11:02 pm, Monday, 3 August 2026

৯ মাসের কম বয়সীদের ৯৭ শতাংশে হাম শনাক্ত, বাড়ছে মৃত্যু

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:00:22 pm, Monday, 3 August 2026
  • 0

৯ মাসের কম বয়সীদের ৯৭ শতাংশে হাম শনাক্ত, বাড়ছে মৃত্যু

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বাংলাদেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)। সংস্থাটির গবেষণায় দেখা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সন্দেহভাজন হামের রোগীদের মধ্যে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, টিকার বয়স হয়নি বা যারা টিকার আওতার বাইরে রয়েছে, তারাই এই প্রাদুর্ভাবে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তবে বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া হামের ভাইরাসে এমন কোনো জিনগত পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা প্রচলিত টিকার সুরক্ষাকে এড়িয়ে যেতে পারে। আইসিডিডিআরবি ও বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল থেকে ২১ মে পর্যন্ত ১৪ বছরের কম বয়সী ৩৪১ শিশুর ওপর অনুসন্ধান চালান। এসব শিশু সন্দেহভাজন হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। পরীক্ষাগারে ৩২৪ শিশুর শরীরে হাম নিশ্চিত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, দুই ডোজ হাম-রুবেলা টিকা নেওয়া শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার তুলনামূলকভাবে কম। বর্তমানে দেশে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটি ‘বি৩ জিনোটাইপ’-এর, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রাদুর্ভাবেও শনাক্ত হয়েছে। আইসিডিডিআরবির ভাইরোলজি ল্যাবরেটরির সহযোগী বিজ্ঞানী ডা. নূরজাহান মালিহা বলেন, টিকা কার্যকর কিনা তা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও গবেষণায় ভাইরাসের এমন কোনো পরিবর্তন পাওয়া যায়নি, যা টিকার সুরক্ষা কমিয়ে দেয়। বরং দুই ডোজ টিকা নেওয়া শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার কম ছিল। বাংলাদেশের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে হাম-রুবেলার প্রথম ডোজ দেওয়া হয় ৯ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাস বয়সে। এর আগে শিশুরা মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডি ও সমষ্টিগত সুরক্ষার ওপর নির্ভরশীল থাকে। আইসিডিডিআরবির ফাইলোজেনেটিক বিশ্লেষণে ৫৫টি পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স পরীক্ষা করা হয়। এতে সব ভাইরাসই ‘বি৩’ ধরনের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। ভাইরাসের ‘এইচ’ প্রোটিনে কিছু পরিবর্তন শনাক্ত হলেও এর অর্থ এই নয় যে টিকা অকার্যকর হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬৩ জন সন্দেহভাজন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত ১৫ হাজার ২৭২ জন হাম রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে হামজনিত কারণে ৯৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। গবেষকেরা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুর বয়স অনুযায়ী হাম-রুবেলার সব ডোজ টিকা নিশ্চিত করতে হবে। টিকাই হাম প্রতিরোধ ও গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে জানিয়েছেন তারা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

৯ মাসের কম বয়সীদের ৯৭ শতাংশে হাম শনাক্ত, বাড়ছে মৃত্যু

Update Time : 11:00:22 pm, Monday, 3 August 2026

বাংলাদেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)। সংস্থাটির গবেষণায় দেখা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সন্দেহভাজন হামের রোগীদের মধ্যে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, টিকার বয়স হয়নি বা যারা টিকার আওতার বাইরে রয়েছে, তারাই এই প্রাদুর্ভাবে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তবে বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া হামের ভাইরাসে এমন কোনো জিনগত পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা প্রচলিত টিকার সুরক্ষাকে এড়িয়ে যেতে পারে। আইসিডিডিআরবি ও বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল থেকে ২১ মে পর্যন্ত ১৪ বছরের কম বয়সী ৩৪১ শিশুর ওপর অনুসন্ধান চালান। এসব শিশু সন্দেহভাজন হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। পরীক্ষাগারে ৩২৪ শিশুর শরীরে হাম নিশ্চিত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, দুই ডোজ হাম-রুবেলা টিকা নেওয়া শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার তুলনামূলকভাবে কম। বর্তমানে দেশে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটি ‘বি৩ জিনোটাইপ’-এর, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রাদুর্ভাবেও শনাক্ত হয়েছে। আইসিডিডিআরবির ভাইরোলজি ল্যাবরেটরির সহযোগী বিজ্ঞানী ডা. নূরজাহান মালিহা বলেন, টিকা কার্যকর কিনা তা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও গবেষণায় ভাইরাসের এমন কোনো পরিবর্তন পাওয়া যায়নি, যা টিকার সুরক্ষা কমিয়ে দেয়। বরং দুই ডোজ টিকা নেওয়া শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার কম ছিল। বাংলাদেশের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে হাম-রুবেলার প্রথম ডোজ দেওয়া হয় ৯ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাস বয়সে। এর আগে শিশুরা মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডি ও সমষ্টিগত সুরক্ষার ওপর নির্ভরশীল থাকে। আইসিডিডিআরবির ফাইলোজেনেটিক বিশ্লেষণে ৫৫টি পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স পরীক্ষা করা হয়। এতে সব ভাইরাসই ‘বি৩’ ধরনের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। ভাইরাসের ‘এইচ’ প্রোটিনে কিছু পরিবর্তন শনাক্ত হলেও এর অর্থ এই নয় যে টিকা অকার্যকর হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬৩ জন সন্দেহভাজন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত ১৫ হাজার ২৭২ জন হাম রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে হামজনিত কারণে ৯৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। গবেষকেরা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুর বয়স অনুযায়ী হাম-রুবেলার সব ডোজ টিকা নিশ্চিত করতে হবে। টিকাই হাম প্রতিরোধ ও গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে জানিয়েছেন তারা।