আজ রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১১ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৪৭%

রাজধানীতে বাড়ছে জলবায়ু অভিবাসীর চাপ

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:14:01 am, Sunday, 27 September 2026
  • 13

রাজধানীতে বাড়ছে জলবায়ু অভিবাসীর চাপ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

তিস্তার ভাঙনে সব হারিয়ে কুড়িগ্রামের চিলমারীর অষ্টমীর চরের খলিলুর রহমান ও খোলপেটুয়ার ভাঙন ও লবণাক্ততার কারণে বসতভিটা-কাজ হারিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দুর্গাবাটি গ্রামের পার্থ মণ্ডল রাজধানী ঢাকার কড়াইল ও মিরপুর-১১ নম্বরের বস্তিতে এসে আশ্রয় নিয়েছেন।

এই দুজন ব্যক্তি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া লাখো মানুষের প্রতীকী চিত্র। জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হয়ে দেশজুড়ে এভাবে লাখ লাখ মানুষ শহরমুখী হতে বাধ্য হচ্ছেন। জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি ও অভিবাসন রোধে আইনি সুরক্ষা এবং টেকসই পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে এখনো বিরাট শূন্যতা বিরাজ করছে। নদীভাঙন ও বাস্তুচ্যুতির পরিসংখ্যান : ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে নদীভাঙন ও দুর্যোগজনিত বাস্তুচ্যুতি এ দেশের পুরোনো সমস্যা হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তা এখন ভয়াবহতায় রূপ নিয়েছে।

সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসের (সিইজিআইএস) তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ বছরে শুধু পদ্মা ও যমুনার ভাঙনে ৫০ হাজার ৯৫৫ হেক্টর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, যা সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তনের চেয়ে প্রায় ছয় গুণ বড়। এর মধ্যে যমুনায় ২৫ হাজার ২৯০ হেক্টর এবং পদ্মায় ২৫ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমি চিরতরে হারিয়ে গেছে। এই দুই প্রধান নদীর ভাঙনেই গত দুই দশকে ৫ লাখের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছেন।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫০ লাখ মানুষ প্রধান নদীগুলোর প্লাবনভূমিতে বসবাস করে মারাত্মক ভাঙনঝুঁঁকির মধ্যে রয়েছে, যার মধ্যে শুধু চরাঞ্চলেই বাস করেন প্রায় ২০ লাখ মানুষ। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টারের (আইডিএমসি) গ্লোবাল রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশে ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

তাদের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের (আইডিপি) সংখ্যা ৫ লাখে পৌঁছেছে। বিজ্ঞানভিত্তিক প্রক্ষেপণ বলছে, ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ তার উপকূলীয় ভূমির ১২.৩৪ থেকে ১৭.৯৫ শতাংশ পর্যন্ত হারাতে পারে। ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের প্রতি সাতজন নাগরিকের একজন জলবায়ু বাস্তুচ্যুত হওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ‘গ্রাউন্ডসওয়েল’ প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, ২০৫০ সালের মধ্যে শুধু বাংলাদেশেই প্রায় ১ কোটি ৯৯ লাখ মানুষ জলবায়ু কারণে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হতে পারে। যা দক্ষিণ এশিয়ার মোট জলবায়ু অভিবাসীর প্রায় অর্ধেক। লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও নদীভাঙনের কারণ : বাংলাদেশ একটি সক্রিয় বদ্বীপ হলেও হিমালয় থেকে নেমে আসার সময় নদীগুলো বিপুল পরিমাণ পলি বহন করে এবং যমুনা নদী বারবার তার চ্যানেল পরিবর্তন করায় নদীর গতি-প্রকৃতি ও ভাঙনের মাত্রা দ্রুত বাড়ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বার্ষিক বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা ও নদীপ্রবাহের বেগ বহুগুণ ত্বরান্বিত হচ্ছে। নদীর ওপর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধার কারণেও ভাঙন রোধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে, উপকূলীয় ও সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে একাধিক মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক কারণ। এর মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উজানে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ কমে যাওয়া, ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলন এবং জোয়ারের নোনাপানি সহজে লোকালয়ে ঢুকে পড়া অন্যতম প্রধান কারণ।

লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও নদীভাঙনের প্রভাব : নদীভাঙন ও লবণাক্ততার বহুমুখী প্রভাবে উপকূলীয় জনপদের অর্থনীতি, সমাজজীবন ও জীবিকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উত্তরে নদীভাঙনে যেমন বসতভিটা ও চাষের জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে, তেমনি উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে কৃষিজমি ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়েছে এবং ঐতিহ্যগত ধান চাষ প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে বিকল্প হিসেবে চিংড়ি চাষের চেষ্টা করা হলেও হোয়াইট স্পট ভাইরাসের আক্রমণ ও অন্যান্য রোগের কারণে তা-ও বারবার চরম হুমকির মুখে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই নোনাপানির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে নষ্ট হওয়া ও ক্ষতিগ্রস্ত মাটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বা কৃষি-উপযোগী করে তুলতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বছর সময় লেগে যেতে পারে। চাষের জমি, কৃষিকাজ ও সুপেয় পানির অভাবে প্রান্তিক মানুষ তাদের চিরাচরিত পেশা হারিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। নারীদের ওপর এর প্রভাব আরও মারাত্মক।

লবণাক্ততার কারণে গবাদি পশুর খাদ্য ও চারণভূমির সংকট দেখা দেওয়ায় সামগ্রিক গ্রামীণ অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে। আইনি শূন্যতা, সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা : জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ ঝুঁঁকিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনে সুনির্দিষ্ট কোনো আইনি কাঠামো বা জাতীয় গৃহায়ণনীতি নেই দেশে।

২০১২ সালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী দুর্যোগ ঝুঁঁকি হ্রাস, সাড়াদান এবং মানবিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হলেও জলবায়ু বাস্তুচ্যুতদের অধিকার সুরক্ষা বা স্থায়ী পুনর্বাসনের কোনো রূপরেখা আইনে নেই। সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে দেশের সব নাগরিকের জন্য অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয় ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও এই বিধান সরাসরি বিচারিকভাবে বলবৎযোগ্য নয়।

এ ছাড়া ১৮(ক) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র কর্তৃক পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের কথা বলা হলেও জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য কোনো নির্দিষ্ট আইনি অধিকার বা সাংবিধানিক সুরক্ষা সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। এ ছাড়া, ‘জাতীয় অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা কৌশল’ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালায় টেকসই সমাধানের কথা কাগজে-কলমে উল্লেখ থাকলেও বাস্তুচ্যুত মানুষের স্থায়ী পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা অত্যন্ত প্রকট।

সরকারের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে ত্রাণ হিসেবে কিছু সহায়তা বা টিন দেওয়া হলেও তা দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের জন্য মোটেও যথেষ্ট নয়। পরিবেশগত ন্যায়বিচার ও জলবায়ু নীতি বিশেষজ্ঞ ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জলবায়ু বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসনে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো এবং কার্যকর জাতীয় গৃহায়ণনীতির অভাব দেশের অন্যতম বড় সংকট। বিদ্যমান আইনে জরুরি ত্রাণ ও সাড়াদানের কথা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুতির স্থায়ী সমাধানের কোনো আইনি রূপরেখা নেই।

এ ছাড়া সংবিধানের মৌলিক অধিকারগুলো সরাসরি বিচারিকভাবে বলবৎযোগ্য না হওয়ায় বাস্তুচ্যুত মানুষেরা আইনি প্রতিকার থেকে বঞ্চিত হন। ’ এ জন্য অবিলম্বে সমন্বিত, বাধ্যতামূলক আইনি কাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন এই বিশেষজ্ঞ। বাস্তুচ্যুত হয়ে শহরে আসা পরিবারগুলোর ঝুঁকি : গ্রাম ও ভিটেমাটি হারিয়ে যেসব জলবায়ু অভিবাসী রাজধানী ঢাকার কড়াইল, সাততলা, মিরপুরের বস্তি, চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনাকীর্ণ ও ঘিঞ্জি এলাকায় আশ্রয় নেন, তাদের বড় একটা অংশ চরম অনিশ্চয়তা ও বহুমুখী ঝুঁঁকির মুখে পড়েন।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও দক্ষতার অভাবে তারা শহরে রিকশাচালক, দিনমজুর, গৃহকর্মী বা অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক হিসেবে কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হন। মেয়রস মাইগ্রেশন কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার মানুষ কাজের সন্ধানে ঢাকায় আসেন। অপরিকল্পিত ও ঝুঁঁকিপূর্ণ এসব বস্তি এলাকায় সুপেয় পানি, পয়নিষ্কাশন ও ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবার তীব্র অভাব থাকে।

ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ার কারণে প্রতিনিয়ত বস্তি উচ্ছেদ, আগুন লাগার ঘটনা এবং নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি তাদের মাথার ওপর ঝুলতে থাকে। নারী ও শিশুরা এসব স্থানে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিরাপত্তার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত থাকে। নগর পরিকল্পনা ও জলবায়ু অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ড. ইফতেখার আহমেদ বলেন, ‘এটি মারাত্মক মানবিক সংকটের জন্ম দিচ্ছে।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও দক্ষতার অভাবে এই মানুষগুলো অনানুষ্ঠানিক খাতে কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হন, ফলে তারা চিরস্থায়ী দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আটকে পড়েন। ’ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ আব্দুল লতিফ খান জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাধ্য হয়ে শহরমুখী হওয়া এই অভিবাসন কোনো পরিকল্পিত পদক্ষেপ নয়, বরং এটি নিছকই টিকে থাকার মরিয়া লড়াই।

