আজ বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০৩ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮৮%

অর্জিত গণতন্ত্র রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:54:31 pm, Tuesday, 15 September 2026
  • 10

অর্জিত গণতন্ত্র রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং তা রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, শুধু নির্বাচন আয়োজন করলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করতে হবে। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে, তবে জাতীয় স্বার্থে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গত ১৫-১৬ বছর দেশের ইতিহাসে একটি জটিল সময় গেছে। গণতন্ত্রের জন্য রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে। অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন। বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা ও রক্তের বিনিময়ে একটি ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির সুযোগ এসেছে। এখন সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠিত হয়েছে। এখন সরকারের সামনে বড় দায়িত্ব হচ্ছে ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে আবার জাগিয়ে তোলা এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা। সংসদকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারি দল ও বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা এবং বিভিন্ন বিষয়ে যে মতপার্থক্য রয়েছে, তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা।

আগামী দিনের করণীয় তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, অতীতে তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন। এখন দেশ পুনর্গঠন ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য নতুন লড়াই শুরু হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য দেশ গড়ে তুলতে হবে। তার ভাষায়, আমাদের সামনের লড়াই হচ্ছে দেশকে পুনর্গঠন করা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সত্যিকার অর্থে একটি বাসযোগ্য আবাস নির্মাণ করা।

জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দেশে সরকার ও বিরোধী দল থাকবে, বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্যও থাকবে। কিন্তু জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলোতে সবাইকে একমত হয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি বসবাস করছেন।

এই সম্প্রীতি বাংলাদেশের অন্যতম বড় সৌন্দর্য। দেশের অগ্রযাত্রায় এই ঐক্য ও সম্প্রীতি ধরে রাখতে হবে। সিলেটের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তিনি বহুবার সিলেটে এসেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে সিলেটে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। গণতন্ত্রের আন্দোলনেও সিলেটের মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

সিলেটের মানুষের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে অতিথিপরায়ণতা ও শান্তিপ্রিয়তার পাশাপাশি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার ঐতিহ্য রয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য সিলেটের মানুষ অতীতেও অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এ সময় সিলেটের কৃতী ব্যক্তি হাছন রাজা, রাধারমণ দত্ত, শাহ আবদুল করিম, হেমাঙ্গ বিশ্বাস ও সৈয়দ মুজতবা আলীসহ অন্যদের স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।

সিলেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ অঞ্চলের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা কাজ করছেন। বেশ কিছু বড় প্রকল্পও সামনে এসেছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেটের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। জনগণকে তাদের সামর্থ্য ও ঐক্য কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা যদি নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াতে না পারি, আমরা যদি নিজেদের দাবি নিজেরা আদায় করে নিতে না পারি, কেউ এসে আমাদের জন্য করে দিয়ে যাবে না।

এর আগে বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী বিমান সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে তাকে স্বাগত জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বিমানবন্দর থেকে সিলেট সার্কিট হাউসে যাওয়ার পথে রাষ্ট্রপতিকে একনজর দেখতে বিভিন্ন সড়কের পাশে অবস্থান নেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এদিকে তার সফর ঘিরে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মাজার এলাকা ও আশপাশে জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। সার্কিট হাউসে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। পরে তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। বিকেলে নাগরিক সংবর্ধনায় রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ও সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার।

নাগরিকদের পক্ষ থেকে বক্তারা সিলেটের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। সিলেটের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির স্মারক হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে শীতল পাটি, চা গাছের রেপ্লিকা ও চা পাতা উপহার দেওয়া হয়। তার স্ত্রী ফার্স্ট লেডির জন্য দেওয়া হয় মণিপুরী শাড়ি। দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে বিমানযোগে রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন রাষ্ট্রপতি।

নাগরিক সংবর্ধনা বয়কট সিলেট মহানগর বিএনপির : সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সম্মানে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট করেছে সিলেট মহানগর বিএনপি। তাদের অভিযোগ, যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি গঠন না করে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) এই সংবর্ধনার আয়োজন করেছে। একই সঙ্গে আয়োজকদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও তোলা হয়।

সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির কোনো নেতাকর্মী অংশ নেবেন না। মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি গঠন না করে সংবর্ধনার আয়োজন এবং অনুষ্ঠানের আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো সিটি করপোরেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানটি বয়কট করেছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

