আফগানিস্তান সীমান্তে বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ২৮ জন জঙ্গিকে হত্যার দাবি করেছে পাকিস্তান। তবে পাকিস্তানের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। তাদের দাবি, হামলায় কোনো জঙ্গি নয়, বরং একই পরিবারের তিনজন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশনও তিন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রায় তিন মাস শান্ত থাকার পর দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্তে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দেশটির ভেতরে দুটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার জবাব হিসেবেই আফগানিস্তানের ভেতরে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
এর কিছুদিন আগে পাকিস্তানের কোহাটে একটি জঙ্গি হামলায় ২৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের দাবি, দেশটির ওপর হামলাকারী জঙ্গিরা আফগানিস্তানের ভেতরে অবস্থান করে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে পাকিস্তানের এই অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই অস্বীকার করে আসছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। নতুন হামলার পর তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
তালেবানের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, এই হামলার যথাযথ জবাব আফগানিস্তান দেবে। ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে কাবুলে নিযুক্ত পাকিস্তানি প্রতিনিধিকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তালেবান সরকারের দাবি, কোনার ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এতে একটি বাড়ি ধ্বংস হয়ে একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও চারজন।
নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশনও হামলায় তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান বলছে, সীমান্তের ওপারে আশ্রয় নেওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোই তাদের জন্য নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করছে। এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আফগানিস্তানের প্রতি পাকিস্তান বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
কিন্তু আফগানিস্তান পাকিস্তানের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে আসছে।


















