজন করা হয়।
এর আগে সকালে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মানে প্রাতরাশের আয়োজন করেন। তাতেও অংশগ্রহণ করেন তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান। জনস্বার্থ ও দেশের মর্যাদাকে অগ্রাধিকার প্রধানমন্ত্রীর : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম দিনেই গুরুত্বপূর্ণ ১০টি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
এসব কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী জনগণের স্বার্থ ও বিশ্বমঞ্চে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থকে কীভাবে প্রাধান্য দেওয়া যায় এবং জনগণের স্বার্থকে সবার আগে রাখা যায়, বিশ্বমঞ্চে একজন নির্বাচিত সরকারপ্রধান হিসেবে বাংলাদেশের মর্যাদাকে কীভাবে আরও ওপরে নিয়ে যাওয়া যায়— সেটাই নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের কর্মসূচিগুলো ব্যক্তিগত, বহুপক্ষীয়, আঞ্চলিক, দ্বিপক্ষীয়, রোহিঙ্গা সংকট এবং উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনাসহ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত ছিল। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।



















