নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের বাতানিয়াপাড়া গ্রামে গড়ে ওঠা জামদানি শাড়ির কারখানায় এখন দেখা যাচ্ছে অসাধারণ কারুকাজ। তাঁতের খটখট শব্দের সঙ্গে সুতোয় সুতোয় ফুটে উঠছে দৃষ্টিনন্দন নকশা, যেন বোনা হচ্ছে জামদানির এক জাদু।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সেই কারখানা পরিদর্শনে যান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। কারখানার ভেতরে ঢুকে তিনি জামদানি তৈরির প্রতিটি ধাপ ঘুরে দেখেন। তাঁতের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলেন কারিগরদের সঙ্গে। জানতে চান তাদের কাজ, মজুরি, কাঁচামালের দাম ও বাজারজাতকরণের সমস্যার কথা।
দীর্ঘ সময় নিয়ে শোনেন তাঁতিদের বাস্তবতার গল্প। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি জামদানি শাড়ি তৈরি শুধু সুতো ও তাঁতের কাজ নয়। এর পেছনে থাকে কারিগরের দীর্ঘ শ্রম, ধৈর্য ও নিখুঁত দক্ষতা। বাতানিয়াপাড়ার কারিগরদের হাতে সেই ঐতিহ্যবাহী শিল্পই নতুন করে প্রাণ পেয়েছে। এই উদ্যোগ শুধু একটি কারখানা নয়, এটি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলেছে।
বিশেষ করে নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও কম নয়। কাঁচামালের বাড়তি দাম, দক্ষ কারিগর ধরে রাখা ও পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডেপুটি স্পিকারের এই পরিদর্শনকে তাই স্থানীয়রা শুধু একজন জনপ্রতিনিধির আগমন হিসেবে দেখছেন না।
তারা মনে করছেন, এর মধ্য দিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামের এই সম্ভাবনাময় হস্তশিল্পটি জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হলো। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাতানিয়াপাড়ার জামদানি এক দিন কলমাকান্দার ব্র্যান্ড হয়ে উঠবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন. এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামছুজ্জামান আসিফ, কলমাকান্দা থানার ওসি মো. সোহেল রানা, রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ আর নাজিম, রংছাতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রুকন পাঠানসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।



















