গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ দেখতে পান গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পরও ফটক না খোলায়, শেষমেশ পাশের দেয়াল টপকে এবং কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করেন।
সেখানে কোনো চিকিৎসক বা মেডিকেল কর্মকর্তা ছিলেন না বলে জানান তিনি। কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীকে ভেতরে বসে থাকতে দেখা যায়। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে সাংসদ এ পরিস্থিতি দেখতে পান। তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিও। পরিদর্শন শেষে অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, কেন্দ্রের প্রধান ফটকের তালায় মরিচা পড়েছিল।
দেখে মনে হয়েছে, এটি দীর্ঘদিনের পুরোনো তালা। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর পাশের দেয়াল টপকে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন। তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই, মেডিকেল অফিসার নেই। গাজীপুর ইউনিয়ন একটি প্রত্যন্ত এলাকা। এখানকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। এখান থেকে শ্রীপুর উপজেলা শহর, গাজীপুর শহর কিংবা ঢাকায় যাতায়াত করাও সহজ নয়।
তাই এখানে একজন মেডিকেল অফিসার থাকা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীন হওয়ায় এ বিষয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট পরিচালকের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। বিষয়টি তাদের জানিয়েছেন। দুই দিন আগে অধিদপ্তরের একজন উপপরিচালক কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন বলেও জানতে পেরেছেন তিনি। ওই পরিদর্শনের প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধান ফটকের চাবি না থাকার বিষয়ে ইউনিয়ন ফ্যামিলি প্ল্যানিং ইনস্পেক্টর হাসান আল মামুন বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রধান ফটকের চাবি ভুলবশত বাড়িতে রেখে এসেছি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আপেল মাহমুদ বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে পাঁচটি পদের বিপরীতে বর্তমানে কোনো জনবল নেই।
কয়েকজন মাঠকর্মী মাঠে যাওয়ার আগে সেখানে মিটিং করেন। সাংসদ সদস্য হঠাৎ পরিদর্শনে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ইউনিয়নটি উপজেলা সদর থেকে দূরে হওয়ায় এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখানে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় জনবল থাকলে স্থানীয় মানুষের উপজেলা বা জেলা শহরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার ভোগান্তি কমত।



















