চট্টগ্রাম বন্দর প্রথমবার ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক কন্টেনের তালিকায় ৯৮তম এবং ২০২৫ সালে ৬৮তম অবস্থানে আসে। দেশি অপারেটরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে অবস্থান নেওয়া লাভজনক সেই বন্দরকে আওয়ামী সরকারের শাপমুক্তি হিসেবে বিদেশিদের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান বন্দর চেয়ারম্যান। ২০৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের শর্তে আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি এখনো চলমান।
এর প্রতিবাদে চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে শ্রমিক আন্দোলনে ছয়দিন অচল ছিল চট্টগ্রাম বন্দর। এতে সরকার প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারায়। এর মধ্যে আনুমানিক ৩ হাজার কোটি টাকা (২৫ কোটি ডলার) সরাসরি বাণিজ্যিক ক্ষতি এবং ১৫ হাজার কোটি টাকা (১২৫ কোটি ডলার) সরকারি রাজস্ব ঘাটতি। পরবর্তীকালে অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপে সে আন্দোলন গতি হারায়।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ‘কর্তৃপক্ষের অদক্ষতার কারণে বন্দরে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয় এবং লিজের নামে বন্দরে তৃতীয়পক্ষের প্রবেশ ও সুযোগ দেওয়াকে সমর্থন করবেন না। শেখ হাসিনার অসমাপ্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একটা ভয়াবহ বিপদের মধ্যে বাংলাদেশকে ঠেলে দিয়েছে অর্ন্তবর্তী সরকার। বন্দর সূত্র জানায়, ফ্যাসিস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের সাবেক স্বামী খন্দকার মাশরুর হোসেনের বিরুদ্ধে দুই হাজার কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ ওঠে দুবাইয়ে।
আরব আমিরাতের গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি তদন্তও শুরু করে। মেয়ে-জামাইয়ের মানিলন্ডারিংয়ের তদন্তে হাসিনার নাম চলে আসার শঙ্কা থেকেই সে দেশের সরকারকে ম্যানেজ করতে উঠেপড়ে লাগে আওয়ামী লীগ সরকার। চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনালে নতুন করে বিনিয়োগের কোনো স্থান বা পরিবেশ তৈরি হয়নি।
তবুও ২০৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের চুক্তিতে বন্দর হস্তান্তর সম্পর্কে চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহমুদুল হক শাহ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘অবশ্যই সরকারকে সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে হবে— এটি কি নতুন যন্ত্রাপতি স্থাপনে ব্যয় হবে, নাকি কোনো অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হবে? যাই হোক, আমরা চাই স্বচ্ছতা। ’ একই বিষয়ে চট্টগ্রাম চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘সরকার স্পষ্ট না করলে স্বাভাবিকভাবেই জনগণের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেবে।
বিষয়টি অবশ্যই সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে। রহস্যজনকভাবে কোনো কাজ করলে জনগণের মনে হবে— ঘোলা পানিতে আগের মতো মাছ শিকার চলছে। ’ গত ১৬ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বর্তমান চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল ড. খন্দকার আক্তার হোসেন। তকে গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যান রদবদল হচ্ছে না বলে বন্দরের বিশেষ একটি সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে ডিপি ওয়ার্ল্ডের ২০৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কোনো স্থান নেই বলে মনে করেন বন্দর বিশেষজ্ঞরা। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা ও প্রশাসন) জাফর আলম বলেন, ‘বন্দর পরিচালনার আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন সব যন্ত্রপাতি রয়েছে। সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে আগামী ২০ বছরে কোনো যন্ত্রাংশ কিনতে হবে না।
’ তিনি আরও বলেন, ‘শুধু সফটওয়্যার ও আইটি ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং দক্ষ জনবল নিয়োগ দেওয়া ছাড়া এখানে নতুন কোনো বিনিয়োগের জায়গা নেই। ’ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে টানা ছয় দিন চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পোর্ট অচল হওয়ায় বিপুল পরিমাণ ক্ষতির দায় সম্পর্কে জানতে চাইলে চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহমুদুল হক শাহ বলেন, ‘প্রথমত আন্দোলনকারীরা এবং দ্বিতীয়ত বন্দর পরিচালনায় যারা ছিলেন এবং সরকার— তাদের সবাইকে এই অচলের দায় নিতে হবে।
