ইতিহাদ স্টেডিয়ামে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ৫-৩ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয়ের মাধ্যমে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে এলো ম্যানচেস্টার সিটি। খেলা শেষ হওয়ার ছয় মিনিট বাকি থাকতে জশকো গভার্দিওলের বাড়ানো ক্রস থেকে গোল করেন আর্লিং হালান্ড।
তবে ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি বৈধ বলে গণ্য করা হয়। এই গোলের মধ্য দিয়ে আর্লিং হালান্ড প্রিমিয়ার লিগে তার মুখোমুখি হওয়া ২৫ দলের বিপক্ষে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করলেন। এদিন সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ৮১তম মিনিটে করা গোলটি ছিল সেই তালিকার শেষ সংযোজন। ইংল্যান্ডে চার বছরের বেশি সময়ে তিনি প্রিমিয়ার লিগের যেসব দলের মুখোমুখি হয়েছেন, তাদের সবার বিপক্ষেই গোল করার বৃত্তটি পূর্ণ হলো।
শীর্ষ লিগে ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে খেলাটা তিনি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছেন। হ্যামারসদের বিপক্ষে মাত্র আট ম্যাচেই তিনি ১১টি গোল করেছেন। ক্রিস্টাল প্যালেস এবং উলভস উভয় দলের বিপক্ষেই তিনি ১০টি করে গোল করেছেন। এ ছাড়া প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার ডার্বিতে নয়টি গোল করে তিনি এখন এই লড়াইয়ের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ফুলহ্যাম, এভারটন ও ব্রাইটনও হালান্ডের গোল করার অদম্য ক্ষুধার শিকার হয়েছে।
পাশাপাশি নিয়মিত শিরোপা প্রতিদ্বন্দ্বী আর্সেনালের বিপক্ষেও তিনি বড় ম্যাচগুলোয় জ্বলে উঠেছেন এবং তাদের বিপক্ষে ছয়টি গোল করেছেন। এমনকি শেফিল্ড ইউনাইটেড, লুটন টাউন এবং কভেন্ট্রির মতো দলের বিপক্ষে মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েও তিনি গোল করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে গোল পেতে তাকে তৃতীয়বারের মুখোমুখি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
এই সর্বশেষ গোলের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াল পাঁচে, যা তাকে এ বছরের ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের দৌড়ে প্রাথমিক পর্যায়ে এগিয়ে রেখেছে। ম্যানচেস্টার সিটিতে নিজের প্রথম চার মৌসুমের মধ্যে তিনবারই তিনি এই পুরস্কার জিতেছেন। এর মধ্যে ২০২২-২৩ মৌসুমে রেকর্ড ৩৬টি গোল করার কৃতিত্বও রয়েছে তার। সব মিলিয়ে প্রিমিয়ার লিগে ১৩৭ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা এখন ১১৭।
১৯৯২ সালে নতুনরূপে লিগটি শুরুর পর থেকে মাত্র ২২ জন খেলোয়াড় এর চেয়ে বেশি গোল করতে পেরেছেন। গত সপ্তাহেই তিনি ক্লাবের ১৩২ বছরের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন; টমি জনসনের ১৬৬ গোলের রেকর্ড তিনি ছাড়িয়ে গেছেন। হালান্ড এখন এরিক ব্রুকের রেকর্ডের খুব কাছাকাছি। তিনি ১৯২৮ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে ১৭৭ গোল করেছিলেন।
তবে সার্জিও আগুয়েরোর ২৬০ গোলের রেকর্ড থেকে তিনি এখনো বেশ কিছুটা দূরে।



















