আজ মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৯ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৪%

ডিজিটাল ট্রল ও সামাজিক চাপে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ১৯ বছরের মরিয়ম খাতুন

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:06:07 am, Tuesday, 22 September 2026
  • 15

ডিজিটাল ট্রল ও সামাজিক চাপে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ১৯ বছরের মরিয়ম খাতুন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

জীবনযুদ্ধে হার মেনে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আত্মহত্যার মতো কঠিন পথ বেছে নিয়েছেন ১৯ বছরের মরিয়ম খাতুন। অসম বয়সের বিয়ে এবং সামাজিকভাবে আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি ডিজিটাল ট্রলেরও শিকার হতে হয়েছে তাকে।

এদিকে আলোচনায় মরিয়মের সুইসাইড নোট। পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, এই আত্মহত্যার মূল নাটের গুরু তারই আপন মামা ওবায়দুর রহমান। অর্থের লোভে নিজ ভাগ্নিকে নজরুলের সঙ্গে সম্পর্ক করিয়ে দেন তিনি। মরিয়ম সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন, এই মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হলেও পরিবার ও স্থানীয়রা এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছেন এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

এদিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলানগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে গত রোববার দুপুরে দুই স্ত্রীকে নিয়ে খাবার খান সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। খাবারের পর বিকেলে সবাই আলাদা কক্ষে চলে যান। এর কয়েক ঘণ্টা পর ছোট স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে (১৯) নিজ কক্ষের ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি।

এদিন সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রিমান্ডে গাজী নজরুল ও তার স্ত্রী, আলোচনায় সুইসাইড নোট : দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

গাজী নজরুলের চার দিনের ও মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। এর আগে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দ করা ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শেরেবাংলানগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে রোববার গভীর রাতে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম (৭৫), তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম (৬৫) এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। এজাহার দায়েরের পর পুলিশ ন্যাম ভবন থেকে সাবেক এই জামায়াত নেতা ও তার প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল সোমবার ২টা ২০ মিনিটের দিকে আসামিদের নিম্ন আদালত প্রাঙ্গণে আনে পুলিশ। পরে তাদের আদালতে তোলা হয়।

পরে এই দুই আসামির সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে পুলিশ। আবেদনটি করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে আদেশ দেন। পুলিশ ও ঘটনার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

ওই ফ্ল্যাটেই গাজী নজরুল তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই এবং ডিবির একটি যৌথ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে কক্ষের দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। উদ্ধার অভিযানের সময় পুলিশ বিছানার ওপর থেকে একটি ‘সুসাইড নোট’ উদ্ধার করে।

অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. ফজলুল করিম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে চিরকুটটি মরিয়মের লেখা বলে মনে হলেও ফরেনসিক পরীক্ষার পরই হস্তাক্ষর নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আমি বাইরে মুখ দেখাব কীভাবে, বাবাকে বলেছিলেন মরিয়ম : গতকাল সকাল থেকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল মর্গে টিনএজ মেয়ের লাশের জন্য বসে ছিলেন মাসুম বিল্লাহ দম্পতি। মেয়েকে সদ্য হারিয়ে বাবা কখনো কাঁদছেন, কখনো শান্ত ভঙ্গিতে কথা বলছেন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে।

জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের শ্বশুর মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমি তো চাই সঠিক তদন্ত, আমি যেন ন্যায় বিচারটা পাই; প্রকৃত দোষী যেন শাস্তি পায়। আপনার সঙ্গে শেষ কী কথা হয়েছিল, মেয়ে কোনো কষ্টের কথা বলেছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার সঙ্গে কথা কম হতো, তবে এমপির সঙ্গে সব সময় কথা হতো, পাশে থাকত; কথা বলতে গেলে ও কথা বলত না তো।

