আজ শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৬ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩৪°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২৪%

রাজশাহীতে ফ্ল্যাটে নারীসহ পুলিশের পরিদর্শক, ৯৯৯-এ ফোন করলেন স্ত্রী দাবিদার নারী

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:45:13 pm, Friday, 18 September 2026
  • 16

রাজশাহীতে ফ্ল্যাটে নারীসহ পুলিশের পরিদর্শক, ৯৯৯-এ ফোন করলেন স্ত্রী দাবিদার নারী

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাজশাহীর একটি ফ্ল্যাটে এক নারীসহ অবস্থান করছিলেন পুলিশের একজন পরিদর্শক। এ সময় নিজেকে ওই পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী দাবি করে ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেন অন্য এক নারী। বারবার ডাকাডাকি করার পরও ভেতর থেকে দরজা না খোলায় অবশেষে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন।

পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ওই পুলিশ কর্মকর্তা ও নারীকে বের করে থানায় নিয়ে যান। রাজশাহী নগরের চন্দ্রিমা থানার নাদের হাজির মোড় এলাকায় শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। ফ্ল্যাট থেকে থানায় নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তার নাম মাহবুব আলম। তিনি ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে নাদের হাজির মোড়ের একটি ভাড়া বাসায় মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ নামের এক নারী অবস্থান করছিলেন। ওই ফ্ল্যাটে সাধারণত মাহবুব আলমের পালিত মেয়ে ও তার স্বামী থাকেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সেখানে যান আন্নি আক্তার নামের এক নারী। তিনি নিজেকে মাহবুব আলমের স্ত্রী দাবি করেন।

তার অভিযোগ, ফ্ল্যাটের ভেতরে মাহবুব আলমের সঙ্গে অন্য এক নারী রয়েছেন। দীর্ঘ সময় দরজায় ডাকাডাকি করেও সাড়া না পাওয়ায় তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানান। আন্নির দাবি, ৯৯৯-এ ফোন করার পর চন্দ্রিমা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তবে ভেতরে মাহবুব আলম রয়েছেন জানতে পেরে পুলিশ দরজা ভাঙেনি। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে কর্মীরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।

এরপর মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে ফ্ল্যাট থেকে বের করে থানায় নেওয়া হয়। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সানজিদা কোনো কথা বলেননি। মাহবুব আলম দাবি করেন, সানজিদা তার স্ত্রী। তবে তার সঙ্গে সানজিদার বিয়ের কাবিননামা দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে আন্নি আক্তার দাবি করেন, তিনি মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনের সময় মাহবুব আলম একাধিক বিয়ে করেছেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে।

এ বছরের শুরুতে তার সঙ্গে মাহবুবের বিয়ে হয় বলেও দাবি করেন তিনি। আন্নির আরও অভিযোগ, এর আগেও রাজশাহী নগরের পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুব আলমের নিজস্ব ফ্ল্যাটে সানজিদাকে তার সঙ্গে পেয়েছিলেন। তখন সামাজিক মর্যাদার কথা বিবেচনা করে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি বলে জানান তিনি। তবে মাহবুব আলম এসব অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।

তার দাবি, আন্নি আক্তারকে চারদিন আগে তিনি তালাক দিয়েছেন। এ-সংক্রান্ত একটি কাগজ তিনি পুলিশের কাছে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে আন্নির দাবি, তালাকের কোনো কাগজ তিনি পাননি। আন্নি আক্তার বলেন, তিনি এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে চান। শুক্রবার দুপুরে অভিযোগের বিষয়ে থানায় লেখালেখি চলছিল। এ সময় মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে থানার পৃথক কক্ষে রাখা হয়।

মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালে এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তাকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে, অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করে রাজশাহী আসার বিষয়টিও সামনে এসেছে। সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ বলেন, মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই এবং তিনি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও রাজশাহী যাননি। তার ভাষ্য, বিনা অনুমতিতে কর্মস্থল ত্যাগ করা শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়। মাহবুব আলম নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত এবং বিষয়টি সেখানে জানানো হয়েছে।

