আজ সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৮ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৫১%

সীতাকুণ্ডে জাল দলিল তৈরির অভিযোগে ৪ জন গ্রেপ্তার, পুলিশের সামনেই বাদীকে হত্যার হুমকি

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:09:16 pm, Thursday, 3 September 2026
  • 32

সীতাকুণ্ডে জাল দলিল তৈরির অভিযোগে ৪ জন গ্রেপ্তার, পুলিশের সামনেই বাদীকে হত্যার হুমকি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাল বণ্টননামা দলিল তৈরি করে বসতবাড়ি ও জমি দখলের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই মামলার বাদীকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি এবং জামিনে বেরিয়ে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার রাতে সীতাকুণ্ড থানার একটি দল উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের উত্তর ঘোড়ামরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আদালতের পরোয়ানামূলে তাদের গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম। তিনি জানান, জাল দলিল সৃজনের মামলায় আদালতের ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হবে।

মামলার নথি ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলা সিআইডি মামলাটির তদন্ত করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বাদীর বাবা মৃত আবদুল হকের টিপসই ও স্বাক্ষর জাল করে একটি বণ্টননামা দলিল তৈরি করেন এবং ওই দলিলের মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রি করিয়ে নেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সোনাইছড়ি ইউনিয়নের উত্তর ঘোড়ামরা এলাকার আহম্মদ মিঞার ছেলে মো. ওমর ফারুক, আবদুল কাদেরের ছেলে আবু তাহের লিটন, আবদুল নবির ছেলে মাসুদ পারভেজ শাহেদ ও মো. নাঈম উদ্দিন।

অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা ২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সীতাকুণ্ড সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৭৯৪৮ নম্বরের একটি বণ্টননামা দলিল তৈরি করেন। ওই দলিলে জমির মালিক মৃত আবদুল হককে চতুর্থ পক্ষ হিসেবে দেখানো হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, আবদুল হক ওই দলিল সম্পাদনের সময় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত ছিলেন না এবং দলিলে কোনো স্বাক্ষর বা টিপসই দেননি। তার পাসপোর্টে থাকা স্বাক্ষরের সঙ্গে দলিলে থাকা স্বাক্ষরেরও ব্যাপক অমিল রয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি দলিলটি দীর্ঘদিন গোপন রাখা হয়। ২০২৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আবদুল হক মারা যাওয়ার পর ওই দলিল প্রকাশ্যে এনে তার সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হয়। সিআইডির তদন্তে আরও উঠে এসেছে, দলিলের তৃতীয় সাক্ষী মো. সাইফুলকে ওয়ারিশি আপস-বণ্টনের কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে দ্বিতীয় সাক্ষী মাসুদ পারভেজ শাহেদের ক্ষেত্রে দলিলে আংশিক নাম ‘মো. শাহেদ’ ব্যবহার করে পরিচয় গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে সীতাকুণ্ড ভূমি অফিসের একটি বিবিধ মামলায় দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দেওয়া জবাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) উল্লেখ করেছেন, সংশ্লিষ্ট বণ্টননামা দলিলে আবদুল হকের কোনো স্বাক্ষর বা সম্মতি ছিল না। মামলার বাদী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, চার আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ও তারা পুলিশের সামনেই তাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেন।

পাশাপাশি জামিনে বের হয়ে তার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের নাশকতার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

সীতাকুণ্ডে জাল দলিল তৈরির অভিযোগে ৪ জন গ্রেপ্তার, পুলিশের সামনেই বাদীকে হত্যার হুমকি

Update Time : 07:09:16 pm, Thursday, 3 September 2026

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাল বণ্টননামা দলিল তৈরি করে বসতবাড়ি ও জমি দখলের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই মামলার বাদীকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি এবং জামিনে বেরিয়ে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার রাতে সীতাকুণ্ড থানার একটি দল উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের উত্তর ঘোড়ামরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আদালতের পরোয়ানামূলে তাদের গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম। তিনি জানান, জাল দলিল সৃজনের মামলায় আদালতের ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হবে।

মামলার নথি ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলা সিআইডি মামলাটির তদন্ত করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বাদীর বাবা মৃত আবদুল হকের টিপসই ও স্বাক্ষর জাল করে একটি বণ্টননামা দলিল তৈরি করেন এবং ওই দলিলের মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রি করিয়ে নেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সোনাইছড়ি ইউনিয়নের উত্তর ঘোড়ামরা এলাকার আহম্মদ মিঞার ছেলে মো. ওমর ফারুক, আবদুল কাদেরের ছেলে আবু তাহের লিটন, আবদুল নবির ছেলে মাসুদ পারভেজ শাহেদ ও মো. নাঈম উদ্দিন।

অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা ২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সীতাকুণ্ড সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৭৯৪৮ নম্বরের একটি বণ্টননামা দলিল তৈরি করেন। ওই দলিলে জমির মালিক মৃত আবদুল হককে চতুর্থ পক্ষ হিসেবে দেখানো হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, আবদুল হক ওই দলিল সম্পাদনের সময় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত ছিলেন না এবং দলিলে কোনো স্বাক্ষর বা টিপসই দেননি। তার পাসপোর্টে থাকা স্বাক্ষরের সঙ্গে দলিলে থাকা স্বাক্ষরেরও ব্যাপক অমিল রয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি দলিলটি দীর্ঘদিন গোপন রাখা হয়। ২০২৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আবদুল হক মারা যাওয়ার পর ওই দলিল প্রকাশ্যে এনে তার সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হয়। সিআইডির তদন্তে আরও উঠে এসেছে, দলিলের তৃতীয় সাক্ষী মো. সাইফুলকে ওয়ারিশি আপস-বণ্টনের কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে দ্বিতীয় সাক্ষী মাসুদ পারভেজ শাহেদের ক্ষেত্রে দলিলে আংশিক নাম ‘মো. শাহেদ’ ব্যবহার করে পরিচয় গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে সীতাকুণ্ড ভূমি অফিসের একটি বিবিধ মামলায় দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দেওয়া জবাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) উল্লেখ করেছেন, সংশ্লিষ্ট বণ্টননামা দলিলে আবদুল হকের কোনো স্বাক্ষর বা সম্মতি ছিল না। মামলার বাদী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, চার আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ও তারা পুলিশের সামনেই তাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেন।

পাশাপাশি জামিনে বের হয়ে তার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন।