আজ রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১১ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৪৭%

বারিধারায় উচ্চবিত্ত পরিবারের কিশোরের গাড়িচাপায় ফুটপাতে বসা নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:29:19 pm, Saturday, 26 September 2026
  • 15

বারিধারায় উচ্চবিত্ত পরিবারের কিশোরের গাড়িচাপায় ফুটপাতে বসা নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কাজের বিরতিতে বিকেলে বারিধারার ফুটপাতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ২৪ বছর বয়সী নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মিম। সে সময় উচ্চবিত্ত পরিবারের কিশোর আজান আলী শরীফের মায়ের দামি গাড়ির চাপায় তার প্রাণ যায়।

ঘটনা গত মঙ্গলবারের, ঘটনার পর অর্থ ও ক্ষমতার জোরে এবং পুলিশের কূটকচালে ওই কিশোরকে বাদ দিয়ে আরেক নিরাপদ চালক আকাশকে আসামি করা হয়। যদিও সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসায় গণমাধ্যম ও সোস্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার পর দ্বিতীয়বার তাকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কিশোর সংশোধনাগার কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এমন ঘটনা রাজধানীর অভিজাত এলাকা বারিধারা, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও উত্তরার নিয়মিত।

এসব এলাকার উচ্চবিত্ত পরিবারের বখে যাওয়া কিশোর-কিশোরীরা মধ্যরাত হলেই বেপরোয়া গতিতে কার বা বাইক রেসিং, পাড়া-মহল্লায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, এলাকাভিত্তিক আধিপত্য ও মারামারি, দেয়াললিখন দিয়ে সীমানা দখলের নামে রাজত্ব, সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষমতা প্রদর্শন করে আসছে। পরিবারের অর্থ-ক্ষমতার জোরে অপরাধ করেও ধামাচাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অসহায়, কারণ মুখে আইন সবার জন্য সমান বললেও অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর প্রকৃত দোষীকে আড়াল করে টাকার বিনিময়ে আপসের নামে দফারফা করে ফেলে।

রাজধানীর বারিধারা, গুলশান, ধানমন্ডি, বনানী ও উত্তরার মতো অভিজাত এলাকাগুলোতে তথাকথিত ‘অভিজাত’ বা ‘উচ্চবিত্ত’ কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সামাজিক উদ্বেগের একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিম্নবিত্ত বা বস্তি এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের তুলনায় এই এলাকাগুলোর গ্যাং কালচার ও অপরাধের ধরন কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির হয়ে থাকে।

দামি গাড়ি ও মোটরবাইক নিয়ে গভীর রাতে বা ফাঁকা রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে রেসিং করা এদের প্রধান শখ। এর ফলে প্রায়ই সাধারণ পথচারী ও অন্যান্য যানবাহন মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়। এই গ্যাংগুলো বিভিন্ন দামি মাদক (সিসা, এলএসডি, ক্রিস্টাল মেথ বা আইস) গ্রহণ এবং কেনাবেচায় জড়িয়ে পড়ে। ফ্ল্যাট বা রিসোর্ট ভাড়া নিয়ে ডিজে পার্টির আড়ালে চলে অনৈতিক কর্মকাণ্ড।

ফেসবুক গ্রুপ বা ইনস্টাগ্রামে নিজেদের গ্যাংয়ের নামে পেইজ খুলে অস্ত্রের মহড়া, মারামারি বা বিলাসী জীবনের ছবি ও ভিডিও আপলোড করে এরা নিজেদের ক্ষমতা জাহির করে। এক এলাকার গ্যাং অন্য এলাকার গ্যাংয়ের সঙ্গে তুচ্ছ ঘটনা (সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব, প্রেমঘটিত বিষয় বা তাকানো নিয়ে বিতর্ক) নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। কিশোর গ্যাংয়ের এই বিস্তার রোধে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও এসআরবি (সাবেক র‌্যাব) বিশেষ তৎপরতা চালাচ্ছে।

ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিয়মিত চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কেবল পুলিশি অভিযান বা আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে এই ‘অভিজাত’ কিশোর গ্যাং কালচার পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়; এর জন্য পারিবারিক সচেতনতা, নৈতিক শিক্ষার প্রসার এবং অভিভাবকদের কঠোর নজরদারি সবচেয়ে বেশি জরুরি।