এ ঘটনার জন্য নিজের শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে দায়ী করে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ও (মরিয়ম) বলত যে, আমি বাইরে মুখ দেখাব কীভাবে। সে আমার মামা, আমার এত বড় ক্ষতি করবে আমি বুঝতে পারিনি। আমাকে মাফ করে দেন, আমি বাপের থেকে তাকে বেশি বিশ্বাস করতাম। বিশ্বাস করে আজকে আমি ওই পরিণতি ভোগ করতেছি। মেয়ে এইসব বলত আর আমার পা জড়ায়ে ধরে কানত। ওবায়দুলের কথা বলত।

ওরে খুব বিশ্বাস করে আজকে ওর এই পরিণতি। ওই ঘটনা না ঘটলে ওরে এমপি হোস্টেলে আইসা থাকা লাগে না, তাহলে এই ঘটনাও ঘটত না। জানতে চাইলে মুদি দোকানি মাসুম বিল্লাহ বলেন, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল তার আপন খালু। ‘হত্যার মূল নায়ক ওবায়দুর, ও-ই সব কিছু করেছে’ : মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার ঘটনায় তার মামা ও গাজী নজরুলের গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চেয়েছেন তার স্বজনরা।

তাদের অভিযোগ, মরিয়মকে ঘিরে পরিবারকে জিম্মি করে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ আদায় করে আসছিল ওবায়দুর। এসবের জেরেই মরিয়ম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমি এখন কথা বলার মানসিকতায় নেই। মামলা করেছি এমপি সাহেব, তার স্ত্রী এবং ওবায়দুরের বিরুদ্ধে। ওবায়দুর রহমানকে মরিয়মের মামা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ও সবচেয়ে ক্রিমিনাল।

সব কাজের গোড়া ও। ও-ই মূল নায়ক। ওবাইদুর সব কিছু করেছে। আমি ওবায়দুরের ফাঁসি চাই। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব কিছু ও করেছে। ও সব কিছু ঘটিয়েছে। আমাদের পুরো পরিবারটা তছনছ করে দিয়েছে ওবায়দুর। আমার পুরো পরিবার ধ্বংস করেছে। ওর ফাঁসি হোক। ওবায়দুর যেন আর কোনো ধরনের ক্ষতি করতে না পারে। মরিয়ম খাতুনের মা বলেন, আমি কঠিন বিচার চাই। ওরা আমার টাকা-পয়সাসহ অনেক কিছু নষ্ট করেছে।

আমি সব কিছু ছেড়ে দিয়েছিলাম। সব কিছু মেনে-গুছিয়ে নিয়ে নিজের মতো করে বাঁচতে চেয়েছিলাম। ওরা আমার সেই সন্তানটাও আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। এর বিচার চাই, কঠিন বিচার চাই। আমার আর কিছু বলার নেই। ‘মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনে মরিয়ম আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে’ : সংসদ সদস্যদের আবাসন ন্যাম ভবনে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী ও তার প্রথম স্ত্রীর বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে পরিবার।

মামলার এজাহারে নিহতের বাবা অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে স্বামী ও তার প্রথম স্ত্রী শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। ওই নির্যাতন এবং আসামিদের প্ররোচনার কারণেই তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহতের পরিবারের দাবি, ওই নোটে সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিশ্বাসভঙ্গ এবং মানসিক কষ্টের কথা লেখা রয়েছে। নোটটির সত্যতা যাচাই করছে তদন্তকারী সংস্থা। তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মরিয়মের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মামলার অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোট এবং অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কয়েকটি চিরকুট উদ্ধার : জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের সময় বেশ কয়েকটি চিরকুট উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ফজলুল করিম বলেন, মরিয়ম যে রুমে থাকত, সে রুম থেকে তার লেখা কিছু চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। একটি চিরকুটে লেখা আছে, শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই, তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই। আরেকটিতে লেখা, আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে।

