আজ বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৩ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৫%

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিলীন দেড় শতাধিক বসতবাড়ি

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:44:52 pm, Wednesday, 16 September 2026
  • 13

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিলীন দেড় শতাধিক বসতবাড়ি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের উত্তর নামাজের চর থেকে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের তীরজুড়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত এক বছরে ওই এলাকায় প্রায় ১৫০টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

একই সময়ে কয়েকশ বিঘা ফসলি জমিও নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুটি উচ্চবিদ্যালয়, দুটি কলেজ, একটি ভূমি অফিস, পুলিশ তদন্তকেন্দ্র, ইউনিয়ন পরিষদ ও একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কার্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আজ বুধবার দুপুর ১টার দিকে উত্তর নামাজের চর এলাকায় মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে ভাঙনকবলিত এলাকার সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ডা. রাশিদুল ইসলাম, আবু সাইদ মাস্টার, শফিকুল ইসলাম, সাইদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলীসহ আরও অনেকে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র স্রোত ও ভাঙনে সাহেবের আলগা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্রতিবছরই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তবে এবার উত্তর নামাজের চর থেকে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র পর্যন্ত নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বক্তারা আরও বলেন, নদীভাঙনের কারণে প্রতিবছর তাদের নতুন করে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে হয়। ভাঙনের কবলে পড়ে অনেকে জমিজমা ও বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন।

ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে এ এলাকার পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুটি উচ্চ বিদ্যালয় ও দুটি কলেজ। এ ছাড়া সাহেবের আলগা ইউনিয়ন ভূমি অফিস, পুলিশ তদন্তকেন্দ্র, ইউনিয়ন পরিষদ, ফ্রেন্ডশিপের একটি কার্যালয় এবং আরডিআরএসের একটি স্কুলও ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব স্থাপনার পাশাপাশি নদীর তীরবর্তী কয়েকশ বিঘা আবাদি জমিও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

তারা আরও বলেন, গত এক বছরে ভাঙনে প্রায় ১৫০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সময়ে কয়েকশ বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ফলে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো একদিকে বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে, অন্যদিকে আবাদি জমি হারিয়ে জীবিকা নিয়েও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভাঙন রোধে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

ভাঙন আরও তীব্র হলে বসতবাড়ির পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ও টেকসইভাবে নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

প্রতিদিন ৩০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে ৩৫ বছর ধরে পত্রিকা বিলি করছেন শাহ আলম

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিলীন দেড় শতাধিক বসতবাড়ি

Update Time : 03:44:52 pm, Wednesday, 16 September 2026

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের উত্তর নামাজের চর থেকে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের তীরজুড়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত এক বছরে ওই এলাকায় প্রায় ১৫০টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

একই সময়ে কয়েকশ বিঘা ফসলি জমিও নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুটি উচ্চবিদ্যালয়, দুটি কলেজ, একটি ভূমি অফিস, পুলিশ তদন্তকেন্দ্র, ইউনিয়ন পরিষদ ও একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কার্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আজ বুধবার দুপুর ১টার দিকে উত্তর নামাজের চর এলাকায় মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে ভাঙনকবলিত এলাকার সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ডা. রাশিদুল ইসলাম, আবু সাইদ মাস্টার, শফিকুল ইসলাম, সাইদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলীসহ আরও অনেকে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র স্রোত ও ভাঙনে সাহেবের আলগা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্রতিবছরই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তবে এবার উত্তর নামাজের চর থেকে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র পর্যন্ত নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বক্তারা আরও বলেন, নদীভাঙনের কারণে প্রতিবছর তাদের নতুন করে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে হয়। ভাঙনের কবলে পড়ে অনেকে জমিজমা ও বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন।

ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে এ এলাকার পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুটি উচ্চ বিদ্যালয় ও দুটি কলেজ। এ ছাড়া সাহেবের আলগা ইউনিয়ন ভূমি অফিস, পুলিশ তদন্তকেন্দ্র, ইউনিয়ন পরিষদ, ফ্রেন্ডশিপের একটি কার্যালয় এবং আরডিআরএসের একটি স্কুলও ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব স্থাপনার পাশাপাশি নদীর তীরবর্তী কয়েকশ বিঘা আবাদি জমিও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

তারা আরও বলেন, গত এক বছরে ভাঙনে প্রায় ১৫০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সময়ে কয়েকশ বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ফলে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো একদিকে বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে, অন্যদিকে আবাদি জমি হারিয়ে জীবিকা নিয়েও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভাঙন রোধে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

ভাঙন আরও তীব্র হলে বসতবাড়ির পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ও টেকসইভাবে নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।