যদিও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বর্তমানে কিশোর গ্যাং এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ও কঠোর অভিযানের ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে, তবু সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এককভাবে এই সামাজিক ব্যাধি দূর করতে পারবে না। যতক্ষণ না রাষ্ট্রীয়ভাবে আইন সংশোধন, রাজনৈতিক আশ্রয় বন্ধ এবং পারিবারিক নজরদারি নিশ্চিত করা হচ্ছে, ততক্ষণ পুলিশের এই অসহায়ত্ব কাটবে না।

ঢাকার অভিজাত এলাকাগুলোয় প্রতিদিন রাত নামলেই শুরু হয় অপরাধের ভিন্ন এক জগৎ। নামি-দামি নাইটক্লাব, মদের বার, সিসা লাউঞ্জ, স্পা সেন্টার ও অবৈধ গেস্ট হাউসগুলো এখন পরিণত হয়েছে মাদক, নারী ব্যবসা, অশ্লীল নাচ-গান, জুয়া ও চাঁদাবাজির অভয়ারণ্যে। ঢাকার এসব এলিট এলাকায় মাদক, নারী ব্যবসা, অশ্লীলতা, প্রতারণা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা হাতবদল হচ্ছে।

মাঝেমধ্যে অভিযান হলেও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় অপরাধচক্র দিনে দিনে আরও শক্তিশালী হচ্ছে। ডিএমপির গুলশান থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, আইনে উচ্চবিত্ত বলে কিছুই নেই। অপরাধী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু উচ্চবিত্ত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য নয়, গুলশান এলাকায় যেকোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

বনানী থানার ওসি মো. সালাহউদ্দিন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, অভিজাত এলাকার অধিকাংশ অপরাধের সঙ্গে কিশোরেরা জড়িত থাকে। পুলিশের পক্ষে নিয়মিত সচেতন করার পাশপাশি অপরাধ দমনে সচেষ্ট রয়েছি। আইন সবার জন্য সমান। গুলশান ও বনানী— এ দুই বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক এলাকায় কিশোর অপরাধের বড় অংশ আবর্তিত হয় বেপরোয়া কার রেসিং, মোটরবাইক স্ট্যান্ড এবং উচ্চমূল্যের মাদকের লেনদেন ঘিরে।

এ ছাড়া নামিদামি ফ্ল্যাট বা রেস্টুরেন্টে আয়োজিত ডিজে পার্টির আড়ালে গ্যাংগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রায়ই সহিংসতায় রূপ নেয়। বারিধারার কূটনৈতিক জোন হওয়ার কারণে এখানে কড়া নিরাপত্তা থাকলেও গভীর রাতে প্রভাবশালীদের সন্তানদের দামি গাড়ি ও এসইউভি নিয়ে বেপরোয়া গতির প্রতিযোগিতা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও বারিধারায় অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরের গাড়ি চালনার কারণে সাধারণ পথচারী ও শ্রমিক নিহতের মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

ধানমন্ডির লেকপাড়, রবীন্দ্রসরোবর এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের আশপাশের এলাকাগুলোকে কেন্দ্র করে গ্যাং কালচার গড়ে উঠেছে। এখানে মূলত সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব, প্রেমঘটিত বিরোধ এবং স্কুল-কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নিজেদের গ্যাংয়ে ভেড়ানোর প্রতিযোগিতা দেখা যায়। প্রভাবশালী ও ধনাঢ্য পরিবারের ব্যাকআপ— এই গ্যাংগুলোর অনেক সদস্যই উচ্চবিত্ত বা প্রশাসনিকভাবে প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান।