সঞ্চয়পত্র নিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত

অর্জিত গণতন্ত্র রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি

Update Time : 11:54:31 pm, Tuesday, 15 September 2026

দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং তা রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, শুধু নির্বাচন আয়োজন করলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করতে হবে। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে, তবে জাতীয় স্বার্থে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গত ১৫-১৬ বছর দেশের ইতিহাসে একটি জটিল সময় গেছে। গণতন্ত্রের জন্য রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে। অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন। বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা ও রক্তের বিনিময়ে একটি ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির সুযোগ এসেছে। এখন সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠিত হয়েছে। এখন সরকারের সামনে বড় দায়িত্ব হচ্ছে ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে আবার জাগিয়ে তোলা এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা। সংসদকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারি দল ও বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা এবং বিভিন্ন বিষয়ে যে মতপার্থক্য রয়েছে, তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা।

আগামী দিনের করণীয় তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, অতীতে তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন। এখন দেশ পুনর্গঠন ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য নতুন লড়াই শুরু হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য দেশ গড়ে তুলতে হবে। তার ভাষায়, আমাদের সামনের লড়াই হচ্ছে দেশকে পুনর্গঠন করা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সত্যিকার অর্থে একটি বাসযোগ্য আবাস নির্মাণ করা।

জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দেশে সরকার ও বিরোধী দল থাকবে, বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্যও থাকবে। কিন্তু জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলোতে সবাইকে একমত হয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি বসবাস করছেন।

এই সম্প্রীতি বাংলাদেশের অন্যতম বড় সৌন্দর্য। দেশের অগ্রযাত্রায় এই ঐক্য ও সম্প্রীতি ধরে রাখতে হবে। সিলেটের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তিনি বহুবার সিলেটে এসেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে সিলেটে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। গণতন্ত্রের আন্দোলনেও সিলেটের মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

সিলেটের মানুষের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে অতিথিপরায়ণতা ও শান্তিপ্রিয়তার পাশাপাশি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার ঐতিহ্য রয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য সিলেটের মানুষ অতীতেও অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এ সময় সিলেটের কৃতী ব্যক্তি হাছন রাজা, রাধারমণ দত্ত, শাহ আবদুল করিম, হেমাঙ্গ বিশ্বাস ও সৈয়দ মুজতবা আলীসহ অন্যদের স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।

সিলেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ অঞ্চলের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা কাজ করছেন। বেশ কিছু বড় প্রকল্পও সামনে এসেছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেটের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। জনগণকে তাদের সামর্থ্য ও ঐক্য কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা যদি নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াতে না পারি, আমরা যদি নিজেদের দাবি নিজেরা আদায় করে নিতে না পারি, কেউ এসে আমাদের জন্য করে দিয়ে যাবে না।

এর আগে বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী বিমান সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে তাকে স্বাগত জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বিমানবন্দর থেকে সিলেট সার্কিট হাউসে যাওয়ার পথে রাষ্ট্রপতিকে একনজর দেখতে বিভিন্ন সড়কের পাশে অবস্থান নেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এদিকে তার সফর ঘিরে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মাজার এলাকা ও আশপাশে জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। সার্কিট হাউসে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। পরে তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। বিকেলে নাগরিক সংবর্ধনায় রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ও সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার।

নাগরিকদের পক্ষ থেকে বক্তারা সিলেটের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। সিলেটের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির স্মারক হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে শীতল পাটি, চা গাছের রেপ্লিকা ও চা পাতা উপহার দেওয়া হয়। তার স্ত্রী ফার্স্ট লেডির জন্য দেওয়া হয় মণিপুরী শাড়ি। দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে বিমানযোগে রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন রাষ্ট্রপতি।

নাগরিক সংবর্ধনা বয়কট সিলেট মহানগর বিএনপির : সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সম্মানে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট করেছে সিলেট মহানগর বিএনপি। তাদের অভিযোগ, যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি গঠন না করে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) এই সংবর্ধনার আয়োজন করেছে। একই সঙ্গে আয়োজকদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও তোলা হয়।

সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির কোনো নেতাকর্মী অংশ নেবেন না। মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি গঠন না করে সংবর্ধনার আয়োজন এবং অনুষ্ঠানের আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো সিটি করপোরেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানটি বয়কট করেছে।