সিইজিআইএসের উপদেষ্টা ড. মমিনুল হক সরকার ও বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুল ইসলাম যৌথ মতামতে উল্লেখ করেছেন, সুনির্দিষ্ট কারিগরি উদ্যোগের অভাব এবং নদীগুলোর ভাঙনপ্রবণ এলাকার নিয়মিত ও হালনাগাদ ডেটাবেজের ঘাটতির কারণে নদীভাঙন ও লবণাক্ততা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। সমন্বিত নদীশাসন পরিকল্পনা ছাড়া এই বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব নয় বলে তারা সতর্ক করেছেন।

উত্তরণের উপায় : এই সংকট উত্তরণে অবিলম্বে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের আইনি স্বীকৃতি প্রদান ও স্থায়ী পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে একটি পূর্ণাঙ্গ আইন (ক্লাইমেট ডিসপ্লেসমেন্ট প্রটেকশন অ্যাক্ট) প্রণয়ন করতে হবে এবং বিদ্যমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি কৌশলের মধ্যে নিবিড় সমন্বয় সাধন করতে হবে। একই সঙ্গে উপকূলীয় ও নদীভাঙন কবলিত স্থানীয় পর্যায়ে বহুমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জলবায়ু সহনশীল টেকসই গ্রামীণ জনপদ গড়ে তুলতে হবে।

এ ছাড়া শহরে আশ্রয় নেওয়া জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য নিরাপদ আবাসন, টেকসই জীবিকা ও মৌলিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে উচ্ছেদমূলক নীতি পরিহার করতে হবে। এ ছাড়া, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ও আধুনিক প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ, নদ-নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকার সুনির্দিষ্ট ডেটাবেজ তৈরি করে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল ও লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে যথাযথ সহায়তা পেতে সঠিক পরিসংখ্যান ও কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো অত্যন্ত জরুরি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ঠাকুরগাঁওয়ের লাহিড়ী হাটে গোপনে মজুত সরকারি সার জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

রাজধানীতে বাড়ছে জলবায়ু অভিবাসীর চাপ

Update Time : 12:14:01 am, Sunday, 27 September 2026

তিস্তার ভাঙনে সব হারিয়ে কুড়িগ্রামের চিলমারীর অষ্টমীর চরের খলিলুর রহমান ও খোলপেটুয়ার ভাঙন ও লবণাক্ততার কারণে বসতভিটা-কাজ হারিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দুর্গাবাটি গ্রামের পার্থ মণ্ডল রাজধানী ঢাকার কড়াইল ও মিরপুর-১১ নম্বরের বস্তিতে এসে আশ্রয় নিয়েছেন।

এই দুজন ব্যক্তি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া লাখো মানুষের প্রতীকী চিত্র। জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হয়ে দেশজুড়ে এভাবে লাখ লাখ মানুষ শহরমুখী হতে বাধ্য হচ্ছেন। জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি ও অভিবাসন রোধে আইনি সুরক্ষা এবং টেকসই পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে এখনো বিরাট শূন্যতা বিরাজ করছে। নদীভাঙন ও বাস্তুচ্যুতির পরিসংখ্যান : ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে নদীভাঙন ও দুর্যোগজনিত বাস্তুচ্যুতি এ দেশের পুরোনো সমস্যা হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তা এখন ভয়াবহতায় রূপ নিয়েছে।

সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসের (সিইজিআইএস) তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ বছরে শুধু পদ্মা ও যমুনার ভাঙনে ৫০ হাজার ৯৫৫ হেক্টর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, যা সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তনের চেয়ে প্রায় ছয় গুণ বড়। এর মধ্যে যমুনায় ২৫ হাজার ২৯০ হেক্টর এবং পদ্মায় ২৫ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমি চিরতরে হারিয়ে গেছে। এই দুই প্রধান নদীর ভাঙনেই গত দুই দশকে ৫ লাখের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছেন।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫০ লাখ মানুষ প্রধান নদীগুলোর প্লাবনভূমিতে বসবাস করে মারাত্মক ভাঙনঝুঁঁকির মধ্যে রয়েছে, যার মধ্যে শুধু চরাঞ্চলেই বাস করেন প্রায় ২০ লাখ মানুষ। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টারের (আইডিএমসি) গ্লোবাল রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশে ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

