চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেছেন, সিডিএকে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানকে সমান চোখে দেখতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এক আইন আর প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের জন্য অন্য আইন হলে চলবে না।
মাস্টারপ্ল্যানে শিল্প কারখানা, স্কুল, হাসপাতাল নির্মাণের ক্ষেত্রে জোনভিত্তিক প্ল্যানিং করা জরুরি। যাতে শিক্ষা জোনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই হয়, হাসপাতাল জোনে হাসপাতালই হয়। পাশাপাশি পেট্রোকেমিক্যালসহ বিভিন্ন শিল্প কারাখানা গড়ে তুলতে জোনভিত্তিক ডিটেইল ম্যাপিং করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, রাস্তার পাশে কিংবা ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা ভাসমান দোকানগুলো ভ্যাট, ট্যাক্স দেয় না, কিন্তু তাদের কারণে যানজট যেমন হচ্ছে তেমনি সরকারও রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে।
তাই তাদের পুনর্বাসন করে হকার মুক্ত ফুটপাত ও সড়ক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে ‘ব্যবসাবান্ধব পরিকল্পিত নগরায়ন বাস্তবতা ও প্রত্যাশা: প্রেক্ষাপট- বৃহত্তর চট্টগ্রাম এলাকার খসড়া মহাপরিকল্পনা (২০২৫-২০৫০)’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় চেম্বার সভাপতি এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন অনুযায়ী চট্টগ্রাম নগর সত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিক নগরী, সবুজ ও নান্দনিক নগরীতে রূপান্তরিত করতে কাজ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। পাহাড় ও সমুদ্র বেষ্টিত এই অপার সৌন্দর্যময় চট্টগ্রামকে সবার সহযোগিতায় জলাবদ্ধতা, যানজট ও দূষণমুক্ত এবং সব নাগরিক সুবিধা সম্বলিত পরিকল্পিত বাসযোগ্য শহর হিসাবে গড়ে তুলতে চাই।
বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও রূপটপ সোলার প্যানেল বসানোকে আইনের মাধ্যমে বাধ্যবাধকতায় পরিণত করে কীভাবে টেকসই ভবন নির্মাণ করা যায় সে লক্ষ্যে জাতীয়ভাবে গণপূর্ত, স্বরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, ২০২৫-৫০ সাল পর্যন্ত ২৫ বছরের একটি মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কাজ করছে সিডিএ।
মাস্টার প্ল্যানে কোথায় স্কুল হবে কোথায় হাসপাতাল হবে এবং কোথায় শিল্পাঞ্চল ও আবাসিক এলাকা হবে তা উল্লেখ থাকবে। কীভাবে এ মাস্টার প্ল্যানকে আরো কার্যকর করা যায় সেই বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। বর্তমানে সিডিএতে জনবল সংকটসহ নানা সমস্যা থাকলেও ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে যেকোন বিষয়ে ত্বরিৎ সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে।
ভবনের ডিজাইন অনুমোদনের জন্য এখন আর মাসের পর মাস ঘুরতে হবে না। সর্বোচ্চ ৩০-৪৫ দিনের মধ্যে ভবনের ডিজাইন অনুমোদন দেওয়া হবে। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিল্প কারখানা করার ক্ষেত্রে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বাসা বাড়ির সামনে ময়লা ফেললে তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা এবং বিল্ডিং কোড ও ডিজাইন অনুযায়ী ভবন নির্মাণ না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি জানান।
আগ্রাবাদ এলাকায় এক্সপ্রেসওয়ের র‌্যাম্প ও লুপ নির্মাণের জন্য নতুন করে প্রকল্প নেয়ার বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি। চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ বলেন, মাস্টার প্ল্যানের খসড়ায় গণকবর, রূপটপ সোলার প্যানেল বসানো এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা ও স্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সন্নিবেশ মাস্টার প্ল্যানকে আকর্ষণীয় করবে।
চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আউটার রিং রোড ৮ লেন করা প্রয়োজন। কারণ বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী-কর্ণফুলী টানেল কোস্টাল রোড প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এই সড়কের ওপর চাপ আরো বাড়বে। তিনি মীরসরাই থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পাহাড়ের ভ্যালিগুলোকে বৃষ্টি পানি সংরক্ষণের আওতায় আনা, সদরঘাট থেকে কর্ণফুলী ব্রিজ পর্যন্ত তীরবর্তী ওয়াকওয়ে নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর (একাডেমিক) ড. মোহাম্মদ আল-আমিন মাস্টার প্ল্যানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বিকেন্দ্রীকরণ এবং রূপটপ সোলারের মাধ্যমে কার্বন ট্রেডিং ও আরবার গ্রিন এরিয়া বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা বলেন, মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে হলে সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি।
রেললাইনের সাথে সড়ক যোগাযোগ ও নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা সমন্বয় করা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস মোকাবেলায় উপকূলীয় বনায়ন, যানজট কমাতে বাস বে এবং ভবন অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে অতিথিদের গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করা, আউটার অ্যান্ড ইনার সার্কুলার রোড নির্মাণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সভায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রফেসর ড. কামাল হোসেন, চুয়েট’র সহকারী প্রফেসর তন্দ্রা দাশ, চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এমএ ছালাম, বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী, রাশিয়ার অনারারি কনসাল স্থপতি আশিক ইমরান, চেম্বার পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী, এসএম সাইফুল আলম, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম ও শহীদুল আলম, চেম্বারের সাবেক পরিচালক ড. মঈনুল ইসলাম মাহমুদ, এসএম আবু তৈয়ব ও ইঞ্জিনিয়ার ইফতেখার হোসেন, পেডরোলো এন কে লিমিটেডের চেয়ারম্যান নাদের খান, শান শাইন গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান সাফিয়া গাজী রহমান, লুব-রেফ’র এমডি মোহাম্মদ ইউসুফ, স্টাইল লিভিং আর্কিটেক্টস লিমিটেডের মো. মিজানুর রহমান, সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী চৌধুরী, রিহ্যাব চট্টগ্রাম অঞ্চলের চেয়ারম্যান মো. মোরশেদুল হাসান, এশিয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার বেলায়েত হোসেন, ফয়সাল আসিফ রহমান বক্তব্য দেন।
এ সময় চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী, পরিচালক কামাল মোস্তফা চৌধুরী, আমান উল্লা আল ছগির (ছুট্টু), আবু হায়দার চৌধুরী (আমজাদ), ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম সরওয়ার, মো. জাহিদুল হাসান, এএসএম ইসমাইল খান, ক্যাপ্টেন মো. আলাউদ্দিন আল আজাদ ও সরোয়ার আলম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


















