আজ শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৬ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩৬°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১৮%

জাতিসংঘ অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্কে নজিরবিহীন নিরাপত্তা, জারি ‘গ্রিডলক অ্যালার্ট’

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:52:53 pm, Saturday, 19 September 2026
  • 13

জাতিসংঘ অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্কে নজিরবিহীন নিরাপত্তা, জারি ‘গ্রিডলক অ্যালার্ট’

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে অভূতপূর্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা।

বিশ্বনেতাদের আগমনকে ঘিরে ম্যানহাটনের একটি বড় অংশজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় তৈরি করার পাশাপাশি পুরো সপ্তাহজুড়ে তীব্র যানজটের আশঙ্কায় ‘গ্রিডলক অ্যালার্ট’ জারি করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানী ও পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিটির বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।

২১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন চলবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, অধিবেশনকে ঘিরে সুনির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা হুমকি না থাকলেও বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সম্ভাব্য বিক্ষোভের কথা বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (NYPD) পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস, এফবিআই (FBI), স্টেট ডিপার্টমেন্ট ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিস এবং জাতিসংঘ পুলিশ যৌথভাবে এই নিরাপত্তা জোনে কাজ করছে।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরের আশপাশের এলাকায় ভারী অস্ত্রধারী দল, কে-৯ ডগ স্কোয়াড, বোম্ব স্কোয়াড, কাউন্টার-টেররিজম ইউনিট ও বিশেষ ড্রোন টিম মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড ও এনওয়াইপিডির হারবার ইউনিট ইস্ট রিভারে সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে। জাতিসংঘের চারপাশের আকাশসীমায় বিমান ও অননুমোদিত ড্রোন ওড়ানোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বা ‘নো-ফ্লাই জোন’ জারি করা হয়েছে।

নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন (NYC DOT) অধিবেশন চলাকালীন কর্মদিবসগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে যানজটের জন্য ‘গ্রিডলক অ্যালার্ট ডে’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ম্যানহাটনের ফার্স্ট অ্যাভিনিউ (৪১ থেকে ৪৮ স্ট্রিট) এবং ৪২ স্ট্রিটের একটি বড় অংশসহ ৩০টিরও বেশি সড়ক পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বনেতাদের মোটরকেড চলাচলের সময় যেকোনো রাস্তা হঠাৎ সাময়িকভাবে বন্ধ (রোলিং ক্লোজার) করে দেওয়া হচ্ছে।

পরিবহন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সপ্তাহে মিডটাউন ম্যানহাটনে গাড়ির গতি কমে ঘণ্টায় ৪ মাইলের নিচে নেমে আসতে পারে, যা বছরের মধ্যে সবচেয়ে ধীরগতির ট্রাফিক। এই স্থবিরতা এড়াতে নিউইয়র্কের বাসিন্দা ও চাকরিজীবীদের ব্যক্তিগত গাড়ি পরিহার করে সাবওয়ে, ফেরি বা সাইকেলের মতো গণপরিবহন ব্যবহারের জন্য জরুরি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সিটির ট্রাফিক আপডেট জানতে NYC DOT-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এবারের সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ শীর্ষস্থানীয় বিশ্বনেতারা সশরীরে যোগ দিচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সিটিতে প্রতিদিন একাধিক রাজনৈতিক বিক্ষোভের কর্মসূচি থাকায় পুলিশকে বাড়তি সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।

তবে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অধিবেশনে ২৪ সেপ্টেম্বর তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ভাষণ দেওয়ার পরদিন ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

সফরকালে তিনি জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত কয়েকটি আলোচনায় যোগ দেবেন। একই সময়ে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও হওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোর মধ্যে উন্নয়ন, মহামারি মোকাবিলা ও প্রস্তুতি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।

সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রোহিঙ্গা সংকটসহ আরও কয়েকটি ইস্যুতে বাংলাদেশ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে তারেক রহমানের সঙ্গে কয়েকটি দেশের শীর্ষ নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।

সম্ভাব্য বৈঠকের তালিকায় রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-সাবাহ, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচ এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ।

এ ছাড়া জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্তোনিও কস্তা, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডান নেলসনের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে।

সফরের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজেও তারেক রহমানের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর আরও কয়েক দিন বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। কয়েকটি প্রতিবেদনে ২১ থেকে ২৯ বা ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পাশাপাশি সানফ্রান্সিসকো সফরের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল।

তবে পরবর্তী সময়ে সানফ্রান্সিসকো সফর বাতিল করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সফর সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্তে সরকারি ব্যয় কমানো এবং সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এদিকে নিউইয়র্কে নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজনের বিষয়েও পরিবর্তন এসেছে। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে এ বিষয়ে একাধিক তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, সরকারি অর্থ খরচ করে বড় পরিসরে নাগরিক সংবর্ধনা নেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আগ্রহী নন।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি গিয়াস আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের উদ্যোগে সংবর্ধনা আয়োজন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে তারেক রহমান সরকারি অর্থ ব্যয়ে এমন আয়োজন করতে সম্মতি দেননি। পরে দলীয় নেতাকর্মীদের নিজস্ব অর্থায়নে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ৩ সন্তানকে নিয়ে বাবার কীটনাশক পান, প্রাণ গেল ৩ শিশুর