’ ওই সময়ের ক্ষতিপূরণ দেয়নি বন্দর কর্তৃপক্ষ। এমনকি ‘যথাসময়ে শিপমেন্ট কিংবা পণ্য ডেলিভারি করতে না পারায় উল্টো ড্যামারেজ দিতে হয়েছে। এক টাকাও ছাড় দেয়নি বন্দর’— বলেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বন্দর কর্তৃপক্ষের অদক্ষতার কারণে এমনটি হয়েছে।
এটি আন্দোলনের বিষয় নয়; আলোচনা করে সমাধানের পথ বের করা যেত। যারা বন্দর বন্ধ করেছে এবং যারা বন্দরের দায়িত্বে ছিল, উভয়েই অপরাধী। ’ ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে এনসিটির কর্তৃত্ব তুলে দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহমুদুল হক শাহ বলেন, ‘বন্দর কীভাবে চলবে, তা শুধু বন্দর কর্তৃপক্ষই নির্ধারণ করবে। এতে বন্দর বা দেশের কোন খাতে লাভ হবে, সেটা স্পষ্ট করতে হবে সরকারকে।
তবে এটি আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে স্বচ্ছতা রেখে করাই বাঞ্ছনীয়। ’ চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আমজাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সরকার যাকেই এনসিটি দিক, একটি বিষয় পরিষ্কার করতে হবে— আমরা কোন খাতে এবং কীভাবে লাভবান হচ্ছি। আমি চাই, বন্দরের ভালো ব্যবস্থাপনা। তবে তার মানে এই নয়, তৃতীয়পক্ষকে এখানে সুযোগ করে দেওয়া।
’ অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনার মেয়ের সাবেক স্বামীর মানিলন্ডারিং মামলা থেকে সুবিধাভোগে সহযোগিতা করছেন বন্দর চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান। তিনি এনসিটিকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে দেওয়ার ক্ষেত্র সৃষ্টি করছে কি না জানতে চাইলে মাহমুদুল হক শাহ বলেন, ‘এই বিষয়টি আমি গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি। বিশদভাবে জানি না, তাই মন্তব্য করতে পারছি না।
’ নেপথ্যে হাজার কোটি টাকার কমিশন ও হাসিনা পরিবারের রাজনীতি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ২০২৫ সালে ৬৮তম অবস্থান নেওয়া লাভজনক ‘নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল’ (এনসিটি) নিয়ে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন বিতর্ক। আওয়ামী সরকারের পর অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশি লজিস্টিকস কোম্পানি ‘ডিপি ওয়ার্ল্ডে’র কাছে এই টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়।
সে প্রক্রিয়াকে ঘিরে গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ছয় দিন স্থবির ছিল দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। চরম এই সংকটে দেশের প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। এর মধ্যে ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারায় সরকার। অন্যদিকে উন্মোচিত হয়েছে বন্দর পরিচালনার আড়ালে থাকা এক ভয়ংকর সিন্ডিকেট, বিদেশি লবিং এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র।
শেখ হাসিনার পারিবারিক বলয়ের রাজনীতির ছায়া এনসিটি টার্মিনালকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়ার মূলে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পারিবারিক বলয়ের রাজনীতির ছায়া। বিশেষ করে, ২০২৩ সালের ১২ জুন পিপিপি প্ল্যাটফর্মের বৈঠকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ও নৌপরিবহন সচিব মোস্তফা কামালের উপস্থিতিতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে এনসিটি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করেন শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং তা এগিয়ে নেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তৎকালীন মুখ্য সচিব এম তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, পিপিপি অফিসের সিইও ড. মো. মুশফিকুর রহমান মিয়া এবং আরব আমিরাতের তখনকার রাষ্ট্রদূত আবু জাফর। বন্দর সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ডিপি ওয়ার্ল্ডের স্বার্থ হাসিলে তারা রীতিমতো ‘পেইড লবিস্ট’ হিসেবে কাজ করেন।
এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য— শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যদের মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতির তদন্ত থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেওয়া এবং বিদেশে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করা। বন্দরে এখনো সক্রিয় আওয়ামীপন্থি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা খোকন সেরনিয়াবাতের প্রতিষ্ঠান ‘এম এস ইউনিয়ন এন্টারপ্রাইজ’ এখনো বন্দরে সক্রিয় রয়েছে।
