আজ বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮৫%

রংপুরের মিঠাপুকুরে জমি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:33:26 pm, Thursday, 20 August 2026
  • 9

রংপুরের মিঠাপুকুরে জমি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রংপুরের মিঠাপুকুরে জমি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে মিজানুর রহমান (৪৬) নামে এক মুদি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে তাকে বহনকারী রিকশা-ভ্যানের গতিরোধ করে প্রতিপক্ষ তার ওপর হামলা চালায়।

এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের চিথলী পশ্চিমপাড়া (পোড়ারহাট) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিজানুর ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। বাড়ির পাশে পোড়ারহাট বাজারে তার একটি মুদি দোকান রয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, প্রতিবেশী আব্দুল কাফি মুন্সির সঙ্গে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মিজানুরের বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলছিল।

মঙ্গলবার দুপুরে দোকানের সামনে বসে থাকার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন মোটরসাইকেল দিয়ে তার পায়ে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে মিজানুরকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে মিজানুর তার মা আজুবা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে থানায় জিডি করতে যান। জিডি করে রাতে বাড়ি ফেরার সময় দোকানের কাছাকাছি পৌঁছালে একদল ব্যক্তি তাদের বহনকারী রিকশা-ভ্যানের পথরোধ করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, নুরনবী, নুর মোহাম্মদ, মাসুদ, মোস্তাফিজার, কালাম, মাহফুজারসহ ১০ থেকে ১২ জন বঁটি, রামদা, ছুরি ও লাঠি নিয়ে মিজানুরের ওপর হামলা চালান। তাকে ভ্যান থেকে নামিয়ে প্রথমে লাঠি দিয়ে মারধর এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপানো হয়। এ সময় ছেলেকে বাঁচাতে আজুবা বেগম হামলাকারীদের কাছে হাতজোড় করে মিনতি করলেও তাকে সরিয়ে দিয়ে মিজানুরের ওপর আবারও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নিহতের মা আজুবা বেগম বুধবার মিঠাপুকুর থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহতের বোন রেখা বেগম বলেন, তার ভাই নিয়মিত ফোন করে পরিবারের খোঁজখবর নিতেন। তাকে বিনা দোষে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন তিনি। প্রতিবেশী দেলোয়ার হোসেন ও আব্দুল করিম জানান, মিজানুরকে ভ্যান থেকে নামিয়ে প্রথমে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

রাজধানীর গোড়ানে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু

রংপুরের মিঠাপুকুরে জমি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

Update Time : 05:33:26 pm, Thursday, 20 August 2026

রংপুরের মিঠাপুকুরে জমি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে মিজানুর রহমান (৪৬) নামে এক মুদি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে তাকে বহনকারী রিকশা-ভ্যানের গতিরোধ করে প্রতিপক্ষ তার ওপর হামলা চালায়।

এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের চিথলী পশ্চিমপাড়া (পোড়ারহাট) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিজানুর ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। বাড়ির পাশে পোড়ারহাট বাজারে তার একটি মুদি দোকান রয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, প্রতিবেশী আব্দুল কাফি মুন্সির সঙ্গে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মিজানুরের বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলছিল।

মঙ্গলবার দুপুরে দোকানের সামনে বসে থাকার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন মোটরসাইকেল দিয়ে তার পায়ে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে মিজানুরকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে মিজানুর তার মা আজুবা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে থানায় জিডি করতে যান। জিডি করে রাতে বাড়ি ফেরার সময় দোকানের কাছাকাছি পৌঁছালে একদল ব্যক্তি তাদের বহনকারী রিকশা-ভ্যানের পথরোধ করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, নুরনবী, নুর মোহাম্মদ, মাসুদ, মোস্তাফিজার, কালাম, মাহফুজারসহ ১০ থেকে ১২ জন বঁটি, রামদা, ছুরি ও লাঠি নিয়ে মিজানুরের ওপর হামলা চালান। তাকে ভ্যান থেকে নামিয়ে প্রথমে লাঠি দিয়ে মারধর এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপানো হয়। এ সময় ছেলেকে বাঁচাতে আজুবা বেগম হামলাকারীদের কাছে হাতজোড় করে মিনতি করলেও তাকে সরিয়ে দিয়ে মিজানুরের ওপর আবারও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নিহতের মা আজুবা বেগম বুধবার মিঠাপুকুর থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহতের বোন রেখা বেগম বলেন, তার ভাই নিয়মিত ফোন করে পরিবারের খোঁজখবর নিতেন। তাকে বিনা দোষে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন তিনি। প্রতিবেশী দেলোয়ার হোসেন ও আব্দুল করিম জানান, মিজানুরকে ভ্যান থেকে নামিয়ে প্রথমে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।