সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের আমানীপুর গ্রামে আকস্মিক ঝড়ে ছয়টি বসতঘর লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে হঠাৎ ঝোড়ো বাতাস শুরু হলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘরগুলোর টিনের চাল ও বেড়া উড়ে যায়।
এ সময় বাড়ির গাছপালা ভেঙে পড়ে এবং ঘরে থাকা আসবাবপত্র, ধান-চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ছয়টি পরিবারের লোকজন দুর্ভোগে পড়েছেন। ঝড়ের সময় অধিকাংশ পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে ছিলেন। আকস্মিকভাবে টিনের চাল ও বেড়া উড়ে যেতে থাকায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ঘরে থাকা দুই পুরুষ ও এক নারী মাথায় আঘাত পান।
পরে তারা স্থানীয় চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার রাত ১২টার দিকে হঠাৎ এলাকায় ঝোড়ো বাতাস শুরু হয়। প্রথমে বাতাসের গতি তুলনামূলক কম থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা তীব্র আকার ধারণ করে। এতে আমানীপুর গ্রামের বসতঘরগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। কয়েকটি ঘরের টিনের চাল বাতাসে উড়ে যায়।
কোনো কোনো ঘরের বেড়া ও অন্যান্য অংশ ভেঙে পড়ে। পাশাপাশি বাড়ির গাছপালা উপড়ে ও ভেঙে পড়ে ঘরবাড়ির আরও ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য মানিক সরকার, আমানীপুর গ্রামের বাসিন্দা জামাল মিয়া ও মনিন্দ্র সরকার জানান, ঝড়ে তাঁদের ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘরের চাল ও বেড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ায় রাতেই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অন্যত্র যেতে হয়েছে।
ঝড়ে ঘরে থাকা আসবাবপত্রও নষ্ট হয়েছে। বছরের খাবারের জন্য সংরক্ষণ করে রাখা ধান-চালসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ঘর মেরামতের পাশাপাশি খাদ্যসংকট নিয়েও তাঁরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাঁরা আরও জানান, আকস্মিক ঝড়ে মুহূর্তের মধ্যেই বসতঘরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক পরিবার ঘরের চাল ও বেড়া হারিয়ে দুর্ভোগে পড়েছে। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ঘর মেরামতের চেষ্টা করলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষে পুরো ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জনি রায় বলেন, ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়ার পরই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী টিনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা পাওয়া গেলে তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হবে।


















