বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে ভৌতিক সাজ, রহস্য আর রোমাঞ্চে ভরা হ্যালোইন উৎসবের প্রস্তুতি। প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর পালিত হয় এই উৎসব। তবে দেশ ও অঞ্চলভেদে উদযাপনের ধরন আলাদা। কোথাও ভয়ংকর পোশাকে সেজে রাস্তায় মানুষের ঢল নামে, কোথাও তৈরি হয় ভীতিকর গোলকধাঁধা, আবার কোথাও কুমড়োর লণ্ঠনে সাজানো হয় বিনোদনকেন্দ্র।
হ্যালোইন মূলত ভৌতিক গল্প, কাল্পনিক চরিত্র ও বিচিত্র পোশাকের মধ্য দিয়ে আনন্দ উদযাপনের একটি উপলক্ষ। দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা থেকে বেরিয়ে এসে মানুষ এই সময়ে মেতে ওঠে নানা রকমের উৎসব ও বিনোদনে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে বর্ণিল আয়োজন। হংকংয়ে হ্যালোইন ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। শহরের লান কোয়াই ফং এলাকায় বিচিত্র ও রঙিন পোশাকে সজ্জিত মানুষের ভিড় জমছে।
উৎসবের নানা আয়োজনে ছবি তোলা ও আনন্দে মেতে উঠছেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকেরা। পর্যটনশিল্পের প্রসারেও এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উৎসবে অংশ নেওয়া এক দর্শনার্থীর ভাষ্য, এখানে এলে মেলার মতো আনন্দমুখর পরিবেশ পাওয়া যায়। কাজের ক্লান্তি ভুলে নিজের মতো করে আনন্দ করার সুযোগ তৈরি হয়। প্রাণ খুলে আনন্দ করতেই অনেকে এখানে ছুটে আসেন।
দক্ষিণ ইংল্যান্ডের টালিস শকটোবার উৎসবে রোমাঞ্চ-প্রেমীদের জন্য রয়েছে ভৌতিক গোলকধাঁধা ও নানা ভয়ংকর আয়োজন। কৃত্রিম ভয়ের পরিবেশে দর্শনার্থীদের চিৎকার আর উত্তেজনাই হয়ে উঠেছে বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণ। অন্যদিকে, ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনের টিভোলি বিনোদন পার্ক সাজানো হয়েছে হ্যালোইনের বিশেষ আয়োজনে। প্রবেশপথে ঝুলছে খোদাই করা মুখাবয়বের কুমড়োর লণ্ঠন।
পার্কের বিভিন্ন স্থানে সারি সারি রাখা হয়েছে বিশালাকার কুমড়া। এসব সাজসজ্জার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন দর্শনার্থীরা। উৎসব শেষে কুমড়োগুলোরও রয়েছে ভিন্ন ব্যবহার। সেগুলো পাঠানো হবে কোপেনহেগেন চিড়িয়াখানায়, যেখানে হাতিদের খাবার হিসেবে দেওয়া হবে। ফলে উৎসবের সাজসজ্জা পরিণত হবে প্রাণীদের খাদ্যে। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে টিভোলির বিশেষ আয়োজন।
ভৌতিক সাজ, রোমাঞ্চকর পরিবেশ ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মধ্য দিয়ে হ্যালোইন আবারও প্রমাণ করছে, ভয়কে ঘিরেও আনন্দের এক ভিন্ন জগৎ তৈরি করা সম্ভব।












