আজ বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০৩ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮৮%

দেশের বাজারে ইলিশের সংকট, কেন আসছে ভারত থেকে?

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:36:41 pm, Tuesday, 15 September 2026
  • 16

দেশের বাজারে ইলিশের সংকট, কেন আসছে ভারত থেকে?

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

দু-একদিনের মধ্যে কি ইলিশের বাজারে ঢুঁ মেরেছেন? তাহলে তো খবরটা জানেনই, তবু আরেকটু মনে করিয়ে দিই; বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ইলিশ উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশে এই মাছ এখন সোনার হরিণ। বিশ্বের মোট ইলিশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ যে দেশে উৎপাদন হয়, সে দেশের বাজারের চাহিদা মেটাতে এবার ভারত থেকে আসছে ইলিশ।

ইলিশের দেশে ইলিশ কমে যাচ্ছে কেন? আর কেনই বা ভারত থেকে ইলিশ আনতে হচ্ছে? চলুন, পুরো বিষয়টি বুঝে নেওয়া যাক।

বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরে বেড়েছে। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে দেশে ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ২ লাখ ৯৫ হাজার টন। এরপর উৎপাদন বাড়তে বাড়তে ২০২২-২৩ অর্থবছরে রেকর্ড ৫ লাখ ৭১ হাজার টনের বেশি হয়। কিন্তু এরপর হঠাৎ পরিবর্তন।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন কমে দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ ২৯ হাজার টনে। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা আরও কমে হয় প্রায় ৫ লাখ টন। অর্থাৎ টানা দুই বছর উৎপাদন কমেছে।

এবারের চূড়ান্ত হিসাব এখনো হয়নি। তবে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এবার উৎপাদন গত বছরের তুলনায় আরও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম হতে পারে। এটাই প্রথম বড় সতর্কসংকেত।

গবেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে কয়েকটি কারণ সামনে আসছে। প্রথমত, অতি ছোট ফাঁসের নিষিদ্ধ জাল। হাতিয়ার মোহনা এলাকায় গবেষকেরা বিশাল এলাকাজুড়ে বেহুন্দি জালের বিস্তার দেখতে পেয়েছেন। এই ধরনের জালে শুধু বড় ইলিশ নয়, ছোট ও অপরিণত মাছও ধরা পড়ে।

অর্থাৎ মাছ বড় হওয়ার আগেই যদি ধরে ফেলা হয়, তাহলে ভবিষ্যতের বড় ইলিশের সংখ্যা কমে যাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।

দ্বিতীয় কারণ, অতিরিক্ত আহরণ। এ বছর ধরা পড়া ইলিশের মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশের পেটে ডিম পাওয়া যাচ্ছে। অথচ দু-তিন বছর আগেও এই হার ছিল প্রায় ৫০ শতাংশ। এর অর্থ হতে পারে, বড় ও প্রজননক্ষম ইলিশের সংখ্যা কমছে।

তৃতীয়ত, নদী ও সাগরের দূষণ এবং নাব্য সংকট। ইলিশের বিচরণ ও প্রজননের জন্য নদী-মোহনার পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দূষণ, ডুবোচর এবং নাব্যতার পরিবর্তন সেই পরিবেশে চাপ তৈরি করছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। সাগরে একের পর এক সতর্কসংকেতের কারণে অনেক ট্রলারও নিয়মিত মাছ ধরতে যেতে পারেনি। অর্থাৎ ইলিশ কমার পেছনে একটি নয়—একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে।

চাঁদপুরের আড়তের চিত্রটা খুব পরিষ্কার। তিন বছর আগে জুলাইয়ের পর সেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ হাজার মণ ইলিশ পাওয়া যেত। এবার সেই পরিমাণ নেমে এসেছে গড়ে মাত্র আড়াই শ মণে। সরবরাহ কমেছে, কিন্তু মানুষের ইলিশের চাহিদা তো কমেনি। ফলাফল—দাম বেড়েছে।

২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ইলিশের বার্ষিক গড় দাম প্রায় ৬৭ শতাংশ বেড়েছে। আর বড় ইলিশের দাম আরও বেশি। ২০২৫ সালের আগস্টে এক থেকে দেড় কেজির ইলিশের দাম ছিল প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা কেজি।

