দিনের প্রথমভাগে আনন্দের উপলক্ষ এনে দিয়েছিলেন নাঈম হাসান। দিনের শেষেও বড় দায়িত্ব তার কাঁধে। তবে এবার ব্যাট হাতে। কারণ তার আগে নামা স্বীকৃত ব্যাটাররা আবারও করেছেন হতাশ। তাই তৃতীয় দিন শেষে স্বস্তির বদলে উল্টো চাপে বাংলাদেশ।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৬ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ। হাতে রয়েছে আর ৪ উইকেট। লক্ষ্য বাড়ানোর দায়িত্ব এখন নাঈম ও জাকের আলির কাঁধে। তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৭৯ রান। এর আগে প্রথম ইনিংসে নাঈমের অফ স্পিন জাদুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৪৫ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ।
ফলে তারা পেয়েছিল ২৭ রানের লিড। আগের দুই দিনের মতো এদিনও আলোকস্বল্পতায় আগেভাগে বন্ধ হয়েছে খেলা। সব মিলিয়ে এদিন খেলা হয় মাত্র ৬৩.৫ ওভার। তিন দিন মিলিয়ে এরই মধ্যে হারিয়ে গেছে ৬০ ওভারের বেশি। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে হতাশ করেন স্বীকৃত ব্যাটাররা। শুরুতেই ফিরে যান তানজিদ হাসান। এরপর সাদমান ইসলাম ও নাজমুল হোসেন শান্ত চেষ্টা করেন হাল ধরতে।
তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তারা। দ্রুতই ড্রেসিং রুমে ফিরে যান সাদমান, তাওহিদ হৃদয় ও শান্ত। এদের মধ্যে ব্যাখ্যাতীত বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন হৃদয়। ভুল লাইনে ডিফেন্ড করে বোল্ড সাদমান। একইভাবে ভুল লাইনে খেলে এলবিডব্লিউ শান্ত। চতুর্থ উইকেট পতনের পর মুমিনুল হকের কনকাশন বদলি হিসেবে নামেন জাকের আলি। ফিল্ডিংয়ের সময় মাথায় আঘাত পাওয়ায় ম্যাচ থেকে ছিটকে যান মুমিনুল।
পরে লিটন কুমার দাসও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মেহেদী হাসান মিরাজও আউট হয়ে গেলে মাত্র ৫৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। সেখান থেকে সপ্তম উইকেটে জুটি বাঁধেন নাঈম ও জাকের। দিনের বাকি সময় আর উইকেট পড়তে দেননি তারা। দুজন মিলে যোগ করেন ২৬ রান। চতুর্থ দিন সকালে লিড বাড়ানোর অভিযানে নামবেন তারা। দুজনই অপরাজিত ১৮ রানে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে এখন পর্যন্ত ৩ উইকেট নিয়েছেন রস্টন চেইস। জোমেল ওয়ারিক্যানের শিকার ২ উইকেট। এর আগে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুরুর দিকে বাংলাদেশকে অপেক্ষায় রাখেন তেজনারাইন চন্দরপল ও জাস্টিন গ্রিভস। পঞ্চাশ ছুঁয়ে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি চন্দরপল। শরিফুল ইসলামের বলে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দেন ১৬৪ বলে ৫৬ রান করা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
তার বিদায়ে ভাঙে ৬২ রানের জুটি। এরপর ষষ্ঠ উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়েন গ্রিভস ও রস্টন চেইস। লাঞ্চ বিরতির ঠিক আগের ওভারে গ্রিভসকে এলবিডব্লিউ করে জুটি ভাঙেন নাঈম। ২ চারে ১০৬ বলে ৪৬ রান করেন গ্রিভস। দ্বিতীয় সেশনে বেশি লম্বা হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং। একপ্রান্তে অপরাজিত থেকে যান চেইস। অন্য প্রান্তে তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি কেউই।
মাত্র ১১ রানের মধ্যে শেষের ৪ উইকেট হারায় সফরকারীরা। এর মধ্যে তিনটিই নেন নাঈম। যার সৌজন্যে পূর্ণ হয় তার ক্যারিয়ারের ৫০ উইকেট। একপ্রান্তে শেষ পর্যন্ত ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন চেইস। ক্যারিবিয়ানদের লেজ গুটিয়ে দিয়ে মাত্র ৩৩ রানে ৪ উইকেট নেন নাঈম।














