পটুয়াখালীর বাউফলের কেশবপুরে চাঞ্চল্যকর রানী বেগম হত্যা মামলায় মো. হালিম রাড়ি (৪৮) ও তার স্ত্রী পুষ্প বেগম (৪৫)কে দণ্ড দিয়েছেন আদালত। হালিম রাড়িকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে পুষ্প বেগমকে দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শহিদুল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় প্রধান আসামি মো. হালিম রাড়ি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তার স্ত্রী পুষ্প বেগম পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১১ ডিসেম্বর বিকেলে লাউগাছের গোড়ায় মাটি দেওয়াকে কেন্দ্র করে নিহত রানী বেগমের স্বামী মো. আবুল কাশেম রাড়ির সঙ্গে হালিম রাড়ির বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে পরদিন ১২ ডিসেম্বর ভোর সাড়ে ৬টার দিকে বাউফলের কেশবপুর এলাকায় আবুল কাশেম রাড়ির স্ত্রী রানী বেগমকে হত্যার উদ্দেশ্যে দা দিয়ে আঘাত করা হয়।
এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে নিহতের স্বামী আবুল কাশেম রাড়ি বাদী হয়ে হালিম রাড়ি ও তার স্ত্রী পুষ্প বেগমের বিরুদ্ধে বাউফল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় মোট ২২ জন সাক্ষীর মধ্যে বাদী, তদন্ত কর্মকর্তা ও চিকিৎসকসহ ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন বলেন, ২০২০ সালের ১২ ডিসেম্বর সংঘটিত এ হত্যা মামলায় দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক মো. শহিদুল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন। তিনি আরও জানান, রায় ঘোষণার সময় প্রধান আসামি হালিম রাড়ি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং অপর আসামি তার স্ত্রী পুষ্প বেগম পলাতক রয়েছেন।


















