আজ বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩১°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৪১%

মাগুরায় অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল: পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম সাময়িক বরখাস্ত

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:21:28 pm, Wednesday, 30 September 2026
  • 9

মাগুরায় অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল: পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম সাময়িক বরখাস্ত

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল দেওয়ার ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মহিতুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কন্ট্রোলিং অথরিটি এক চিঠির মাধ্যমে তাকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেয়। একই সঙ্গে তাকে যশোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম ফজলুল আনোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম শাহীন আহসানকে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএমের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের বিদ্যুৎ বিলে এ অস্বাভাবিক হিসাব ধরা পড়ে। বিলে ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা উল্লেখ করা হয়। অথচ বর্তমান মিটার রিডিং অনুযায়ী ওই পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিল হওয়ার কথা ছিল মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা।

জানা যায়, গত ৮ আগস্ট মিটারের রিডিং ছিল ১৬০ ইউনিট। ৮ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯৫ ইউনিটে। অর্থাৎ এক মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট। অস্বাভাবিক বিল হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসকে জানান গ্রাহক। পরে মিটারের রিডিং সংশোধন করে নতুন বিল দেওয়া হয়। সংশোধিত বিলটি পরিশোধ করেছেন আলেয়া খাতুন।

অস্বাভাবিক বিলের বিষয়টি স্বীকার করে তৎকালীন জিএম মহিতুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, দায়িত্বে অবহেলার কারণে চারজনকে শোকজ করা হয়েছে। তাদের সাত কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। শোকজ পাওয়া চারজন হলেন, বিলিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, বিলিং সুপারভাইজার, মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার এবং সংশ্লিষ্ট আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম।

মহিতুল ইসলাম আরও জানিয়েছিলেন, মিটার পরিবর্তনের সময় সিল নম্বরের একটি ডিজিট ভুল করে ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হওয়ায় অস্বাভাবিক এই বিল তৈরি হয়। পরে বিলটি সংশোধন করে গ্রাহককে দেওয়া হয়।

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের এমন ভুল মাঝেমধ্যে ঘটে। অনেক সময় মিটার না দেখেই বিল তৈরির অভিযোগও রয়েছে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে হয়।

গ্রাহকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল ও হয়রানির ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

চট্টগ্রামে চাঁদা না দেওয়ায় সবজি ব্যবসায়ীর ছেলেকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

মাগুরায় অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল: পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম সাময়িক বরখাস্ত

Update Time : 07:21:28 pm, Wednesday, 30 September 2026

মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল দেওয়ার ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মহিতুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কন্ট্রোলিং অথরিটি এক চিঠির মাধ্যমে তাকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেয়। একই সঙ্গে তাকে যশোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম ফজলুল আনোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম শাহীন আহসানকে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএমের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের বিদ্যুৎ বিলে এ অস্বাভাবিক হিসাব ধরা পড়ে। বিলে ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা উল্লেখ করা হয়। অথচ বর্তমান মিটার রিডিং অনুযায়ী ওই পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিল হওয়ার কথা ছিল মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা।

জানা যায়, গত ৮ আগস্ট মিটারের রিডিং ছিল ১৬০ ইউনিট। ৮ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯৫ ইউনিটে। অর্থাৎ এক মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট। অস্বাভাবিক বিল হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসকে জানান গ্রাহক। পরে মিটারের রিডিং সংশোধন করে নতুন বিল দেওয়া হয়। সংশোধিত বিলটি পরিশোধ করেছেন আলেয়া খাতুন।

অস্বাভাবিক বিলের বিষয়টি স্বীকার করে তৎকালীন জিএম মহিতুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, দায়িত্বে অবহেলার কারণে চারজনকে শোকজ করা হয়েছে। তাদের সাত কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। শোকজ পাওয়া চারজন হলেন, বিলিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, বিলিং সুপারভাইজার, মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার এবং সংশ্লিষ্ট আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম।

মহিতুল ইসলাম আরও জানিয়েছিলেন, মিটার পরিবর্তনের সময় সিল নম্বরের একটি ডিজিট ভুল করে ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হওয়ায় অস্বাভাবিক এই বিল তৈরি হয়। পরে বিলটি সংশোধন করে গ্রাহককে দেওয়া হয়।

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের এমন ভুল মাঝেমধ্যে ঘটে। অনেক সময় মিটার না দেখেই বিল তৈরির অভিযোগও রয়েছে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে হয়।

গ্রাহকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল ও হয়রানির ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।