ফলে কোনো অপরাধে জড়ালে বা পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও পারিবারিক ক্ষমতার জোরে তারা সহজেই পার পেয়ে যায়। সাম্প্রতিক পুলিশি তদন্ত ও অভিযানে দেখা গেছে, আটক হওয়া বা ট্র্যাকিংয়ে থাকা অনেক কিশোরের মা-বাবাই জানেন না যে তাদের সন্তান গভীর রাতে কার সঙ্গে কোথায় মোটরসাইকেল বা গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ডিএমপির গুলশান বিভাগের ঊর্ধ্বতন একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, উচ্চবিত্ত পরিবারের বাবা-মায়েরা প্রায়ই ব্যাবসায়িক বা পেশাগত কাজে অতিরিক্ত ব্যস্ত থাকেন।

সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে টাকা-পয়সা ও দামি গ্যাজেট দিয়ে নিঃসঙ্গতা দূর করার চেষ্টা করেন, যা কিশোরদের ভুল পথে ধাবিত করে। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও বিলাসবহুল গাড়ি, বাইক এবং পকেটমানি হিসেবে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়ায় তারা সহজেই অপরাধমূলক ও মাদকের জগতে প্রবেশ করতে পারে। অনেক সময় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক বড় ভাইদের ছত্রছায়ায় এরা প্রশ্রয় পায়।

কোনো অপরাধ করলে সহজেই পার পেয়ে যাওয়ার মানসিকতা তাদের আরও বেপরোয়া করে তোলে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফা আখতার প্রীতি রূপালী বাংলাদেশকে জানান, বারিধারা, গুলশান, ধানমন্ডি, বনানীসহ অভিজাত এলাকায় কিশোর গ্যাং কালচারের প্রভাব ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এসব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যাটি কেবল আইনশৃঙ্খলার অবনতি নয়, বরং একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের এই অনলাইন আধিপত্য রুখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন এবং সিটিটিসি বর্তমানে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ফেসবুক, টিকটক বা ইনস্টাগ্রামে গ্যাং কালচার ছড়ায় এমন পেজ ও আইডিগুলো নিয়মিত ট্র্যাক করা হচ্ছে।

অপরাধমূলক কনটেন্ট বা অস্ত্রের ছবি আপলোড করামাত্রই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করার বিশেষ অভিযান চলছে। সাধারণ গাড়ির পাশাপাশি বিএমডব্লিউ, অডি, মার্সিডিজ বা হাই-অ্যান্ড-স্পোর্টস বাইক ব্যবহার করা হয়। অনেকেই গাড়ির এক্সহস্ট পাইপ মডিফাই করে, যার বিকট শব্দে মধ্যরাতে পুরো এলাকার মানুষের ঘুম ভেঙে যায় এবং হৃদরোগী ও শিশুদের জন্য তা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

তদন্তে দেখা গেছে, এই রেসারদের একটি বড় অংশ বিভিন্ন ডিজে পার্টি বা লাউঞ্জ থেকে মদ্যপ বা মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামে। ফলে তাদের ওপর গাড়ির নিয়ন্ত্রণ থাকে না বললেই চলে। বেপরোয়া গতির কারণে প্রায়ই গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইল্যান্ডে ধাক্কা খায় বা উল্টে যায়। এতে যেমন চালক নিজে মারা যায়, তেমনি রাস্তায় থাকা নিরীহ পথচারী, রিকশাচালক বা নৈশপ্রহরী পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান।

অনেক সময় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ বা টহল পুলিশ এদের থামানোর চেষ্টা করলে তারা পুলিশের ওপরই গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে এবং দ্রুতগতিতে পালিয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ট্রাফিক পুলিশ বর্তমানে মধ্যরাতের এই রেসিং থামাতে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। বিভিন্ন মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা ও স্পিড গান ব্যবহার করে গতি মাপার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যারিকেড দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

তবে প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়ায় অনেক সময় স্পট থেকে গাড়ি জব্দ বা মামলা দিলেও পরবর্তীতে তারা পার পেয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। দেয়াললিখন বা গ্রাফিতির মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ এবং রাজত্ব কায়েম করা কিশোর গ্যাং বা গ্যাং কালচারের অন্যতম একটি বিশ্বজনীন ও প্রাচীন কৌশল। ঢাকার অভিজাত এলাকায় এখন কিশোর গ্যাংগুলো নিজেদের প্রভাব, আধিপত্য ও রাজত্ব টিকিয়ে রাখতে এই কৌশল ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে।

