কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে স্ত্রী ঝর্ণা আক্তারকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে ইসমাইল সাগর মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক সুপ্রিয়া রহমান আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ইসমাইল সাগর মিয়া (৩২) বাজিতপুর উপজেলার উত্তর সরারচর এলাকার মৃত আয়েত আলীর ছেলে। নিহত ঝর্ণা আক্তার ছিলেন তার স্ত্রী। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। সংসারে দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইসমাইল দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীকে নির্যাতন ও মারধর করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল রাতে ঝর্ণা আক্তার দুই মেয়েকে নিয়ে গাজীপুরের ভাড়া বাসা ছেড়ে বাজিতপুর উপজেলার নিলখী নয়াহাটিতে মায়ের বাড়িতে চলে যান।
সেখানে তিনি মাকে নির্যাতনের বিষয়টি জানান। এজাহারে বলা হয়, পরদিন ১২ এপ্রিল রাত প্রায় ৭টা ৫০ মিনিটে ইসমাইল সাগর মিয়া অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান। এ সময় বাড়ির পূর্ব পাশে মাটির চুলায় রান্না করছিলেন ঝর্ণা। সেখানে তিনি ধারালো ছুরি দিয়ে ঝর্ণার বুকে একাধিক আঘাত করেন। ঝর্ণার চিৎকারে তার বোন স্বপ্না আক্তারসহ রাজিব মিয়া ও সবুজ মিয়া বাধা দিতে গেলে সবুজ মিয়ার হাতেও ছুরিকাঘাত করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা ঝর্ণাকে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের মা মোছা. জাহেরা বেগম বাদী হয়ে বাজিতপুর থানায় ইসমাইল সাগর মিয়া ও অজ্ঞাতনামা আরও দুজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ইসমাইল সাগর মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।



