জিতবইবা কেমনে, যুদ্ধের শেষ প্রান্তে যেয়ে দেখি তুমি তো ছিলে বিপক্ষের সেনাপতি। আমি হেরেছি তুমি জিতেছো, কারণ আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি ধ্বংসের শেষ দাঁড়িয়েও মুখে হাসি রেখেছি। ভেবে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ। আরেকটি চিরকুটে আছে দুটি লেখা। একটিতে আছে, সে ছিল অন্য নারীর স্বামী।

কাগজে কলমে অধিকার ছিল তার বউ এর!!! আর আমি ছিলাম বোকা, অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ। অপর লেখায় আছে, কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশির সম্মানের। কারণ ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়, ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ! সে নিজে নিজে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি গাজী নজরুলের : দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর টিকিটে এমপি হওয়া গাজী নজরুল ইসলাম।

গতকাল সোমবার রিমান্ড শুনানি শেষে আদালতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। ঘটনার সময় আমি বাসায় ছিলাম না। সে নিজে নিজে আত্মহত্যা করেছে। রিমান্ড শুনানির পর বিচারক এজলাস ত্যাগ করার পর উপস্থিত সাংবাদিকরা কাঠগড়ায় দাঁড়ানো নজরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বলেন, তিনি তখন বাসায় ছিলেন না।

মরিয়ম কেন আত্মহত্যা করেছেন জানতে চাইলে নজরুল বলেন, এ বিষয়ে আমি জানি না। সংসদ সচিবালয়ের চিঠি পেলে গাজী নজরুলের বিষয়ে ব্যবস্থা : গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে চিঠি পাওয়ার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে চিঠি পেলেও ওই চিঠির ভিত্তিতে ইসির নিজস্ব উদ্যোগে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

গতকাল সোমবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে বিজয়ী হলেও গাজী নজরুলের সাম্প্রতিক সময়টা বেশ বিতর্কিত ছিল। গত জুলাই মাসে সামাজিক মাধ্যমে তার একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে এক তরুণীর সঙ্গে দেখা যায়। বিতর্ক চরম রূপ নিলে গাজী নজরুল দাবি করেছিলেন যে তরুণীটি তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম।

এই ঘটনার পরপরই গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করে এবং তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি প্রদান করে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩০৫

ডিজিটাল ট্রল ও সামাজিক চাপে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ১৯ বছরের মরিয়ম খাতুন

Update Time : 12:06:07 am, Tuesday, 22 September 2026

জীবনযুদ্ধে হার মেনে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আত্মহত্যার মতো কঠিন পথ বেছে নিয়েছেন ১৯ বছরের মরিয়ম খাতুন। অসম বয়সের বিয়ে এবং সামাজিকভাবে আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি ডিজিটাল ট্রলেরও শিকার হতে হয়েছে তাকে।

এদিকে আলোচনায় মরিয়মের সুইসাইড নোট। পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, এই আত্মহত্যার মূল নাটের গুরু তারই আপন মামা ওবায়দুর রহমান। অর্থের লোভে নিজ ভাগ্নিকে নজরুলের সঙ্গে সম্পর্ক করিয়ে দেন তিনি। মরিয়ম সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন, এই মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হলেও পরিবার ও স্থানীয়রা এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছেন এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

এদিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলানগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে গত রোববার দুপুরে দুই স্ত্রীকে নিয়ে খাবার খান সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। খাবারের পর বিকেলে সবাই আলাদা কক্ষে চলে যান। এর কয়েক ঘণ্টা পর ছোট স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে (১৯) নিজ কক্ষের ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি।

এদিন সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রিমান্ডে গাজী নজরুল ও তার স্ত্রী, আলোচনায় সুইসাইড নোট : দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

গাজী নজরুলের চার দিনের ও মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। এর আগে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দ করা ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শেরেবাংলানগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে রোববার গভীর রাতে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম (৭৫), তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম (৬৫) এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। এজাহার দায়েরের পর পুলিশ ন্যাম ভবন থেকে সাবেক এই জামায়াত নেতা ও তার প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল সোমবার ২টা ২০ মিনিটের দিকে আসামিদের নিম্ন আদালত প্রাঙ্গণে আনে পুলিশ। পরে তাদের আদালতে তোলা হয়।

