সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঝাউডাঙ্গা জোনাল অফিসের আওতাধীন ঝাউডাঙ্গা কলেজের পেছনের তুজলপুর মাঠে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোঃ সোহরাব হোসেন দফাদার (৩৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় কৃষকরা মাঠে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুতের খুঁটির নিচে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। নিহত সোহরাব হোসেন জেলার ধলবাড়িয়া এলাকার বাবলু দফাদারের ছেলে। স্থানীয় ও এলাকা সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতের কোনো এক সময় সংঘবদ্ধ চোরচক্র অথবা সোহরাব একাকী তুজলপুর মাঠের একটি গভীর নলকূপের (ডিটিডব্লিউ) কৃষি সেচ সংযোগের ট্রান্সফরমার চুরি করার উদ্দেশ্যে বিদ্যুতের খুঁটিতে ওঠেন।
ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ ও কয়েল খোলার একপর্যায়ে তিনি অসাবধানতাবশত মূল বিদ্যুৎ পরিবাহী তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুতায়িত হন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় এবং তিনি খুঁটি থেকে নিচে পড়ে যান। সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে তুজলপুর ও ঝাউডাঙ্গা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়। শত শত উৎসুক জনতা দুর্ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়।
ঘটনার খবর পেয়ে সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিনিধি দল দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আজিজুর রহমান জানান আমরা সন্দেহ করছি সেচ কাজের ব্যবহৃত গভীর নলকূপের থ্রি-ফেজ সংযোগের ৩টি ট্রান্সফরমারই চুরির প্রক্রিয়া চলছিল। ঘটনাস্থলে গিয়ে আমাদের প্রতিনিধিরা দেখেন চোরচক্র ১টি ট্রান্সফরমারের ভেতরে থাকা তামার কয়েল খুলে মাটিতে ফেলে রেখে গেছে এবং অপর ২টি ট্রান্সফরমারের ঢাকনা খোলা অবস্থায় খুঁটিতে ঝুলছিল।
পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের ধারণা, কয়েল চুরির শেষ মুহূর্তেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান জানান, “স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও ঘটনাস্থলের আলামত দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, গভীর রাতে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়েই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহতের ঘটনাটি ঘটেছে।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে আইনগত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



