কিশোর গ্যাংগুলোর কাজের একটি বড় অংশ হলো এলাকা ভাগ করে নেওয়া। কোনো নির্দিষ্ট দেয়াল বা এলাকায় যখন কোনো গ্যাং তাদের নাম লিখে দেয়, তখন এর মাধ্যমে অন্য গ্যাংগুলোকে বার্তা দেওয়া হয় যে, এই এলাকা আমাদের নিয়ন্ত্রণে এবং এখানে অন্য কারো প্রবেশ নিষেধ। দেয়াললিখন অনেক সময় প্রতিপক্ষ গ্যাংকে উসকানি বা হুমকি দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

যদি কোনো এলাকায় একটি গ্যাংয়ের দেয়াললিখনের ওপর অন্য আরেকটি গ্যাং দাগ কেটে দেয় বা নিজেদের নাম লিখে দেয়, তাহলে সেটি সরাসরি গ্যাং যুদ্ধের বা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সংকেত হিসেবে ধরা হয়। এলাকার দেয়ালে দেয়ালে গ্যাংয়ের নাম এবং প্রতীক দেখে উঠতি বয়সি বা স্কুলের কিশোরেরা সহজে আকৃষ্ট হয়। এই লিখনগুলো দেখে তারা বুঝতে পারে এলাকায় কার রাজত্ব চলছে।

ফলে স্থানীয় কিশোরেরা নিজেদের ‘নিরাপত্তা’ বা ‘ক্ষমতা’ জাহির করার লোভে সেই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে উদ্বুদ্ধ হয়। সাধারণ নাগরিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মনে ভীতি সৃষ্টি করতে এই দেয়াললিখন ব্যবহার করা হয়। কোনো দেয়ালে বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পাশে গ্যাংয়ের নাম লেখা থাকার অর্থ হলো— সেই এলাকায় ফুটপাত, দোকান বা জমি দখল এবং চাঁদাবাজির ওপর ওই গ্যাংয়ের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

সাধারণ মানুষ বা ব্যবসায়ীরা কোন্দলে জড়ানোর ভয়ে তাদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

নরসিংদীর মেঘনা নদী থেকে পুলিশের হারিয়ে যাওয়া ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

বারিধারায় উচ্চবিত্ত পরিবারের কিশোরের গাড়িচাপায় ফুটপাতে বসা নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

Update Time : 11:29:19 pm, Saturday, 26 September 2026

কাজের বিরতিতে বিকেলে বারিধারার ফুটপাতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ২৪ বছর বয়সী নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মিম। সে সময় উচ্চবিত্ত পরিবারের কিশোর আজান আলী শরীফের মায়ের দামি গাড়ির চাপায় তার প্রাণ যায়।

ঘটনা গত মঙ্গলবারের, ঘটনার পর অর্থ ও ক্ষমতার জোরে এবং পুলিশের কূটকচালে ওই কিশোরকে বাদ দিয়ে আরেক নিরাপদ চালক আকাশকে আসামি করা হয়। যদিও সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসায় গণমাধ্যম ও সোস্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার পর দ্বিতীয়বার তাকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কিশোর সংশোধনাগার কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এমন ঘটনা রাজধানীর অভিজাত এলাকা বারিধারা, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও উত্তরার নিয়মিত।

এসব এলাকার উচ্চবিত্ত পরিবারের বখে যাওয়া কিশোর-কিশোরীরা মধ্যরাত হলেই বেপরোয়া গতিতে কার বা বাইক রেসিং, পাড়া-মহল্লায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, এলাকাভিত্তিক আধিপত্য ও মারামারি, দেয়াললিখন দিয়ে সীমানা দখলের নামে রাজত্ব, সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষমতা প্রদর্শন করে আসছে। পরিবারের অর্থ-ক্ষমতার জোরে অপরাধ করেও ধামাচাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অসহায়, কারণ মুখে আইন সবার জন্য সমান বললেও অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর প্রকৃত দোষীকে আড়াল করে টাকার বিনিময়ে আপসের নামে দফারফা করে ফেলে।

