নারায়ণগঞ্জের বন্দরে লোকালয়ে কুমির আতঙ্কে ভুগছে লোকজন। সন্ধ্যা নামলেই এই আতঙ্কে তিনদিন ধরে লোকজনের চলাফেরা কমে গেছে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের তিনগাঁও এলাকায়। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিনভর চেষ্টা চালিয়েও কুমিরটিকে ধরা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিরটি মহাবিপন্ন মিঠা পানির বলে জানিয়েছেন উপজেলা বন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত থেকেই তিনগাঁও এলাকার লোকজন কুমিরটি দেখতে পায়। পরে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বন বিভাগ, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে এর উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, প্রথমে একটি পুকুরে কুমিরটি দেখা যায়। পরে সেটি পাশের আরেকটি পুকুরে চলে যায়।
রোববার রাতেও কুমিরটিকে এলাকার রাস্তা ও আশপাশের এলাকায় ঘুরতে দেখা যায় বলে স্থানীয়রা জানান। পরে এটি আবার একটি পুকুরে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে কচুরিপানায় ভরা ওই পুকুরেই কুমিরটির অবস্থান বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা নিখিল বিশ্বাস জানান, কুমির দেখতে অনেক উৎসুক লোকজন এই এলাকায় ভীড় জমাচ্ছে। আবার অনেকেই আতঙ্কে আছে। সরকারি লোকজন কুমিরটি ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে কুমিরের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর স্থানীয়দের চলাচল কমে গেছে। এছাড়া কুমির দেখতে উৎসুক মানুষও বিভিন্ন স্থান থেকে সেখানে ভিড় করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকার বলেন, তিনগাঁও এলাকায় লোকালয়ে কুমির দেখা যাওয়ার খবর পেয়ে বন্দর থানার পুলিশ ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি দল ঘটনাস্থলে যায়।
পরে বিষয়টি ঢাকার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে জানানো হয়। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একটি দলও সেখানে গিয়ে কুমির উদ্ধারের চেষ্টা করে। বন্দর উপজেলা বন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা কুমিরটি ধরার চেষ্টা করেছেন। পরে ঢাকার বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলও পুকুরে জাল ফেলে উদ্ধারের চেষ্টা করে।
তবে কুমিরটি ধরা সম্ভব হয়নি। এটি মহাবিপন্ন মিঠা পানির কুমির, যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। এ নিয়ে এলাবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।


