তাদের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের (আইডিপি) সংখ্যা ৫ লাখে পৌঁছেছে। বিজ্ঞানভিত্তিক প্রক্ষেপণ বলছে, ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ তার উপকূলীয় ভূমির ১২.৩৪ থেকে ১৭.৯৫ শতাংশ পর্যন্ত হারাতে পারে। ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের প্রতি সাতজন নাগরিকের একজন জলবায়ু বাস্তুচ্যুত হওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ‘গ্রাউন্ডসওয়েল’ প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, ২০৫০ সালের মধ্যে শুধু বাংলাদেশেই প্রায় ১ কোটি ৯৯ লাখ মানুষ জলবায়ু কারণে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হতে পারে। যা দক্ষিণ এশিয়ার মোট জলবায়ু অভিবাসীর প্রায় অর্ধেক। লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও নদীভাঙনের কারণ : বাংলাদেশ একটি সক্রিয় বদ্বীপ হলেও হিমালয় থেকে নেমে আসার সময় নদীগুলো বিপুল পরিমাণ পলি বহন করে এবং যমুনা নদী বারবার তার চ্যানেল পরিবর্তন করায় নদীর গতি-প্রকৃতি ও ভাঙনের মাত্রা দ্রুত বাড়ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বার্ষিক বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা ও নদীপ্রবাহের বেগ বহুগুণ ত্বরান্বিত হচ্ছে। নদীর ওপর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধার কারণেও ভাঙন রোধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে, উপকূলীয় ও সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে একাধিক মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক কারণ। এর মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উজানে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ কমে যাওয়া, ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলন এবং জোয়ারের নোনাপানি সহজে লোকালয়ে ঢুকে পড়া অন্যতম প্রধান কারণ।

লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও নদীভাঙনের প্রভাব : নদীভাঙন ও লবণাক্ততার বহুমুখী প্রভাবে উপকূলীয় জনপদের অর্থনীতি, সমাজজীবন ও জীবিকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উত্তরে নদীভাঙনে যেমন বসতভিটা ও চাষের জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে, তেমনি উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে কৃষিজমি ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়েছে এবং ঐতিহ্যগত ধান চাষ প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে বিকল্প হিসেবে চিংড়ি চাষের চেষ্টা করা হলেও হোয়াইট স্পট ভাইরাসের আক্রমণ ও অন্যান্য রোগের কারণে তা-ও বারবার চরম হুমকির মুখে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই নোনাপানির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে নষ্ট হওয়া ও ক্ষতিগ্রস্ত মাটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বা কৃষি-উপযোগী করে তুলতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বছর সময় লেগে যেতে পারে। চাষের জমি, কৃষিকাজ ও সুপেয় পানির অভাবে প্রান্তিক মানুষ তাদের চিরাচরিত পেশা হারিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। নারীদের ওপর এর প্রভাব আরও মারাত্মক।

লবণাক্ততার কারণে গবাদি পশুর খাদ্য ও চারণভূমির সংকট দেখা দেওয়ায় সামগ্রিক গ্রামীণ অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে। আইনি শূন্যতা, সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা : জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ ঝুঁঁকিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনে সুনির্দিষ্ট কোনো আইনি কাঠামো বা জাতীয় গৃহায়ণনীতি নেই দেশে।

২০১২ সালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী দুর্যোগ ঝুঁঁকি হ্রাস, সাড়াদান এবং মানবিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হলেও জলবায়ু বাস্তুচ্যুতদের অধিকার সুরক্ষা বা স্থায়ী পুনর্বাসনের কোনো রূপরেখা আইনে নেই। সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে দেশের সব নাগরিকের জন্য অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয় ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও এই বিধান সরাসরি বিচারিকভাবে বলবৎযোগ্য নয়।

এ ছাড়া ১৮(ক) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র কর্তৃক পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের কথা বলা হলেও জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য কোনো নির্দিষ্ট আইনি অধিকার বা সাংবিধানিক সুরক্ষা সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। এ ছাড়া, ‘জাতীয় অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা কৌশল’ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালায় টেকসই সমাধানের কথা কাগজে-কলমে উল্লেখ থাকলেও বাস্তুচ্যুত মানুষের স্থায়ী পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা অত্যন্ত প্রকট।