পরে এই দুই আসামির সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে পুলিশ। আবেদনটি করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে আদেশ দেন। পুলিশ ও ঘটনার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

ওই ফ্ল্যাটেই গাজী নজরুল তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই এবং ডিবির একটি যৌথ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে কক্ষের দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। উদ্ধার অভিযানের সময় পুলিশ বিছানার ওপর থেকে একটি ‘সুসাইড নোট’ উদ্ধার করে।

অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. ফজলুল করিম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে চিরকুটটি মরিয়মের লেখা বলে মনে হলেও ফরেনসিক পরীক্ষার পরই হস্তাক্ষর নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আমি বাইরে মুখ দেখাব কীভাবে, বাবাকে বলেছিলেন মরিয়ম : গতকাল সকাল থেকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল মর্গে টিনএজ মেয়ের লাশের জন্য বসে ছিলেন মাসুম বিল্লাহ দম্পতি। মেয়েকে সদ্য হারিয়ে বাবা কখনো কাঁদছেন, কখনো শান্ত ভঙ্গিতে কথা বলছেন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে।

জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের শ্বশুর মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমি তো চাই সঠিক তদন্ত, আমি যেন ন্যায় বিচারটা পাই; প্রকৃত দোষী যেন শাস্তি পায়। আপনার সঙ্গে শেষ কী কথা হয়েছিল, মেয়ে কোনো কষ্টের কথা বলেছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার সঙ্গে কথা কম হতো, তবে এমপির সঙ্গে সব সময় কথা হতো, পাশে থাকত; কথা বলতে গেলে ও কথা বলত না তো।

এ ঘটনার জন্য নিজের শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে দায়ী করে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ও (মরিয়ম) বলত যে, আমি বাইরে মুখ দেখাব কীভাবে। সে আমার মামা, আমার এত বড় ক্ষতি করবে আমি বুঝতে পারিনি। আমাকে মাফ করে দেন, আমি বাপের থেকে তাকে বেশি বিশ্বাস করতাম। বিশ্বাস করে আজকে আমি ওই পরিণতি ভোগ করতেছি। মেয়ে এইসব বলত আর আমার পা জড়ায়ে ধরে কানত। ওবায়দুলের কথা বলত।

ওরে খুব বিশ্বাস করে আজকে ওর এই পরিণতি। ওই ঘটনা না ঘটলে ওরে এমপি হোস্টেলে আইসা থাকা লাগে না, তাহলে এই ঘটনাও ঘটত না। জানতে চাইলে মুদি দোকানি মাসুম বিল্লাহ বলেন, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল তার আপন খালু। ‘হত্যার মূল নায়ক ওবায়দুর, ও-ই সব কিছু করেছে’ : মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার ঘটনায় তার মামা ও গাজী নজরুলের গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চেয়েছেন তার স্বজনরা।

তাদের অভিযোগ, মরিয়মকে ঘিরে পরিবারকে জিম্মি করে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ আদায় করে আসছিল ওবায়দুর। এসবের জেরেই মরিয়ম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমি এখন কথা বলার মানসিকতায় নেই। মামলা করেছি এমপি সাহেব, তার স্ত্রী এবং ওবায়দুরের বিরুদ্ধে। ওবায়দুর রহমানকে মরিয়মের মামা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ও সবচেয়ে ক্রিমিনাল।

সব কাজের গোড়া ও। ও-ই মূল নায়ক। ওবাইদুর সব কিছু করেছে। আমি ওবায়দুরের ফাঁসি চাই। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব কিছু ও করেছে। ও সব কিছু ঘটিয়েছে। আমাদের পুরো পরিবারটা তছনছ করে দিয়েছে ওবায়দুর। আমার পুরো পরিবার ধ্বংস করেছে। ওর ফাঁসি হোক। ওবায়দুর যেন আর কোনো ধরনের ক্ষতি করতে না পারে। মরিয়ম খাতুনের মা বলেন, আমি কঠিন বিচার চাই। ওরা আমার টাকা-পয়সাসহ অনেক কিছু নষ্ট করেছে।