এখন অনেক ক্রেতা বড় মাছ বাদ দিয়ে ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রামের ইলিশ কিনছেন। কারণ চাহিদা আছে, কিন্তু বাজেট নেই।

যে বাংলাদেশ একসময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ রপ্তানি করত, সেই বাংলাদেশ এখন ভারত থেকেই ইলিশ আমদানি করছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে শুধু বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়েই ভারত থেকে এসেছে প্রায় ৩ লাখ ৫৩ হাজার কেজি ইলিশ। এর মধ্যে আগস্ট মাসেই এসেছে ৩ লাখ ২৩ হাজার কেজির বেশি। অর্থাৎ এক মাসেই বিপুল পরিমাণ ইলিশ ঢুকেছে বাংলাদেশে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। আর বাংলাদেশের বাজারে এই মাছের চাহিদাও তৈরি হয়েছে।

কারণ দেশি ইলিশের দাম যেখানে ১ কেজি ২০০ থেকে ১ কেজি ৩০০ গ্রামের মাছের জন্য প্রায় ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা, সেখানে আমদানি করা একই আকারের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়।

দামের এই বিশাল পার্থক্য ক্রেতাদের স্বাভাবিকভাবেই আমদানি করা মাছের দিকে টানছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, বাংলাদেশের যে ব্যবসায়ীরা গুজরাটের ইলিশ আমদানি করছেন, তাঁদের বড় লক্ষ্য মাছ থেকে ডিম সংগ্রহ করা। সেই ডিম প্রক্রিয়াজাত করে পাঠানো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে। ওই সব দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ইলিশের ডিমের চাহিদা রয়েছে।

প্রতিবেদন বলছে, তাহলে কি বাংলাদেশের বাজারে গুজরাটের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে না? নিশ্চয়ই কিছু মাছ স্থানীয় বাজারেও যাচ্ছে। চট্টগ্রাম এবং সিলেটে ডিমওয়ালা ইলিশের চাহিদার কথা ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বলেছেন। কিন্তু সমস্ত মাছ বাংলাদেশের মানুষের ইলিশের ঘাটতি মেটাতে আমদানি করা হয়েছে—এই প্রচারটি ঠিক নয় বলে দাবি করা হচ্ছে। অর্থাৎ দুই ধরনের ইলিশ, দুই ধরনের ক্রেতা এবং দুই ধরনের বাজারের গল্প।

একসময় বাংলাদেশের গল্প ছিল—ইলিশ উৎপাদন → দেশের চাহিদা পূরণ → উদ্বৃত্ত হলে রপ্তানি। এখন চিত্রটা ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে—উৎপাদন কমছে → দেশের বাজারে ঘাটতি → আমদানি বাড়ছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ১০ লাখ ৬২ হাজার কেজি ইলিশ আমদানি করেছে, বিপরীতে রপ্তানি করেছে প্রায় সোয়া লাখ কেজি।

আর চলতি অর্থবছরে এখনো ইলিশ রপ্তানি হয়নি, অথচ আমদানি ইতিমধ্যে হয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৯১ হাজার কেজি। অর্থাৎ একসময় যে মাছ বাংলাদেশ বিদেশে পাঠাত, এখন সেই মাছই দেশের বাজারের ঘাটতি মেটাতে বিদেশ থেকে আনতে হচ্ছে।

ইলিশের উৎপাদন কমার পেছনে যদি ছোট ফাঁসের জাল, অতিরিক্ত আহরণ, দূষণ, নাব্য সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো কারণ থাকে, তাহলে শুধু বিদেশ থেকে মাছ আমদানি করে সমস্যার সমাধান হবে না।

কারণ আমদানি বাজারের ঘাটতি সাময়িকভাবে পূরণ করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের নদী ও সাগরে ইলিশের উৎপাদন ফিরিয়ে আনতে হলে ইলিশের আবাস, প্রজননক্ষেত্র এবং চলাচলের পথ রক্ষা করতে হবে।

ইলিশ বাঁচাতে হলে শুধু মাছ নয়—ইলিশের পরিবেশও বাঁচাতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

মাগুরায় হত্যা মামলা প্রত্যাহারের চাপকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, বাকপ্রতিবন্ধী যুবক নিহত

দেশের বাজারে ইলিশের সংকট, কেন আসছে ভারত থেকে?

