রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা এক রোগীকে প্রলোভন দেখিয়ে বাইরে বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে মো. রিয়াজ হোসেন (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা। পরে তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে শেরেবাংলানগার থানাধীন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। আনসার সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসাসেবা নিতে আসা এক রোগীকে লক্ষ্য করে রিয়াজ হোসেন বিভিন্ন ধরনের আশ্বাস ও প্রলোভন দেখিয়ে হাসপাতালের বাইরে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি বুঝতে পেরে রোগী কোনো প্রলোভনে সাড়া না দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যদের জানান।
খবর পেয়ে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ পিসি মো. আমিনুল হকের নেতৃত্বে চার সদস্যের আনসার টিম দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে। আনসার জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি দালালি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি বিভিন্ন সময় রোগী ও স্বজনদের সহজে চিকিৎসাসেবা এবং কম খরচে পরীক্ষা-নিরীক্ষার আশ্বাস দিয়ে হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করতেন বলেও জানান।
পরে আটক ব্যক্তিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কর্তৃপক্ষ তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। অভিযানে পিসি মো. আমিনুল হক, এপিসি জহিরুল ইসলাম, আনসার মো. হাবিবুর রহমান ও মো. আমিনুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দালালচক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও সাহসিকতার সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে প্রতারণা, হয়রানি কিংবা অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টা প্রতিরোধে অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের নজরদারি ও তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কোনো ব্যক্তি রোগী বা স্বজনকে প্রলোভন দেখিয়ে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে কিংবা চিকিৎসাসেবা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে সন্দেহজনক প্রস্তাব দিলে সতর্ক থাকার জন্য সেবা প্রত্যাশীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনা নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বরত আনসার সদস্য বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।



