প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নওগাঁ জেলা পুলিশ নেবে। চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা থানায় আসার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

কুমিল্লায় কুবি শিক্ষিকার নিখোঁজ সন্তানের মরদেহ উদ্ধার, আটক ১

রাজশাহীতে ফ্ল্যাটে নারীসহ পুলিশের পরিদর্শক, ৯৯৯-এ ফোন করলেন স্ত্রী দাবিদার নারী

Update Time : 03:45:13 pm, Friday, 18 September 2026

রাজশাহীর একটি ফ্ল্যাটে এক নারীসহ অবস্থান করছিলেন পুলিশের একজন পরিদর্শক। এ সময় নিজেকে ওই পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী দাবি করে ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেন অন্য এক নারী। বারবার ডাকাডাকি করার পরও ভেতর থেকে দরজা না খোলায় অবশেষে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন।

পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ওই পুলিশ কর্মকর্তা ও নারীকে বের করে থানায় নিয়ে যান। রাজশাহী নগরের চন্দ্রিমা থানার নাদের হাজির মোড় এলাকায় শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। ফ্ল্যাট থেকে থানায় নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তার নাম মাহবুব আলম। তিনি ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে নাদের হাজির মোড়ের একটি ভাড়া বাসায় মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ নামের এক নারী অবস্থান করছিলেন। ওই ফ্ল্যাটে সাধারণত মাহবুব আলমের পালিত মেয়ে ও তার স্বামী থাকেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সেখানে যান আন্নি আক্তার নামের এক নারী। তিনি নিজেকে মাহবুব আলমের স্ত্রী দাবি করেন।

তার অভিযোগ, ফ্ল্যাটের ভেতরে মাহবুব আলমের সঙ্গে অন্য এক নারী রয়েছেন। দীর্ঘ সময় দরজায় ডাকাডাকি করেও সাড়া না পাওয়ায় তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানান। আন্নির দাবি, ৯৯৯-এ ফোন করার পর চন্দ্রিমা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তবে ভেতরে মাহবুব আলম রয়েছেন জানতে পেরে পুলিশ দরজা ভাঙেনি। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে কর্মীরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।

এরপর মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে ফ্ল্যাট থেকে বের করে থানায় নেওয়া হয়। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সানজিদা কোনো কথা বলেননি। মাহবুব আলম দাবি করেন, সানজিদা তার স্ত্রী। তবে তার সঙ্গে সানজিদার বিয়ের কাবিননামা দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে আন্নি আক্তার দাবি করেন, তিনি মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনের সময় মাহবুব আলম একাধিক বিয়ে করেছেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে।

এ বছরের শুরুতে তার সঙ্গে মাহবুবের বিয়ে হয় বলেও দাবি করেন তিনি। আন্নির আরও অভিযোগ, এর আগেও রাজশাহী নগরের পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুব আলমের নিজস্ব ফ্ল্যাটে সানজিদাকে তার সঙ্গে পেয়েছিলেন। তখন সামাজিক মর্যাদার কথা বিবেচনা করে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি বলে জানান তিনি। তবে মাহবুব আলম এসব অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।

তার দাবি, আন্নি আক্তারকে চারদিন আগে তিনি তালাক দিয়েছেন। এ-সংক্রান্ত একটি কাগজ তিনি পুলিশের কাছে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে আন্নির দাবি, তালাকের কোনো কাগজ তিনি পাননি। আন্নি আক্তার বলেন, তিনি এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে চান। শুক্রবার দুপুরে অভিযোগের বিষয়ে থানায় লেখালেখি চলছিল। এ সময় মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে থানার পৃথক কক্ষে রাখা হয়।

মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালে এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তাকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে, অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করে রাজশাহী আসার বিষয়টিও সামনে এসেছে। সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ বলেন, মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই এবং তিনি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও রাজশাহী যাননি। তার ভাষ্য, বিনা অনুমতিতে কর্মস্থল ত্যাগ করা শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়। মাহবুব আলম নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত এবং বিষয়টি সেখানে জানানো হয়েছে।

প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নওগাঁ জেলা পুলিশ নেবে। চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা থানায় আসার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।