রাজধানীর বারিধারা, গুলশান, ধানমন্ডি, বনানী ও উত্তরার মতো অভিজাত এলাকাগুলোতে তথাকথিত ‘অভিজাত’ বা ‘উচ্চবিত্ত’ কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সামাজিক উদ্বেগের একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিম্নবিত্ত বা বস্তি এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের তুলনায় এই এলাকাগুলোর গ্যাং কালচার ও অপরাধের ধরন কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির হয়ে থাকে।

দামি গাড়ি ও মোটরবাইক নিয়ে গভীর রাতে বা ফাঁকা রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে রেসিং করা এদের প্রধান শখ। এর ফলে প্রায়ই সাধারণ পথচারী ও অন্যান্য যানবাহন মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়। এই গ্যাংগুলো বিভিন্ন দামি মাদক (সিসা, এলএসডি, ক্রিস্টাল মেথ বা আইস) গ্রহণ এবং কেনাবেচায় জড়িয়ে পড়ে। ফ্ল্যাট বা রিসোর্ট ভাড়া নিয়ে ডিজে পার্টির আড়ালে চলে অনৈতিক কর্মকাণ্ড।

ফেসবুক গ্রুপ বা ইনস্টাগ্রামে নিজেদের গ্যাংয়ের নামে পেইজ খুলে অস্ত্রের মহড়া, মারামারি বা বিলাসী জীবনের ছবি ও ভিডিও আপলোড করে এরা নিজেদের ক্ষমতা জাহির করে। এক এলাকার গ্যাং অন্য এলাকার গ্যাংয়ের সঙ্গে তুচ্ছ ঘটনা (সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব, প্রেমঘটিত বিষয় বা তাকানো নিয়ে বিতর্ক) নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। কিশোর গ্যাংয়ের এই বিস্তার রোধে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও এসআরবি (সাবেক র‌্যাব) বিশেষ তৎপরতা চালাচ্ছে।

ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিয়মিত চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কেবল পুলিশি অভিযান বা আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে এই ‘অভিজাত’ কিশোর গ্যাং কালচার পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়; এর জন্য পারিবারিক সচেতনতা, নৈতিক শিক্ষার প্রসার এবং অভিভাবকদের কঠোর নজরদারি সবচেয়ে বেশি জরুরি।

যদিও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বর্তমানে কিশোর গ্যাং এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ও কঠোর অভিযানের ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে, তবু সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এককভাবে এই সামাজিক ব্যাধি দূর করতে পারবে না। যতক্ষণ না রাষ্ট্রীয়ভাবে আইন সংশোধন, রাজনৈতিক আশ্রয় বন্ধ এবং পারিবারিক নজরদারি নিশ্চিত করা হচ্ছে, ততক্ষণ পুলিশের এই অসহায়ত্ব কাটবে না।

ঢাকার অভিজাত এলাকাগুলোয় প্রতিদিন রাত নামলেই শুরু হয় অপরাধের ভিন্ন এক জগৎ। নামি-দামি নাইটক্লাব, মদের বার, সিসা লাউঞ্জ, স্পা সেন্টার ও অবৈধ গেস্ট হাউসগুলো এখন পরিণত হয়েছে মাদক, নারী ব্যবসা, অশ্লীল নাচ-গান, জুয়া ও চাঁদাবাজির অভয়ারণ্যে। ঢাকার এসব এলিট এলাকায় মাদক, নারী ব্যবসা, অশ্লীলতা, প্রতারণা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা হাতবদল হচ্ছে।

মাঝেমধ্যে অভিযান হলেও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় অপরাধচক্র দিনে দিনে আরও শক্তিশালী হচ্ছে। ডিএমপির গুলশান থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, আইনে উচ্চবিত্ত বলে কিছুই নেই। অপরাধী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু উচ্চবিত্ত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য নয়, গুলশান এলাকায় যেকোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

বনানী থানার ওসি মো. সালাহউদ্দিন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, অভিজাত এলাকার অধিকাংশ অপরাধের সঙ্গে কিশোরেরা জড়িত থাকে। পুলিশের পক্ষে নিয়মিত সচেতন করার পাশপাশি অপরাধ দমনে সচেষ্ট রয়েছি। আইন সবার জন্য সমান। গুলশান ও বনানী— এ দুই বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক এলাকায় কিশোর অপরাধের বড় অংশ আবর্তিত হয় বেপরোয়া কার রেসিং, মোটরবাইক স্ট্যান্ড এবং উচ্চমূল্যের মাদকের লেনদেন ঘিরে।

