আজ বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
বৃষ্টি
২৬°C
সর্বোচ্চ: ২৮°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় বেতন স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:08:25 am, Wednesday, 2 September 2026
  • 12
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল গত সোমবার মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে। নতুন স্কেলে প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন বাড়ছে ১০০ শতাংশ এবং ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের বাড়ছে ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত।

তবে বর্ধিত এই বেতন একসঙ্গে হাতে পাওয়া যাবে না; বাস্তবায়ন হবে চার পর্যায়ে, ধাপে ধাপে। এদিকে, পে-স্কেল কার্যকরের আগে সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান টিআইবির। গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ আহ্বান জানান। প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে।

নতুন পে-স্কেলে ২০তম গ্রেডের সর্বনি¤œ মূল বেতন দাঁড়াবে ২০ হাজার টাকা, যা আগে ছিল ৮ হাজার ২৫০ টাকা। অন্যদিকে, প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। গত জুলাই থেকে নতুন স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা বলা হলেও, বর্ধিত বেতনের সুবিধাগুলো নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী। নতুন পে-স্কেলের ফলে ২৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন।

এটি বাস্তবায়নে সরকারি কোষাগার থেকে বছরে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় হবে। ধরা যাক, ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী নবম গ্রেডে চাকরিতে যোগ দেওয়া একজন কর্মকর্তার প্রারম্ভিক মূল বেতন ২২ হাজার টাকা। নতুন পে-স্কেলে (১০০% বৃদ্ধিতে) তার প্রারম্ভিক মূল বেতন হবে ৪৪ হাজার টাকা। যেহেতু তিনি প্রথম থেকে নবম গ্রেডের আওতাভুক্ত, তাই তার বর্ধিত ২২ হাজার টাকা বেতন চার ধাপে যুক্ত হবে।

সে অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই প্রথম ধাপে বর্ধিত ২২ হাজার টাকার ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ৮ হাজার ৮০০ টাকা তার বর্তমান বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩০ শতাংশ বা ৬ হাজার ৬০০ টাকা এবং জুলাইয়ে তৃতীয় ধাপে বাকি ৩০ শতাংশ বা আরও ৬ হাজার ৬০০ টাকা যুক্ত হয়ে তার মূল বেতন ৪৪ হাজার টাকায় পৌঁছাবে। এরপর ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি এই ৪৪ হাজার টাকার ওপর ভিত্তি করেই বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা পাবেন।

উদাহরণটি কেবল প্রারম্ভিক মূল বেতনের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে একজন চাকরিজীবীর বেতন এর চেয়ে কিছুটা বেশি হবে। কারণ, সরকারি নিয়মে প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়। এদিকে, সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুক প্রকাশ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এতে ‘নবম পে-স্কেল : সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শীর্ষ উপশিরোনামে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

গত সোমবার প্রকাশিত বইয়ে বলা হয়েছে, প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। দুই ধাপে এটি বাস্তবায়িত হবে। এর মধ্যে প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর হতে পারে। সচিব কমিটির সব সদস্য চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সই করেছেন। এতে আরও বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি এবং পেনশন গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো এ বছরের ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের (২০২৭) মধ্যে মূল বেতন মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভাতা একযোগে কার্যকর হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রমতে স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য প্রথম ধাপে এ বছরের জুলাই থেকে প্রথম ছয় মাসে ৫০ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন বাড়বে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৫ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের জুলাই থেকে তৃতীয় ধাপে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হবে। এর মানে হলোÑ প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ বেতন বাড়ার পর দ্বিতীয় ধাপে গিয়ে নতুন করে ২৫ শতাংশসহ মোট ৭৫ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন পাবেন এই গ্রেডের চাকরিজীবীরা।

আর শেষ ধাপে আরও ২৫ শতাংশ যোগ হলে তখন বর্ধিত মূল বেতনের শতভাগ পাবেন তারা। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৮ সাল থেকে বেতন ও ভাতা একযোগে পাবেন। অন্যদিকে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের চাকরিজীবীরাদের জন্য প্রথম ধাপে গত ১ জুলাই থেকে ৪০ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন বাড়বে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি আরও ৩০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হবে।

সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান টিআইবির : সরকারি কর্মজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুমোদনকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তবে নতুন বেতন ও ভাতার সুবিধা কার্যকর করার আগে সরকারি কর্মজীবী এবং তাদের পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও সম্পদবিবরণী প্রতিবছর হালনাগাদ করে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

গতকাল এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ আহ্বান জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, আর্থিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকারি কর্মজীবীদের নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাগত দক্ষতা ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রত্যাশা করা কঠিন।

