জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশের বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সিটি সার্ভিস এবং দূরপাল্লার—উভয় ধরনের বাসের ক্ষেত্রেই প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)-এর ভাড়া সমন্বয় কমিটি।
তবে বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা এবং মিনিবাসের ৮ টাকা আগের মতোই রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ভাড়া সমন্বয় কমিটির সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে ভাড়া পুনর্নির্ধারণের জন্য একটি সুপারিশ তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অতিরিক্ত মহাসচিব এএসএম আহমেদ খোকন জানান, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তঃজেলা বাসের বর্তমান কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা হতে পারে। অন্যদিকে নগর এলাকার বাসের ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৭৩ পয়সা করার কথা বলা হয়েছে। মালিক সমিতির পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি বিআরটিএর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিআরটিএর মাধ্যমে তা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া কমিটির এক সদস্যও জানান, দূরপাল্লা ও নগর—দুই ধরনের বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে যাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য সর্বনিম্ন ভাড়ায় কোনো পরিবর্তন আনার প্রস্তাব নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে ভাড়া আরও বেশি বাড়ানোর দাবি ছিল। তারা কিলোমিটারপ্রতি অন্তত ৪০ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
তবে কমিটির আলোচনায় শেষ পর্যন্ত ২০ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। এখন বিআরটিএর পক্ষ থেকে সুপারিশটি সরকারের কাছে পাঠানো হবে। এরপর ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, মঙ্গলবারের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। এর আগে রোববার রাতে সরকার চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।
প্রতি লিটার জ্বালানিতে ২০ টাকা করে দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে। সোমবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়। দেশের গণপরিবহনের বড় অংশ ডিজেলচালিত হওয়ায় জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাস পরিচালনার ব্যয়ে।
বাড়তি জ্বালানি খরচসহ পরিবহন খাতের অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বিবেচনা করেই এবার ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাসভাড়া সমন্বয় করা হয়েছিল। সে সময় ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বেড়ে ১১৫ টাকা হয়। ২৩ এপ্রিল জারি করা প্রজ্ঞাপনে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ২৩ পয়সা করা হয়।
একইভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসের ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫৩ পয়সা এবং ডিটিসিএ এলাকার মিনিবাসের ভাড়া ২ টাকা ৩২ পয়সা থেকে ২ টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। এরও আগে ২০২২ সালের আগস্টে ডিজেলের দাম ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হলে দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারপ্রতি ৪০ পয়সা এবং মহানগরের বাসে ৩৫ পয়সা ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল।
পরবর্তীতে ডিজেলের দাম ৫ টাকা কমানো হলে ওই বছরের ৩১ আগস্ট দূরপাল্লার বাসের ভাড়া ২ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমিয়ে ২ টাকা ১৫ পয়সা করা হয়। একই সময়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসের ভাড়া ২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমিয়ে ২ টাকা ৪৫ পয়সা করা হয়েছিল। এদিকে, ২০২৪ সালের এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৩ টাকা কমলেও বাসভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
সে সময় দূরপাল্লা ও মহানগরের ডিজেলচালিত বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ৩ পয়সা কমানোর সুপারিশ করেছিল বিআরটিএ।



