তার ভগ্নিপতি মোস্তাক মিঠু ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ইউনিয়ন এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে সরকারি আমদানিকৃত গম ও চাল খালাসের কাজ একচেটিয়াভাবে পরিচালিত হচ্ছে। আর্থিক ক্ষতির বাস্তব চিত্র ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার শর্ত হিসেবে বলা হচ্ছে, এতে ২০৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আসবে। বন্দর কর্তৃপক্ষের একাংশ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগের কোনো স্পষ্ট খাত বা রূপরেখা নেই।
বরং চুক্তির শর্তগুলো দেশের স্বার্থের পরিপন্থি। আরএফপি শর্ত ভঙ্গ করে ডিপি ওয়ার্ল্ড ১৫ বছরের স্থলে ৩০ বছরের ইজারা দাবি করেছে। আর্থিক মডেল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর প্রতি টিইইউ (টিইইউএস) থেকে যে মুনাফা পায়, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তিতে তা নামমাত্র পর্যায়ে নেমে আসবে। বন্দরের নিজস্ব হিসাবে ১৫ বছরে আয় হওয়ার কথা প্রায় ১৪৫.৭৪ মিলিয়ন ডলার।
অথচ ডিপি ওয়ার্ল্ডের শর্ত অনুযায়ী এই আয় ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে। আন্তর্জাতিকভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান বিশ্বখ্যাত শিপিং ম্যাগাজিন ‘লয়েডস লিস্টে’র সর্বশেষ বৈশ্বিক তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দর ৬৮তম স্থানে রয়েছে। শুধু দেশি অপারেটরের মাধ্যমে ২০২৬ সালের আগস্টের শেষে প্রকাশিত তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দর তার আগের বছরের (২০২৫) অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক কন্টেনের তালিকায় ৯৮তম স্থানে ছিল। বন্দরের দক্ষতা বনাম অপপ্রচার চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতার সূচক গত ১০ বছরে ঈর্ষণীয়ভাবে উন্নত হয়েছে। ২০১৪ সালে যেখানে জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে ৮.৭ দিন লাগত, ২০১৯ সালে তা ১.১ দিনে নেমে আসে। বর্তমানে এনসিটি পরিচালনা করছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান ‘চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড’ (সিডিডিএল), যা রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব ও মুনাফা অর্জন করছে।
ডিপি ওয়ার্ল্ডকে কাজ না দিলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ২৬ লাখ বাংলাদেশির কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে এবং দেশটি ভিসা বন্ধ করে দিতে পারে বলে দাবি অনেকের। তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, ইউএই-তে বর্তমানে প্রবাসীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ১১ থেকে ১২ লাখ। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভিসা জটিলতা মূলত আঞ্চলিক যুদ্ধ ও বিশ্ব অর্থনীতির মন্দার ফলে।
এর সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো বাণিজ্যিক চুক্তির সম্পর্ক নেই। একে বিশেষজ্ঞরা ‘দুর্বল প্রশাসনিক যুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই ভুল যুক্তির আড়ালে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্যের একটি শক্তিশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। বন্দর পরিচালনা একটি বাণিজ্যিক ও কৌশলগত বিষয়, যাকে রেমিট্যান্সের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলাকে ‘দুর্বল প্রশাসনিক যুক্তি’ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন ভূমিকা দেশের স্বার্থ রক্ষা করছে না। বরং ডিপি ওয়ার্ল্ডের একজন ‘পেইড লবিস্ট’ হিসেবে কাজ করছেন বলে মনে করেন তারা। মুনাফার হার রেভিনিউ ট্রেন্ড বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রতি টিইইউতে গ্রস আয় ছিল ১৬১ দশমিক ৮২ ডলার। এর মধ্যে ৩৫ শতাংশ আয়ই আসে কনটেইনার বন্দরে পড়ে থাকার (স্টোর রেন্ট) মাশুল থেকে, যার পরিমাণ প্রতি টিইইউতে ৪০ ডলার পর্যন্তও হয়।
কনসেশন চুক্তি অনুযায়ী বাড়তি আয় ডিপি ওয়ার্ল্ড পাবে; যার অতি সামান্য মুনাফা পাবে বন্দর। বন্দর লিজ সম্পর্কে অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলে যে কোম্পানিকে টেন্ডার ছাড়া বন্দর দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তড়িঘড়ি করে সেই কোম্পানির কাছে কেন আবার দিতে চাওয়া? এর পেছনে কী ব্যাখ্যা, কী যুক্তি?



















