ঝিনাইদহে দীর্ঘদিনের অযত্ন, অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে আমতলা-তৈলটুপি-আলমডাঙ্গা সড়ক। ৩৬.০২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ফাটল ও খানাখন্দ। কোথাও সড়কের পিচ উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত।
ফলে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সড়কটিতে চলাচলকারীদের। এ সড়ক ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের আমতলা বাজার থেকে হরিণাকুন্ডু উপজেলার চাঁদপুর, ফলসী, রঘুনাথপুর, জোড়াদহ এবং ভায়না ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ার ঝাউদিয়া হয়ে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অগণিত মানুষ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে।
কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও সড়কটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বিভিন্ন অংশে সংস্কারের অভাবে যান চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে খানাখন্দে পানি জমে সেগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে যানবাহন চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যান ও ছোট যানবাহন চালকদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির আমতলা বাজার, মকিমপুর, ছোট ভাদড়া, কন্যাদহ, জিন্দারের মোড়, দরিবিন্নি, সড়াবাড়িয়াসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থা একেবারেই বেহাল। সড়কের বিভিন্ন অংশে তৈরি হয়েছে ফাটল ও ছোট-বড় গর্ত। এসব গর্তের কারণে যানবাহন চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় সড়কটি যেন কাদামাটির সড়কে পরিণত হয়। ছোট-ছোট যানবাহন ও মোটরসাইকেলচালকদের পড়তে হয় চরম ঝুঁকিতে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে সড়কের কিছু অংশে ইট, বালু ও মাটি ফেলে সামান্য মেরামতের কাজ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য। অল্প সময়ের মধ্যেই সংস্কার করা অংশের বিভিন্ন স্থানে আবারও সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সংস্কার না হওয়ায় চলাচলে ভোগান্তি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের দ্রুত পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন তারা।
সওজর তথ্যমতে, এলজিইডি থেকে সওজে হস্তান্তরিত ৩৬ দশমিক ০২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির মাত্র ১৩ কিলোমিটার অংশ মোটামুটি চলাচলের উপযোগী রয়েছে। আমতলা বাজার থেকে ২৫-৩৪ কিলোমিটার অংশ একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে চারটি টেন্ডারের মাধ্যমে ৩৩৫০ মিটার সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে হয়নি কোনো সংস্কারকাজ।
সওজর নির্বাহী প্রকৌশলী তুহিন আল মামুন বলেন, বরাদ্দপ্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে পারব। সড়কটি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছি, যা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।



