সরকারের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে ত্রাণ হিসেবে কিছু সহায়তা বা টিন দেওয়া হলেও তা দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের জন্য মোটেও যথেষ্ট নয়। পরিবেশগত ন্যায়বিচার ও জলবায়ু নীতি বিশেষজ্ঞ ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জলবায়ু বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসনে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো এবং কার্যকর জাতীয় গৃহায়ণনীতির অভাব দেশের অন্যতম বড় সংকট। বিদ্যমান আইনে জরুরি ত্রাণ ও সাড়াদানের কথা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুতির স্থায়ী সমাধানের কোনো আইনি রূপরেখা নেই।

এ ছাড়া সংবিধানের মৌলিক অধিকারগুলো সরাসরি বিচারিকভাবে বলবৎযোগ্য না হওয়ায় বাস্তুচ্যুত মানুষেরা আইনি প্রতিকার থেকে বঞ্চিত হন। ’ এ জন্য অবিলম্বে সমন্বিত, বাধ্যতামূলক আইনি কাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন এই বিশেষজ্ঞ। বাস্তুচ্যুত হয়ে শহরে আসা পরিবারগুলোর ঝুঁকি : গ্রাম ও ভিটেমাটি হারিয়ে যেসব জলবায়ু অভিবাসী রাজধানী ঢাকার কড়াইল, সাততলা, মিরপুরের বস্তি, চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনাকীর্ণ ও ঘিঞ্জি এলাকায় আশ্রয় নেন, তাদের বড় একটা অংশ চরম অনিশ্চয়তা ও বহুমুখী ঝুঁঁকির মুখে পড়েন।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও দক্ষতার অভাবে তারা শহরে রিকশাচালক, দিনমজুর, গৃহকর্মী বা অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক হিসেবে কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হন। মেয়রস মাইগ্রেশন কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার মানুষ কাজের সন্ধানে ঢাকায় আসেন। অপরিকল্পিত ও ঝুঁঁকিপূর্ণ এসব বস্তি এলাকায় সুপেয় পানি, পয়নিষ্কাশন ও ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবার তীব্র অভাব থাকে।

ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ার কারণে প্রতিনিয়ত বস্তি উচ্ছেদ, আগুন লাগার ঘটনা এবং নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি তাদের মাথার ওপর ঝুলতে থাকে। নারী ও শিশুরা এসব স্থানে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিরাপত্তার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত থাকে। নগর পরিকল্পনা ও জলবায়ু অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ড. ইফতেখার আহমেদ বলেন, ‘এটি মারাত্মক মানবিক সংকটের জন্ম দিচ্ছে।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও দক্ষতার অভাবে এই মানুষগুলো অনানুষ্ঠানিক খাতে কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হন, ফলে তারা চিরস্থায়ী দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আটকে পড়েন। ’ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ আব্দুল লতিফ খান জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাধ্য হয়ে শহরমুখী হওয়া এই অভিবাসন কোনো পরিকল্পিত পদক্ষেপ নয়, বরং এটি নিছকই টিকে থাকার মরিয়া লড়াই।

সিইজিআইএসের উপদেষ্টা ড. মমিনুল হক সরকার ও বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুল ইসলাম যৌথ মতামতে উল্লেখ করেছেন, সুনির্দিষ্ট কারিগরি উদ্যোগের অভাব এবং নদীগুলোর ভাঙনপ্রবণ এলাকার নিয়মিত ও হালনাগাদ ডেটাবেজের ঘাটতির কারণে নদীভাঙন ও লবণাক্ততা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। সমন্বিত নদীশাসন পরিকল্পনা ছাড়া এই বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব নয় বলে তারা সতর্ক করেছেন।

উত্তরণের উপায় : এই সংকট উত্তরণে অবিলম্বে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের আইনি স্বীকৃতি প্রদান ও স্থায়ী পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে একটি পূর্ণাঙ্গ আইন (ক্লাইমেট ডিসপ্লেসমেন্ট প্রটেকশন অ্যাক্ট) প্রণয়ন করতে হবে এবং বিদ্যমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি কৌশলের মধ্যে নিবিড় সমন্বয় সাধন করতে হবে। একই সঙ্গে উপকূলীয় ও নদীভাঙন কবলিত স্থানীয় পর্যায়ে বহুমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জলবায়ু সহনশীল টেকসই গ্রামীণ জনপদ গড়ে তুলতে হবে।

এ ছাড়া শহরে আশ্রয় নেওয়া জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য নিরাপদ আবাসন, টেকসই জীবিকা ও মৌলিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে উচ্ছেদমূলক নীতি পরিহার করতে হবে। এ ছাড়া, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ও আধুনিক প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ, নদ-নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকার সুনির্দিষ্ট ডেটাবেজ তৈরি করে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল ও লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে যথাযথ সহায়তা পেতে সঠিক পরিসংখ্যান ও কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো অত্যন্ত জরুরি।