বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার জেরে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ কয়েকটি দাবিতে মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক (এক বৃদ্ধ) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। সেখানে মিড লেভেল ও ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা তাকে জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। কিন্তু রাত ১০টার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রোগীর মৃত্যুর পর ‘ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে’—এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ১০ থেকে ১৫ জন বহিরাগত ও স্বজনেরা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
এতে ছয়জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হন, যার মধ্যে তিনজনের হাতের হাড় ভেঙে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের ভুল ইনজেকশনের কারণেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এই বিষয়ে কথা বলতে গেলে চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের প্রথমে কথাকাটাকাটি ও পরে হাতাহাতির সূত্রপাত। এ সময় চিকিৎসকেরা তাদের পক্ষের ছয়জনকে মারধর করে হাসপাতালের ভেতরে আটকে রাখেন।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী জানান, খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায়। দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে চিকিৎসকদের জিম্মি দশা থেকে রোগীর ছয় স্বজনকে উদ্ধার করে ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তীতে তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ওই ছয়জনের মধ্যে চারজন মহানগর ছাত্রদলের বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির নেতা।
এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর ই মুর্শেদ জানান, বহিরাগতদের হামলায় ছয়জন চিকিৎসক আহত হয়েছেন; যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে হাসপাতাল ও প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।
বর্তমানে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকলেও, জ্যেষ্ঠ ও মিড লেভেল চিকিৎসকদের মাধ্যমে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে।



















