জাতীয় পতাকার মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। কমিটিতে একজন বিচারিক কর্মকর্তা এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন প্রতিনিধি ও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপককে রাখতে বলা হয়েছে।
এই কমিটি সরকারি দপ্তর ও আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সংস্থাগুলোতে সরকারি কর্মচারীদের ব্যবহৃত চেয়ার ও সোফার পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন, উত্তোলন বা ব্যবহার করা হচ্ছে কি না এবং তা বাংলাদেশ জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক আদেশ, ১৯৭২ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২-এ (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২) নির্ধারিত নির্দেশনা ও বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন করবেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহামুদের হাইকোর্ট বেঞ্চ লিখিত আদেশে এ কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। আদালত আদেশে বলেছেন, যেসব সরকারি কর্মচারী আইনগতভাবে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করার অধিকারী বা যোগ্য নন, তাদের অফিস কক্ষে চেয়ার বা সোফার পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন, ঝোলানো বা উত্তোলন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
একই সঙ্গে জাতীয় পতাকাকে অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার সামগ্রী, অফিসের অলংকার কিংবা ব্যক্তিগত সরকারি ব্যাকড্রপ হিসেবে ব্যবহার থেকেও বিরত থাকতে হবে। এর আগে, গত ২৫ আগস্ট সরকারি অফিস ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতে তাদের চেয়ার বা সোফার পেছনে আইন বহির্ভূতভাবে পতাকা প্রদর্শন করা থেকে বিরত রাখার জন্য নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহামুদের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী। আদালতে রিটটি দায়ের করেন আইনজীবী শরিফ সরকার। সেদিন আইনজীবী ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি বিভিন্ন অফিসে, দপ্তরে কর্মকর্তারা তাদের টেবিলের পেছনে বা চেয়ারের পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করছে এবং তারা জাতীয় পতাকা রেখে চেয়ারের সামনে আরোহণ করছে।
জাতীয় পতাকা চেয়ার বা টেবিলের পাশে প্রদর্শন করা এটি আইনবহির্ভূত। তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা বিধিমালাতে ১৯৭২-এ ১৫ ধরনের ব্যক্তিবর্গ তাদের জাতীয় পতাকা ব্যবহার করতে পারবে— তাদের দপ্তরে, বাসস্থানে এবং তাদের গাড়িতে। কিন্তু দেখা যায় যে, সরকারের যে বিভিন্ন অধীনস্থ অফিস রয়েছে— বিশেষ করে সচিবালয়ের অধীনস্থ অফিস, করপোরেশন, অথরিটি, এই সব অথরিটিতে যারা কর্মকর্তা রয়েছেন, তারা সাম্প্রতিক সময়ে তাদের চেয়ারের পেছনে একটি পতাকা প্রদর্শন করছেন।
সর্বদাই পতাকা প্রদর্শন করেন। এই প্রদর্শনের সুযোগটা আইনে রাখা হয়নি। এবং পতাকা বিধিমালায় বলা আছে যে, জাতীয় পতাকা যখন কোনো ভবনে প্রদর্শন করা হবে, এটা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রদর্শন করতে হবে। এবং জাতীয় পতাকা ফ্রি-ফ্লোটিং হতে হবে। মানে, আপনাকে এটা যখন আপনি উত্তোলন করবেন, এটা উড়ন্ত অবস্থায় থাকতে হবে। কিন্তু পতাকার যে প্রদর্শন করা হচ্ছে, আপনারা দেখবেন এটি একটু বেন্ড করে, কার্ভ করে, জাস্ট পতাকাটা পেছনে রেখে উনি সামনে আরোহণ করছেন।



