জাতিসংঘ অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্কে নজিরবিহীন নিরাপত্তা, জারি ‘গ্রিডলক অ্যালার্ট’

Update Time : 12:52:53 pm, Saturday, 19 September 2026

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে অভূতপূর্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা।

বিশ্বনেতাদের আগমনকে ঘিরে ম্যানহাটনের একটি বড় অংশজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় তৈরি করার পাশাপাশি পুরো সপ্তাহজুড়ে তীব্র যানজটের আশঙ্কায় ‘গ্রিডলক অ্যালার্ট’ জারি করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানী ও পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিটির বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।

২১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন চলবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, অধিবেশনকে ঘিরে সুনির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা হুমকি না থাকলেও বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সম্ভাব্য বিক্ষোভের কথা বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (NYPD) পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস, এফবিআই (FBI), স্টেট ডিপার্টমেন্ট ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিস এবং জাতিসংঘ পুলিশ যৌথভাবে এই নিরাপত্তা জোনে কাজ করছে।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরের আশপাশের এলাকায় ভারী অস্ত্রধারী দল, কে-৯ ডগ স্কোয়াড, বোম্ব স্কোয়াড, কাউন্টার-টেররিজম ইউনিট ও বিশেষ ড্রোন টিম মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড ও এনওয়াইপিডির হারবার ইউনিট ইস্ট রিভারে সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে। জাতিসংঘের চারপাশের আকাশসীমায় বিমান ও অননুমোদিত ড্রোন ওড়ানোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বা ‘নো-ফ্লাই জোন’ জারি করা হয়েছে।

নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন (NYC DOT) অধিবেশন চলাকালীন কর্মদিবসগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে যানজটের জন্য ‘গ্রিডলক অ্যালার্ট ডে’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ম্যানহাটনের ফার্স্ট অ্যাভিনিউ (৪১ থেকে ৪৮ স্ট্রিট) এবং ৪২ স্ট্রিটের একটি বড় অংশসহ ৩০টিরও বেশি সড়ক পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বনেতাদের মোটরকেড চলাচলের সময় যেকোনো রাস্তা হঠাৎ সাময়িকভাবে বন্ধ (রোলিং ক্লোজার) করে দেওয়া হচ্ছে।

পরিবহন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সপ্তাহে মিডটাউন ম্যানহাটনে গাড়ির গতি কমে ঘণ্টায় ৪ মাইলের নিচে নেমে আসতে পারে, যা বছরের মধ্যে সবচেয়ে ধীরগতির ট্রাফিক। এই স্থবিরতা এড়াতে নিউইয়র্কের বাসিন্দা ও চাকরিজীবীদের ব্যক্তিগত গাড়ি পরিহার করে সাবওয়ে, ফেরি বা সাইকেলের মতো গণপরিবহন ব্যবহারের জন্য জরুরি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সিটির ট্রাফিক আপডেট জানতে NYC DOT-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এবারের সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ শীর্ষস্থানীয় বিশ্বনেতারা সশরীরে যোগ দিচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সিটিতে প্রতিদিন একাধিক রাজনৈতিক বিক্ষোভের কর্মসূচি থাকায় পুলিশকে বাড়তি সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।

তবে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অধিবেশনে ২৪ সেপ্টেম্বর তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ভাষণ দেওয়ার পরদিন ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

সফরকালে তিনি জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত কয়েকটি আলোচনায় যোগ দেবেন। একই সময়ে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও হওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোর মধ্যে উন্নয়ন, মহামারি মোকাবিলা ও প্রস্তুতি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।

সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রোহিঙ্গা সংকটসহ আরও কয়েকটি ইস্যুতে বাংলাদেশ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে তারেক রহমানের সঙ্গে কয়েকটি দেশের শীর্ষ নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।

সম্ভাব্য বৈঠকের তালিকায় রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-সাবাহ, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচ এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ।

এ ছাড়া জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্তোনিও কস্তা, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডান নেলসনের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে।

সফরের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজেও তারেক রহমানের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর আরও কয়েক দিন বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। কয়েকটি প্রতিবেদনে ২১ থেকে ২৯ বা ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পাশাপাশি সানফ্রান্সিসকো সফরের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল।

তবে পরবর্তী সময়ে সানফ্রান্সিসকো সফর বাতিল করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সফর সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্তে সরকারি ব্যয় কমানো এবং সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এদিকে নিউইয়র্কে নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজনের বিষয়েও পরিবর্তন এসেছে। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে এ বিষয়ে একাধিক তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, সরকারি অর্থ খরচ করে বড় পরিসরে নাগরিক সংবর্ধনা নেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আগ্রহী নন।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি গিয়াস আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের উদ্যোগে সংবর্ধনা আয়োজন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে তারেক রহমান সরকারি অর্থ ব্যয়ে এমন আয়োজন করতে সম্মতি দেননি। পরে দলীয় নেতাকর্মীদের নিজস্ব অর্থায়নে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।