এ ছাড়া নামিদামি ফ্ল্যাট বা রেস্টুরেন্টে আয়োজিত ডিজে পার্টির আড়ালে গ্যাংগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রায়ই সহিংসতায় রূপ নেয়। বারিধারার কূটনৈতিক জোন হওয়ার কারণে এখানে কড়া নিরাপত্তা থাকলেও গভীর রাতে প্রভাবশালীদের সন্তানদের দামি গাড়ি ও এসইউভি নিয়ে বেপরোয়া গতির প্রতিযোগিতা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও বারিধারায় অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরের গাড়ি চালনার কারণে সাধারণ পথচারী ও শ্রমিক নিহতের মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

ধানমন্ডির লেকপাড়, রবীন্দ্রসরোবর এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের আশপাশের এলাকাগুলোকে কেন্দ্র করে গ্যাং কালচার গড়ে উঠেছে। এখানে মূলত সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব, প্রেমঘটিত বিরোধ এবং স্কুল-কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নিজেদের গ্যাংয়ে ভেড়ানোর প্রতিযোগিতা দেখা যায়। প্রভাবশালী ও ধনাঢ্য পরিবারের ব্যাকআপ— এই গ্যাংগুলোর অনেক সদস্যই উচ্চবিত্ত বা প্রশাসনিকভাবে প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান।

ফলে কোনো অপরাধে জড়ালে বা পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও পারিবারিক ক্ষমতার জোরে তারা সহজেই পার পেয়ে যায়। সাম্প্রতিক পুলিশি তদন্ত ও অভিযানে দেখা গেছে, আটক হওয়া বা ট্র্যাকিংয়ে থাকা অনেক কিশোরের মা-বাবাই জানেন না যে তাদের সন্তান গভীর রাতে কার সঙ্গে কোথায় মোটরসাইকেল বা গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ডিএমপির গুলশান বিভাগের ঊর্ধ্বতন একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, উচ্চবিত্ত পরিবারের বাবা-মায়েরা প্রায়ই ব্যাবসায়িক বা পেশাগত কাজে অতিরিক্ত ব্যস্ত থাকেন।

সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে টাকা-পয়সা ও দামি গ্যাজেট দিয়ে নিঃসঙ্গতা দূর করার চেষ্টা করেন, যা কিশোরদের ভুল পথে ধাবিত করে। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও বিলাসবহুল গাড়ি, বাইক এবং পকেটমানি হিসেবে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়ায় তারা সহজেই অপরাধমূলক ও মাদকের জগতে প্রবেশ করতে পারে। অনেক সময় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক বড় ভাইদের ছত্রছায়ায় এরা প্রশ্রয় পায়।

কোনো অপরাধ করলে সহজেই পার পেয়ে যাওয়ার মানসিকতা তাদের আরও বেপরোয়া করে তোলে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফা আখতার প্রীতি রূপালী বাংলাদেশকে জানান, বারিধারা, গুলশান, ধানমন্ডি, বনানীসহ অভিজাত এলাকায় কিশোর গ্যাং কালচারের প্রভাব ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এসব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যাটি কেবল আইনশৃঙ্খলার অবনতি নয়, বরং একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের এই অনলাইন আধিপত্য রুখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন এবং সিটিটিসি বর্তমানে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ফেসবুক, টিকটক বা ইনস্টাগ্রামে গ্যাং কালচার ছড়ায় এমন পেজ ও আইডিগুলো নিয়মিত ট্র্যাক করা হচ্ছে।

