ব্যাংক ব্যবস্থার তারল্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন এবং বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) হিসাবায়ন সুনির্দিষ্ট করতে দীর্ঘ তিন দশকের পুরোনো একটি ব্যাংকিং সুবিধা বাতিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত চলতি হিসাবের স্থিতি লিয়েন রেখে তপশিলি ব্যাংকগুলোর জন্য প্রচলিত টিটি (টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার) ডিসকাউন্টিং সুবিধা আর কার্যকর থাকছে না।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে। গত ১ জুলাই ২০২৬ থেকে সিদ্ধান্তটি কার্যকর ধরা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ১৯৯৪ সালের থেকে ব্যাংকগুলোকে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা দেওয়া হতো। তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংক মঞ্জুরি করা সীমার ২০ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংকগুলোর চলতি হিসাবে লিয়েন রাখা হতো, যা পরে সিআরআর হিসাবায়নে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ ছিল না।
বর্তমানে দৈনন্দিন তারল্য চাহিদা মেটাতে কল মানি মার্কেট, রেপো, স্ট্যান্ডিং লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) এবং আন্তঃব্যাংক ধারের মতো আধুনিক ও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রচলিত আধুনিক ব্যবস্থাগুলো সচল থাকায় সম্প্রতি টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধার ব্যবহার ছিল একেবারেই নগণ্য। প্রকৃত সুবিধা গ্রহণ না করলেও মঞ্জুরি করা সীমার ওপর লিয়েন মার্ক বহাল রাখা এবং তা সিআরআর-এ না আসায় ব্যাংকের রেগুলেটরি রেশিও পরিচালনায় বিরূপ প্রভাব পড়ছিল।
ব্যাংকিং হিসাবায়ন সহজীকরণ এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ায় ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১’-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী এ সুবিধাটি বাতিল করা হলো। ফলে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে চলতি হিসাব লিয়েন রেখে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা আর কার্যকর থাকবে না।