Update Time : 11:36:41 pm, Tuesday, 15 September 2026

দু-একদিনের মধ্যে কি ইলিশের বাজারে ঢুঁ মেরেছেন? তাহলে তো খবরটা জানেনই, তবু আরেকটু মনে করিয়ে দিই; বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ইলিশ উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশে এই মাছ এখন সোনার হরিণ। বিশ্বের মোট ইলিশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ যে দেশে উৎপাদন হয়, সে দেশের বাজারের চাহিদা মেটাতে এবার ভারত থেকে আসছে ইলিশ।

ইলিশের দেশে ইলিশ কমে যাচ্ছে কেন? আর কেনই বা ভারত থেকে ইলিশ আনতে হচ্ছে? চলুন, পুরো বিষয়টি বুঝে নেওয়া যাক।

বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরে বেড়েছে। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে দেশে ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ২ লাখ ৯৫ হাজার টন। এরপর উৎপাদন বাড়তে বাড়তে ২০২২-২৩ অর্থবছরে রেকর্ড ৫ লাখ ৭১ হাজার টনের বেশি হয়। কিন্তু এরপর হঠাৎ পরিবর্তন।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন কমে দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ ২৯ হাজার টনে। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা আরও কমে হয় প্রায় ৫ লাখ টন। অর্থাৎ টানা দুই বছর উৎপাদন কমেছে।

এবারের চূড়ান্ত হিসাব এখনো হয়নি। তবে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এবার উৎপাদন গত বছরের তুলনায় আরও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম হতে পারে। এটাই প্রথম বড় সতর্কসংকেত।

গবেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে কয়েকটি কারণ সামনে আসছে। প্রথমত, অতি ছোট ফাঁসের নিষিদ্ধ জাল। হাতিয়ার মোহনা এলাকায় গবেষকেরা বিশাল এলাকাজুড়ে বেহুন্দি জালের বিস্তার দেখতে পেয়েছেন। এই ধরনের জালে শুধু বড় ইলিশ নয়, ছোট ও অপরিণত মাছও ধরা পড়ে।

অর্থাৎ মাছ বড় হওয়ার আগেই যদি ধরে ফেলা হয়, তাহলে ভবিষ্যতের বড় ইলিশের সংখ্যা কমে যাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।

দ্বিতীয় কারণ, অতিরিক্ত আহরণ। এ বছর ধরা পড়া ইলিশের মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশের পেটে ডিম পাওয়া যাচ্ছে। অথচ দু-তিন বছর আগেও এই হার ছিল প্রায় ৫০ শতাংশ। এর অর্থ হতে পারে, বড় ও প্রজননক্ষম ইলিশের সংখ্যা কমছে।

তৃতীয়ত, নদী ও সাগরের দূষণ এবং নাব্য সংকট। ইলিশের বিচরণ ও প্রজননের জন্য নদী-মোহনার পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দূষণ, ডুবোচর এবং নাব্যতার পরিবর্তন সেই পরিবেশে চাপ তৈরি করছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। সাগরে একের পর এক সতর্কসংকেতের কারণে অনেক ট্রলারও নিয়মিত মাছ ধরতে যেতে পারেনি। অর্থাৎ ইলিশ কমার পেছনে একটি নয়—একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে।

চাঁদপুরের আড়তের চিত্রটা খুব পরিষ্কার। তিন বছর আগে জুলাইয়ের পর সেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ হাজার মণ ইলিশ পাওয়া যেত। এবার সেই পরিমাণ নেমে এসেছে গড়ে মাত্র আড়াই শ মণে। সরবরাহ কমেছে, কিন্তু মানুষের ইলিশের চাহিদা তো কমেনি। ফলাফল—দাম বেড়েছে।

২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ইলিশের বার্ষিক গড় দাম প্রায় ৬৭ শতাংশ বেড়েছে। আর বড় ইলিশের দাম আরও বেশি। ২০২৫ সালের আগস্টে এক থেকে দেড় কেজির ইলিশের দাম ছিল প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা কেজি।

