দীর্ঘদিন মানুষের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেছেন। জনপ্রতিনিধি হয়েও এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যায় পাশে দাঁড়িয়েছেন। অথচ সেই সাইদা সুলতানা শেফালীর নিজেরই নেই নিরাপদ একটি বাসস্থান। তিন যুগেরও বেশি পুরোনো টিন, বাঁশ ও মাটির জরাজীর্ণ ঘরেই একা কাটছে তার জীবন।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের ভাটারা গ্রামের বাসিন্দা শেফালীর বয়স প্রায় ৫২ বছর। বৃষ্টি হলে ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ে। শীতের সময় কুয়াশা ও ঠান্ডায় বাড়ে দুর্ভোগ। পরিবারের একমাত্র সদস্য হিসেবে এই ঘরেই একা বসবাস করছেন তিনি। শিক্ষাজীবনে ১৯৮৭ সালে এসএসসি, ১৯৯৫ সালে এইচএসসি, ১৯৯৯ সালে বিএ এবং ২০০৪ সালে বিএড সম্পন্ন করেন শেফালী।
পরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। মানুষের সহযোগিতা করার ইচ্ছা থেকে আইন পেশায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখলেও মায়ের মৃত্যুর কারণে এলএলবিতে ভর্তি হওয়ার সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। ১৯৯৩ সালে ভাটারা ইউনিয়ন আনসার ও ভিডিপির ইউনিয়ন দলনেত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। দীর্ঘদিন মানুষের নিরাপত্তায় কাজ করার পর বয়সজনিত কারণে সম্প্রতি সেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পান।
জনপ্রতিনিধি হওয়ার পথেও ছিল সংগ্রাম। দুবার নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরও হাল ছাড়েননি। ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভাটারা ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে সংরক্ষিত নারী সদস্য নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পালনকালে এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা ও সুপারিশ করেছেন তিনি। ভাটারা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান বলেন, শেফালী দীর্ঘদিন মানুষের উপকার করেছেন।
মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে নিজের জন্য কিছু করতে পারেননি। তার থাকার মতো নিরাপদ বাসস্থানও নেই। সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শওকত জামিল বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















