10:14 pm, Wednesday, 29 July 2026

৭.৬২ বুলেট নিয়ে ‘স্নাইপার’ তত্ত্ব ছড়ানোর সুযোগ নেই

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:46:41 pm, Wednesday, 29 July 2026
  • 4
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ৭.৬২ মিলিমিটার বুলেট ব্যবহারের ঘটনা ঘিরে ‘স্নাইপার ব্যবহারের’ যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তা বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, স্নাইপারের বিষয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি দায়িত্বকালে কর্মকাণ্ডের জন্য আইনি দায়মুক্তি ভোগ করবেন, তবে দায়িত্বের আগে বা পরে সংঘটিত কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া, আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি। গতকাল সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ৭.৬২ মিলিমিটার বুলেট নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। এ ধরনের গুলি কোনো রহস্যময় বা বিশেষ অস্ত্রের নয়, দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ পুলিশের ব্যবহৃত চীনা টাইপ-৫৬ রাইফেলে এই ক্যালিবারের গুলি ব্যবহার করা হয়। আমি অবাক হয়েছি, কেউ কেউ এমনভাবে বলছেন যেন ৭.৬২ মিলিমিটার বুলেট মানেই স্নাইপার রাইফেলের গুলি। বিষয়টি মোটেও তা নয়। পুলিশের হাতে বহু বছর ধরেই টাইপ-৫৬ রাইফেল রয়েছে, যা ৭.৬২ মিলিমিটার গুলি ব্যবহার করে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, টাইপ-৫৬ একটি সামরিক মানের রাইফেল, যা আগে সেনাবাহিনীর কাছে ছিল। পরে এটি সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং সর্বশেষ পুলিশের কাছে আসে। এ অস্ত্রের কার্যকর পাল্লা প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মিটার পর্যন্ত হওয়ায় সাধারণ পুলিশের হাতে এমন অস্ত্র থাকা নিয়ে অতীতেও প্রশ্ন উঠেছিল। উপদেষ্টা বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে যে, সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীরা স্নাইপার ব্যবহার করে মানুষ হত্যা করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পুলিশের কাছেই ৭.৬২ মিলিমিটার গুলি ব্যবহারকারী রাইফেল ছিল। বিজিবির কাছেও একই ধরনের অস্ত্র ছিল। অভ্যুত্থানকালে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ছবি ও ভিডিও রয়েছে। তাই কোথাও থেকে অজ্ঞাত কোনো স্নাইপার এসে গুলি করেছে, এ ধরনের প্রচারের বাস্তব ভিত্তি নেই। তদন্তে এসব ঘটনার প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে। উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, পুলিশের কাছে প্রাণঘাতী অস্ত্র থাকার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। তবে জননিয়ন্ত্রণে সাধারণত স্বল্প-পাল্লার অস্ত্র ব্যবহারের প্রচলন থাকলেও ৭.৬২ মিলিমিটার রাইফেলের মতো দীর্ঘ-পাল্লার অস্ত্র ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। জুলাই আন্দোলনের ঘটনাগুলোর তদন্তে কারা কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছে, তা আইনগত প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। তবে ৭.৬২ মিলিমিটার বুলেটকে কেন্দ্র করে স্নাইপার তত্ত্ব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির সুযোগ নেই। এ ছাড়া ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালে সম্পাদিত কর্মকাণ্ডের জন্য কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। তবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে বা দায়িত্ব শেষে কেউ কোনো অপরাধ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, সম্প্রতি ৩২ জন যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে বিদ্যমান বিধি অনুসরণ করেই। তার ভাষ্য, সরকারি চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে পারে। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অপরাধগুলোর একটি। তাই ওই নির্বাচনের ঘটনা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শাপলা চত্বর হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রমে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাধা দেওয়ার কারণ নেই। ব্রিকসে বাংলাদেশের সম্ভাব্য সদস্যপদ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বাংলাদেশকে আপাতত পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়েও এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। এদিকে পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও ব্রিফিংয়ে জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