অপরাধমূলক কনটেন্ট বা অস্ত্রের ছবি আপলোড করামাত্রই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করার বিশেষ অভিযান চলছে। সাধারণ গাড়ির পাশাপাশি বিএমডব্লিউ, অডি, মার্সিডিজ বা হাই-অ্যান্ড-স্পোর্টস বাইক ব্যবহার করা হয়। অনেকেই গাড়ির এক্সহস্ট পাইপ মডিফাই করে, যার বিকট শব্দে মধ্যরাতে পুরো এলাকার মানুষের ঘুম ভেঙে যায় এবং হৃদরোগী ও শিশুদের জন্য তা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

তদন্তে দেখা গেছে, এই রেসারদের একটি বড় অংশ বিভিন্ন ডিজে পার্টি বা লাউঞ্জ থেকে মদ্যপ বা মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামে। ফলে তাদের ওপর গাড়ির নিয়ন্ত্রণ থাকে না বললেই চলে। বেপরোয়া গতির কারণে প্রায়ই গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইল্যান্ডে ধাক্কা খায় বা উল্টে যায়। এতে যেমন চালক নিজে মারা যায়, তেমনি রাস্তায় থাকা নিরীহ পথচারী, রিকশাচালক বা নৈশপ্রহরী পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান।

অনেক সময় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ বা টহল পুলিশ এদের থামানোর চেষ্টা করলে তারা পুলিশের ওপরই গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে এবং দ্রুতগতিতে পালিয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ট্রাফিক পুলিশ বর্তমানে মধ্যরাতের এই রেসিং থামাতে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। বিভিন্ন মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা ও স্পিড গান ব্যবহার করে গতি মাপার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যারিকেড দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

তবে প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়ায় অনেক সময় স্পট থেকে গাড়ি জব্দ বা মামলা দিলেও পরবর্তীতে তারা পার পেয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। দেয়াললিখন বা গ্রাফিতির মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ এবং রাজত্ব কায়েম করা কিশোর গ্যাং বা গ্যাং কালচারের অন্যতম একটি বিশ্বজনীন ও প্রাচীন কৌশল। ঢাকার অভিজাত এলাকায় এখন কিশোর গ্যাংগুলো নিজেদের প্রভাব, আধিপত্য ও রাজত্ব টিকিয়ে রাখতে এই কৌশল ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে।

কিশোর গ্যাংগুলোর কাজের একটি বড় অংশ হলো এলাকা ভাগ করে নেওয়া। কোনো নির্দিষ্ট দেয়াল বা এলাকায় যখন কোনো গ্যাং তাদের নাম লিখে দেয়, তখন এর মাধ্যমে অন্য গ্যাংগুলোকে বার্তা দেওয়া হয় যে, এই এলাকা আমাদের নিয়ন্ত্রণে এবং এখানে অন্য কারো প্রবেশ নিষেধ। দেয়াললিখন অনেক সময় প্রতিপক্ষ গ্যাংকে উসকানি বা হুমকি দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

যদি কোনো এলাকায় একটি গ্যাংয়ের দেয়াললিখনের ওপর অন্য আরেকটি গ্যাং দাগ কেটে দেয় বা নিজেদের নাম লিখে দেয়, তাহলে সেটি সরাসরি গ্যাং যুদ্ধের বা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সংকেত হিসেবে ধরা হয়। এলাকার দেয়ালে দেয়ালে গ্যাংয়ের নাম এবং প্রতীক দেখে উঠতি বয়সি বা স্কুলের কিশোরেরা সহজে আকৃষ্ট হয়। এই লিখনগুলো দেখে তারা বুঝতে পারে এলাকায় কার রাজত্ব চলছে।

ফলে স্থানীয় কিশোরেরা নিজেদের ‘নিরাপত্তা’ বা ‘ক্ষমতা’ জাহির করার লোভে সেই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে উদ্বুদ্ধ হয়। সাধারণ নাগরিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মনে ভীতি সৃষ্টি করতে এই দেয়াললিখন ব্যবহার করা হয়। কোনো দেয়ালে বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পাশে গ্যাংয়ের নাম লেখা থাকার অর্থ হলো— সেই এলাকায় ফুটপাত, দোকান বা জমি দখল এবং চাঁদাবাজির ওপর ওই গ্যাংয়ের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

সাধারণ মানুষ বা ব্যবসায়ীরা কোন্দলে জড়ানোর ভয়ে তাদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হন।