আমি সব কিছু ছেড়ে দিয়েছিলাম। সব কিছু মেনে-গুছিয়ে নিয়ে নিজের মতো করে বাঁচতে চেয়েছিলাম। ওরা আমার সেই সন্তানটাও আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। এর বিচার চাই, কঠিন বিচার চাই। আমার আর কিছু বলার নেই। ‘মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনে মরিয়ম আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে’ : সংসদ সদস্যদের আবাসন ন্যাম ভবনে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী ও তার প্রথম স্ত্রীর বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে পরিবার।

মামলার এজাহারে নিহতের বাবা অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে স্বামী ও তার প্রথম স্ত্রী শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। ওই নির্যাতন এবং আসামিদের প্ররোচনার কারণেই তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহতের পরিবারের দাবি, ওই নোটে সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিশ্বাসভঙ্গ এবং মানসিক কষ্টের কথা লেখা রয়েছে। নোটটির সত্যতা যাচাই করছে তদন্তকারী সংস্থা। তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মরিয়মের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মামলার অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোট এবং অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কয়েকটি চিরকুট উদ্ধার : জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের সময় বেশ কয়েকটি চিরকুট উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ফজলুল করিম বলেন, মরিয়ম যে রুমে থাকত, সে রুম থেকে তার লেখা কিছু চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। একটি চিরকুটে লেখা আছে, শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই, তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই। আরেকটিতে লেখা, আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে।

জিতবইবা কেমনে, যুদ্ধের শেষ প্রান্তে যেয়ে দেখি তুমি তো ছিলে বিপক্ষের সেনাপতি। আমি হেরেছি তুমি জিতেছো, কারণ আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি ধ্বংসের শেষ দাঁড়িয়েও মুখে হাসি রেখেছি। ভেবে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ। আরেকটি চিরকুটে আছে দুটি লেখা। একটিতে আছে, সে ছিল অন্য নারীর স্বামী।

কাগজে কলমে অধিকার ছিল তার বউ এর!!! আর আমি ছিলাম বোকা, অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ। অপর লেখায় আছে, কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশির সম্মানের। কারণ ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়, ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ! সে নিজে নিজে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি গাজী নজরুলের : দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর টিকিটে এমপি হওয়া গাজী নজরুল ইসলাম।

গতকাল সোমবার রিমান্ড শুনানি শেষে আদালতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। ঘটনার সময় আমি বাসায় ছিলাম না। সে নিজে নিজে আত্মহত্যা করেছে। রিমান্ড শুনানির পর বিচারক এজলাস ত্যাগ করার পর উপস্থিত সাংবাদিকরা কাঠগড়ায় দাঁড়ানো নজরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বলেন, তিনি তখন বাসায় ছিলেন না।

মরিয়ম কেন আত্মহত্যা করেছেন জানতে চাইলে নজরুল বলেন, এ বিষয়ে আমি জানি না। সংসদ সচিবালয়ের চিঠি পেলে গাজী নজরুলের বিষয়ে ব্যবস্থা : গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে চিঠি পাওয়ার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে চিঠি পেলেও ওই চিঠির ভিত্তিতে ইসির নিজস্ব উদ্যোগে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

গতকাল সোমবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে বিজয়ী হলেও গাজী নজরুলের সাম্প্রতিক সময়টা বেশ বিতর্কিত ছিল। গত জুলাই মাসে সামাজিক মাধ্যমে তার একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে এক তরুণীর সঙ্গে দেখা যায়। বিতর্ক চরম রূপ নিলে গাজী নজরুল দাবি করেছিলেন যে তরুণীটি তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম।

এই ঘটনার পরপরই গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করে এবং তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি প্রদান করে।