মাদারীপুরের কালকিনিতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে বাদী ও তার পরিবারকে দফায় দফায় হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ৮ আসামির মধ্যে ৫ জন জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার রাতে আসামিরা হত্যা মামলার বাদী পক্ষকে নতুন মামলায় ফাঁসাতে আসামিরা তাদের নিজ বাড়ির বসত ঘরে অগ্নিসংযোগ ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এই নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা চলছে।
পু‌লিশ ও স্থানীয় সূ‌ত্রে জানা গে‌ছে, মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার উত্তর জনারদন্দি গ্রামের নশাই সরদারের ছেলে এহছাক সরদারের (৬০) সঙ্গে একই এলাকার ঝালু মোল্লার সাথে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। গত ২২ আগস্ট রাতে এহছাককে একা পেয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে প্রতিপক্ষের লোকজন। পরে তাকে উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্বজনেরা। উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর মারা যান এহছাক।
এ ঘটনায় পরের দিন নিহতের মেয়ে ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে ৮ জনের নামে কালকিনি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দিন ধরেই চরম উত্তেজনা চলছিল। এরপর হত্যা মামলার বাদী ও তার পরিবারকে দফায় দফায় হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে প্রতিপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে আসামিরা হত্যা মামলার বাদী পক্ষকে নতুন মামলায় ফাঁসাতে তাদের নিজ বাড়ির বসত ঘরে অগ্নিসংযোগ ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহত এহছাক সরদারের পরিবারের অভিযোগ, হত্যা মামলার মোড় অন্যদিকে নিতে ঘরে থাকা মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে এই আগুনের ঘটনা ঘটিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন।
এহছাক সরদার হত‌্যা মামলার বাদী ফা‌তেমা বেগম ব‌লেন, ‘আমার বাবা‌কে জ‌মি নি‌য়ে বি‌রো‌ধের জে‌রে কু‌পি‌য়ে হত‌্যা ক‌রে মে‌রে‌ছে ঝুলু মোল্লা ও তার লোকজন। এখন তারা আমা‌দের হয়রা‌নি করার জন‌্য নি‌জেরা তা‌দের এক‌টি ঘ‌রে আগুন লা‌গি‌য়ে আমা‌দের আসামি ক‌রে মামলা দা‌য়ে‌রের ষড়যন্ত্র শুরু ক‌রে‌ছে। প্রশাসনের কা‌ছে আমি তদন্ত পূর্বক এই ঘটনার বিচার চাই। সেই সা‌থে আমার বাবা‌কে যারা কু‌পি‌য়ে হত‌্যা ক‌রে‌ছে, তা‌দের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি কর‌ছি।’
স্থানীয় আনোয়ার সরদা‌র ব‌লেন, ‘আগুন দেওয়া পুরোনো বসত ঘরের পাশেই একটি নতুন উত্তোলন করা ঘর দেখা যায়। যেটিতে কোনো অগ্নিসংযোগের ঘটনার আলামত পাওয়া যায়নি। এতেই বোঝা যায়, তারা প‌রিক‌ল্পিতভা‌বে হয়রা‌নির উদ্দে‌শ্যে তা‌দের পুর‌নো ঘ‌রে আগুন দি‌য়েছে।’
কাল‌কি‌নি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জ‌হিরুল আলম ব‌লেন, আসামিদের বসত ঘরে আগুনের ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে, কেউ যাতে হয়রানি না হয় সে ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই বিষ‌য়ে অভিযুক্তরা ঘটনার পর থে‌কে পলাতক থাকায় তা‌দের কোনো বক্তব‌্য নেওয়া সম্ভব হয়‌নি।



















