আজ মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
৩ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩০°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

কেশবপুরে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬৬ হেক্টর জমির পাট

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:06:55 pm, Tuesday, 18 August 2026
  • 10

কেশবপুরে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬৬ হেক্টর জমির পাট

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

হঠাৎ ভারি বর্ষণে কেশবপুরের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় অধিকাংশ পাট ক্ষেতে কোমর পানি বেঁধে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে পানিতে মরতে শুরু করেছে নাবী জাতের পাট। এ অবস্থায় কৃষকরা অপরিপক্ব পাট কেটে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগের ভাষ্যমতে, ভারি বর্ষণে উপজেলার ৬৬ হেক্টর জমির পাট নষ্ট হয়ে গেছে। এতে একদিকে যেমন কৃষক পাটের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাচ্ছেন না, অন্যদিকে পাটের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষক। কৃষকরা জানায়, এ উপজেলায় প্রতিবছর অপেক্ষকৃত উঁচু জমিতে ১৫ চৈত্রের পর এবং বোরো ধান কাটার পর (১৫ বৈশাখের পর) এই দুই সময়ে পাটের আবাদ করা হয়।

চৈত্র মাসে বপন করা পাটে খরার কারণে শ্রমিকের মজুরিসহ পানি সেচ বাবদ অন্য বারের চেয়ে এবার উৎপাদন খরচ বেশি দিতে হয়েছে। অপরদিকে, বৈশাখে বপন করা পাটে আগাছা পরিষ্কার করার পর রাসায়নিক সার প্রয়োগ করে যখন কৃষকরা সোনালি আঁশ ঘরে তোলার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখনই হঠাৎ ভারি বর্ষণে কৃষকের সে স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ পাট ক্ষেতে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি বেঁধে যায়।

পানির মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ে একজন কৃষক এক শতকের বেশি জমির পাট কাটতে পারছে না। স্বাভাবিক মজুরির চেয়ে তাদের বেশি মজুরি খরচ দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় বাধ্য হয় কৃষকরা অপরিপক্ক পাট কাটতে। এতে পাটের ফলনও মান ভালো না হওয়ায় ভালো দামও পাচ্ছেন না। কৃষি বিভাগ জানায়, গত বছর ৬ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। চলতি বছর পাটের দাম বেশি হওয়ায় গত বারের চেয়ে এবছর ৬ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমি পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

এরমধ্যে পাটের আবাদ হয় ৬ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে। পাটের উৎপাদন বাড়ানোসহ ভারতীয় পাট বীজের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এ উপজেলার ৬শ জন কৃষককে পাটের বীজ, সারসহ প্রণোদনা দেওয়া হয়। পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ২০ হাজার ৮০৫ টন। যার বাজার মূল্য ১৬০ কোটি ২০ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। কিন্তু হঠাৎ ভারি বর্ষণে জলাবদ্ধতায় ৬৬ হেক্টর জমির পাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পানি বেশি হওয়ায় অনেক কৃষক পাট কাটতে ব্যর্থ হয়। উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় জলাবদ্ধতায় ৬৬ হেক্টর জমির পাটের ক্ষতি হয়েছে। বীজ বপনের ১২০ দিন হলেই পাট পরিপক্ব হয়। ভাদ্র মাসের শেষের দিকে কাটলে কৃষকরা পরিপক্ব পাট পেতেন। কিন্তু পানির কারণে আগেভাগেই পাট কেটে ফেলছেন। পাটের দাম ভালো হলেও কৃষকরা ভালো ফলন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

বর্ণিল আয়োজনে হাবিপ্রবিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদযাপিত

কেশবপুরে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬৬ হেক্টর জমির পাট

Update Time : 03:06:55 pm, Tuesday, 18 August 2026

হঠাৎ ভারি বর্ষণে কেশবপুরের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় অধিকাংশ পাট ক্ষেতে কোমর পানি বেঁধে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে পানিতে মরতে শুরু করেছে নাবী জাতের পাট। এ অবস্থায় কৃষকরা অপরিপক্ব পাট কেটে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগের ভাষ্যমতে, ভারি বর্ষণে উপজেলার ৬৬ হেক্টর জমির পাট নষ্ট হয়ে গেছে। এতে একদিকে যেমন কৃষক পাটের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাচ্ছেন না, অন্যদিকে পাটের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষক। কৃষকরা জানায়, এ উপজেলায় প্রতিবছর অপেক্ষকৃত উঁচু জমিতে ১৫ চৈত্রের পর এবং বোরো ধান কাটার পর (১৫ বৈশাখের পর) এই দুই সময়ে পাটের আবাদ করা হয়।

চৈত্র মাসে বপন করা পাটে খরার কারণে শ্রমিকের মজুরিসহ পানি সেচ বাবদ অন্য বারের চেয়ে এবার উৎপাদন খরচ বেশি দিতে হয়েছে। অপরদিকে, বৈশাখে বপন করা পাটে আগাছা পরিষ্কার করার পর রাসায়নিক সার প্রয়োগ করে যখন কৃষকরা সোনালি আঁশ ঘরে তোলার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখনই হঠাৎ ভারি বর্ষণে কৃষকের সে স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ পাট ক্ষেতে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি বেঁধে যায়।

পানির মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ে একজন কৃষক এক শতকের বেশি জমির পাট কাটতে পারছে না। স্বাভাবিক মজুরির চেয়ে তাদের বেশি মজুরি খরচ দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় বাধ্য হয় কৃষকরা অপরিপক্ক পাট কাটতে। এতে পাটের ফলনও মান ভালো না হওয়ায় ভালো দামও পাচ্ছেন না। কৃষি বিভাগ জানায়, গত বছর ৬ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। চলতি বছর পাটের দাম বেশি হওয়ায় গত বারের চেয়ে এবছর ৬ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমি পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

এরমধ্যে পাটের আবাদ হয় ৬ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে। পাটের উৎপাদন বাড়ানোসহ ভারতীয় পাট বীজের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এ উপজেলার ৬শ জন কৃষককে পাটের বীজ, সারসহ প্রণোদনা দেওয়া হয়। পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ২০ হাজার ৮০৫ টন। যার বাজার মূল্য ১৬০ কোটি ২০ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। কিন্তু হঠাৎ ভারি বর্ষণে জলাবদ্ধতায় ৬৬ হেক্টর জমির পাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পানি বেশি হওয়ায় অনেক কৃষক পাট কাটতে ব্যর্থ হয়। উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় জলাবদ্ধতায় ৬৬ হেক্টর জমির পাটের ক্ষতি হয়েছে। বীজ বপনের ১২০ দিন হলেই পাট পরিপক্ব হয়। ভাদ্র মাসের শেষের দিকে কাটলে কৃষকরা পরিপক্ব পাট পেতেন। কিন্তু পানির কারণে আগেভাগেই পাট কেটে ফেলছেন। পাটের দাম ভালো হলেও কৃষকরা ভালো ফলন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।