পটুয়াখালীতে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ের তালা ভেঙে মালামাল চুরি

৭.৬২ বুলেট নিয়ে ‘স্নাইপার’ তত্ত্ব ছড়ানোর সুযোগ নেই

Update Time : 07:46:41 pm, Wednesday, 29 July 2026

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ৭.৬২ মিলিমিটার বুলেট ব্যবহারের ঘটনা ঘিরে ‘স্নাইপার ব্যবহারের’ যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তা বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, স্নাইপারের বিষয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি দায়িত্বকালে কর্মকাণ্ডের জন্য আইনি দায়মুক্তি ভোগ করবেন, তবে দায়িত্বের আগে বা পরে সংঘটিত কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া, আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি। গতকাল সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ৭.৬২ মিলিমিটার বুলেট নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। এ ধরনের গুলি কোনো রহস্যময় বা বিশেষ অস্ত্রের নয়, দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ পুলিশের ব্যবহৃত চীনা টাইপ-৫৬ রাইফেলে এই ক্যালিবারের গুলি ব্যবহার করা হয়। আমি অবাক হয়েছি, কেউ কেউ এমনভাবে বলছেন যেন ৭.৬২ মিলিমিটার বুলেট মানেই স্নাইপার রাইফেলের গুলি। বিষয়টি মোটেও তা নয়। পুলিশের হাতে বহু বছর ধরেই টাইপ-৫৬ রাইফেল রয়েছে, যা ৭.৬২ মিলিমিটার গুলি ব্যবহার করে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, টাইপ-৫৬ একটি সামরিক মানের রাইফেল, যা আগে সেনাবাহিনীর কাছে ছিল। পরে এটি সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং সর্বশেষ পুলিশের কাছে আসে। এ অস্ত্রের কার্যকর পাল্লা প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মিটার পর্যন্ত হওয়ায় সাধারণ পুলিশের হাতে এমন অস্ত্র থাকা নিয়ে অতীতেও প্রশ্ন উঠেছিল। উপদেষ্টা বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে যে, সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীরা স্নাইপার ব্যবহার করে মানুষ হত্যা করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পুলিশের কাছেই ৭.৬২ মিলিমিটার গুলি ব্যবহারকারী রাইফেল ছিল। বিজিবির কাছেও একই ধরনের অস্ত্র ছিল। অভ্যুত্থানকালে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ছবি ও ভিডিও রয়েছে। তাই কোথাও থেকে অজ্ঞাত কোনো স্নাইপার এসে গুলি করেছে, এ ধরনের প্রচারের বাস্তব ভিত্তি নেই। তদন্তে এসব ঘটনার প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে। উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, পুলিশের কাছে প্রাণঘাতী অস্ত্র থাকার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। তবে জননিয়ন্ত্রণে সাধারণত স্বল্প-পাল্লার অস্ত্র ব্যবহারের প্রচলন থাকলেও ৭.৬২ মিলিমিটার রাইফেলের মতো দীর্ঘ-পাল্লার অস্ত্র ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। জুলাই আন্দোলনের ঘটনাগুলোর তদন্তে কারা কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছে, তা আইনগত প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। তবে ৭.৬২ মিলিমিটার বুলেটকে কেন্দ্র করে স্নাইপার তত্ত্ব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির সুযোগ নেই। এ ছাড়া ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালে সম্পাদিত কর্মকাণ্ডের জন্য কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। তবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে বা দায়িত্ব শেষে কেউ কোনো অপরাধ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, সম্প্রতি ৩২ জন যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে বিদ্যমান বিধি অনুসরণ করেই। তার ভাষ্য, সরকারি চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে পারে। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অপরাধগুলোর একটি। তাই ওই নির্বাচনের ঘটনা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শাপলা চত্বর হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রমে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাধা দেওয়ার কারণ নেই। ব্রিকসে বাংলাদেশের সম্ভাব্য সদস্যপদ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বাংলাদেশকে আপাতত পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়েও এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। এদিকে পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও ব্রিফিংয়ে জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।