তবে জনগণের করের টাকায় বেতন-ভাতা বাড়ানোর কাক্সিক্ষত সুফল পেতে হলে সরকারি কর্মজীবীদের আয় ও সম্পদের হিসাব প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, যারা প্রতিবছর নিজেদের আয়-ব্যয় ও সম্পদবিবরণী হালনাগাদ করে প্রকাশ করবেন, কেবল তাদের জন্যই নতুন বেতন-ভাতা বৃদ্ধি প্রযোজ্য হওয়া উচিত। যারা তা করবেন না, তাদের জন্য নতুন পে-স্কেল প্রযোজ্য না করার কথাও বলেছে টিআইবি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অনেক সরকারি কর্মজীবী অনিয়ম ও দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালন করেন এবং সৎভাবে জীবন যাপন করেন। তাদের জন্য নতুন বেতন স্কেল ন্যায়সঙ্গত ও প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ-সম্পদ অর্জনে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য বেতন-ভাতা বাড়ানো যথেষ্ট নয়; কার্যকর জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, কার্যকর জবাবদিহির ব্যবস্থা না করে ঢালাওভাবে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে সরকারি খাতে দুর্নীতি আরও বাড়তে পারে। সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা সরকারি খাতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিকভাবে পরীক্ষিত একটি পদ্ধতি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি কর্মজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বাড়বে এবং দক্ষ ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে উঠবেÑ সরকারের এমন প্রত্যাশা রয়েছে।

তবে ২০১৫ সালে বাস্তবায়িত অষ্টম পে-স্কেলের সময়ও একই ধরনের প্রত্যাশা ছিল। পরে সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপকতা বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এবার এর ব্যতিক্রম হবে বলে আশা প্রকাশ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারি খাতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা জরুরি। জনগণের করের অর্থেই সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতাসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যয় নির্বাহ করা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ফলে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে এমনিতেই স্বল্প আয়ের মানুষসহ সাধারণ জনগণ চাপে রয়েছেন। নতুন বেতনকাঠামোর কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়লে তাদের দুর্ভোগও বাড়তে পারে। তাই নতুন বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের পাশাপাশি সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা কার্যকর করা এবং মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় সরকারকে দূরদর্শী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

আজ থেকে শুরু একাদশে ভর্তির অনলাইন আবেদন, চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় বেতন স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত

Update Time : 08:08:25 am, Wednesday, 2 September 2026

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল গত সোমবার মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে। নতুন স্কেলে প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন বাড়ছে ১০০ শতাংশ এবং ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের বাড়ছে ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত।

তবে বর্ধিত এই বেতন একসঙ্গে হাতে পাওয়া যাবে না; বাস্তবায়ন হবে চার পর্যায়ে, ধাপে ধাপে। এদিকে, পে-স্কেল কার্যকরের আগে সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান টিআইবির। গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ আহ্বান জানান। প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে।

নতুন পে-স্কেলে ২০তম গ্রেডের সর্বনি¤œ মূল বেতন দাঁড়াবে ২০ হাজার টাকা, যা আগে ছিল ৮ হাজার ২৫০ টাকা। অন্যদিকে, প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। গত জুলাই থেকে নতুন স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা বলা হলেও, বর্ধিত বেতনের সুবিধাগুলো নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী। নতুন পে-স্কেলের ফলে ২৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন।

এটি বাস্তবায়নে সরকারি কোষাগার থেকে বছরে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় হবে। ধরা যাক, ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী নবম গ্রেডে চাকরিতে যোগ দেওয়া একজন কর্মকর্তার প্রারম্ভিক মূল বেতন ২২ হাজার টাকা। নতুন পে-স্কেলে (১০০% বৃদ্ধিতে) তার প্রারম্ভিক মূল বেতন হবে ৪৪ হাজার টাকা। যেহেতু তিনি প্রথম থেকে নবম গ্রেডের আওতাভুক্ত, তাই তার বর্ধিত ২২ হাজার টাকা বেতন চার ধাপে যুক্ত হবে।

সে অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই প্রথম ধাপে বর্ধিত ২২ হাজার টাকার ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ৮ হাজার ৮০০ টাকা তার বর্তমান বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩০ শতাংশ বা ৬ হাজার ৬০০ টাকা এবং জুলাইয়ে তৃতীয় ধাপে বাকি ৩০ শতাংশ বা আরও ৬ হাজার ৬০০ টাকা যুক্ত হয়ে তার মূল বেতন ৪৪ হাজার টাকায় পৌঁছাবে। এরপর ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি এই ৪৪ হাজার টাকার ওপর ভিত্তি করেই বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা পাবেন।