এখন অনেক ক্রেতা বড় মাছ বাদ দিয়ে ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রামের ইলিশ কিনছেন। কারণ চাহিদা আছে, কিন্তু বাজেট নেই।

যে বাংলাদেশ একসময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ রপ্তানি করত, সেই বাংলাদেশ এখন ভারত থেকেই ইলিশ আমদানি করছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে শুধু বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়েই ভারত থেকে এসেছে প্রায় ৩ লাখ ৫৩ হাজার কেজি ইলিশ। এর মধ্যে আগস্ট মাসেই এসেছে ৩ লাখ ২৩ হাজার কেজির বেশি। অর্থাৎ এক মাসেই বিপুল পরিমাণ ইলিশ ঢুকেছে বাংলাদেশে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। আর বাংলাদেশের বাজারে এই মাছের চাহিদাও তৈরি হয়েছে।

কারণ দেশি ইলিশের দাম যেখানে ১ কেজি ২০০ থেকে ১ কেজি ৩০০ গ্রামের মাছের জন্য প্রায় ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা, সেখানে আমদানি করা একই আকারের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়।

দামের এই বিশাল পার্থক্য ক্রেতাদের স্বাভাবিকভাবেই আমদানি করা মাছের দিকে টানছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, বাংলাদেশের যে ব্যবসায়ীরা গুজরাটের ইলিশ আমদানি করছেন, তাঁদের বড় লক্ষ্য মাছ থেকে ডিম সংগ্রহ করা। সেই ডিম প্রক্রিয়াজাত করে পাঠানো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে। ওই সব দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ইলিশের ডিমের চাহিদা রয়েছে।

প্রতিবেদন বলছে, তাহলে কি বাংলাদেশের বাজারে গুজরাটের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে না? নিশ্চয়ই কিছু মাছ স্থানীয় বাজারেও যাচ্ছে। চট্টগ্রাম এবং সিলেটে ডিমওয়ালা ইলিশের চাহিদার কথা ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বলেছেন। কিন্তু সমস্ত মাছ বাংলাদেশের মানুষের ইলিশের ঘাটতি মেটাতে আমদানি করা হয়েছে—এই প্রচারটি ঠিক নয় বলে দাবি করা হচ্ছে। অর্থাৎ দুই ধরনের ইলিশ, দুই ধরনের ক্রেতা এবং দুই ধরনের বাজারের গল্প।

একসময় বাংলাদেশের গল্প ছিল—ইলিশ উৎপাদন → দেশের চাহিদা পূরণ → উদ্বৃত্ত হলে রপ্তানি। এখন চিত্রটা ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে—উৎপাদন কমছে → দেশের বাজারে ঘাটতি → আমদানি বাড়ছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ১০ লাখ ৬২ হাজার কেজি ইলিশ আমদানি করেছে, বিপরীতে রপ্তানি করেছে প্রায় সোয়া লাখ কেজি।

আর চলতি অর্থবছরে এখনো ইলিশ রপ্তানি হয়নি, অথচ আমদানি ইতিমধ্যে হয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৯১ হাজার কেজি। অর্থাৎ একসময় যে মাছ বাংলাদেশ বিদেশে পাঠাত, এখন সেই মাছই দেশের বাজারের ঘাটতি মেটাতে বিদেশ থেকে আনতে হচ্ছে।

ইলিশের উৎপাদন কমার পেছনে যদি ছোট ফাঁসের জাল, অতিরিক্ত আহরণ, দূষণ, নাব্য সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো কারণ থাকে, তাহলে শুধু বিদেশ থেকে মাছ আমদানি করে সমস্যার সমাধান হবে না।

কারণ আমদানি বাজারের ঘাটতি সাময়িকভাবে পূরণ করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের নদী ও সাগরে ইলিশের উৎপাদন ফিরিয়ে আনতে হলে ইলিশের আবাস, প্রজননক্ষেত্র এবং চলাচলের পথ রক্ষা করতে হবে।

ইলিশ বাঁচাতে হলে শুধু মাছ নয়—ইলিশের পরিবেশও বাঁচাতে হবে।