উদাহরণটি কেবল প্রারম্ভিক মূল বেতনের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে একজন চাকরিজীবীর বেতন এর চেয়ে কিছুটা বেশি হবে। কারণ, সরকারি নিয়মে প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়। এদিকে, সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুক প্রকাশ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এতে ‘নবম পে-স্কেল : সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শীর্ষ উপশিরোনামে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

গত সোমবার প্রকাশিত বইয়ে বলা হয়েছে, প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। দুই ধাপে এটি বাস্তবায়িত হবে। এর মধ্যে প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর হতে পারে। সচিব কমিটির সব সদস্য চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সই করেছেন। এতে আরও বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি এবং পেনশন গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো এ বছরের ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের (২০২৭) মধ্যে মূল বেতন মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভাতা একযোগে কার্যকর হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রমতে স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য প্রথম ধাপে এ বছরের জুলাই থেকে প্রথম ছয় মাসে ৫০ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন বাড়বে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৫ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের জুলাই থেকে তৃতীয় ধাপে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হবে। এর মানে হলোÑ প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ বেতন বাড়ার পর দ্বিতীয় ধাপে গিয়ে নতুন করে ২৫ শতাংশসহ মোট ৭৫ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন পাবেন এই গ্রেডের চাকরিজীবীরা।

আর শেষ ধাপে আরও ২৫ শতাংশ যোগ হলে তখন বর্ধিত মূল বেতনের শতভাগ পাবেন তারা। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৮ সাল থেকে বেতন ও ভাতা একযোগে পাবেন। অন্যদিকে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের চাকরিজীবীরাদের জন্য প্রথম ধাপে গত ১ জুলাই থেকে ৪০ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন বাড়বে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি আরও ৩০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হবে।

সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান টিআইবির : সরকারি কর্মজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুমোদনকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তবে নতুন বেতন ও ভাতার সুবিধা কার্যকর করার আগে সরকারি কর্মজীবী এবং তাদের পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও সম্পদবিবরণী প্রতিবছর হালনাগাদ করে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

গতকাল এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ আহ্বান জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, আর্থিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকারি কর্মজীবীদের নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাগত দক্ষতা ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রত্যাশা করা কঠিন।

তবে জনগণের করের টাকায় বেতন-ভাতা বাড়ানোর কাক্সিক্ষত সুফল পেতে হলে সরকারি কর্মজীবীদের আয় ও সম্পদের হিসাব প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, যারা প্রতিবছর নিজেদের আয়-ব্যয় ও সম্পদবিবরণী হালনাগাদ করে প্রকাশ করবেন, কেবল তাদের জন্যই নতুন বেতন-ভাতা বৃদ্ধি প্রযোজ্য হওয়া উচিত। যারা তা করবেন না, তাদের জন্য নতুন পে-স্কেল প্রযোজ্য না করার কথাও বলেছে টিআইবি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অনেক সরকারি কর্মজীবী অনিয়ম ও দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালন করেন এবং সৎভাবে জীবন যাপন করেন। তাদের জন্য নতুন বেতন স্কেল ন্যায়সঙ্গত ও প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ-সম্পদ অর্জনে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য বেতন-ভাতা বাড়ানো যথেষ্ট নয়; কার্যকর জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, কার্যকর জবাবদিহির ব্যবস্থা না করে ঢালাওভাবে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে সরকারি খাতে দুর্নীতি আরও বাড়তে পারে। সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা সরকারি খাতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিকভাবে পরীক্ষিত একটি পদ্ধতি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি কর্মজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বাড়বে এবং দক্ষ ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে উঠবেÑ সরকারের এমন প্রত্যাশা রয়েছে।

তবে ২০১৫ সালে বাস্তবায়িত অষ্টম পে-স্কেলের সময়ও একই ধরনের প্রত্যাশা ছিল। পরে সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপকতা বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এবার এর ব্যতিক্রম হবে বলে আশা প্রকাশ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারি খাতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা জরুরি। জনগণের করের অর্থেই সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতাসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যয় নির্বাহ করা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ফলে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে এমনিতেই স্বল্প আয়ের মানুষসহ সাধারণ জনগণ চাপে রয়েছেন। নতুন বেতনকাঠামোর কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়লে তাদের দুর্ভোগও বাড়তে পারে। তাই নতুন বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের পাশাপাশি সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা কার্যকর করা এবং মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় সরকারকে দূরদর্শী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।