আজ বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৩ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
৩৫°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৫%

রাজধানীর বংশালে মেস থেকে জবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:55:39 am, Wednesday, 16 September 2026
  • 12

রাজধানীর বংশালে মেস থেকে জবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাজধানীর বংশালের চানখারপুলের কায়েতটুলি এলাকার একটি মেসের কক্ষ থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অনিক চন্দ্র পাল নামের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত অনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মেসের কক্ষ থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। অনিকের মেসসঙ্গী ও জবি শিক্ষার্থী জয় ভূঁইয়া জানান, সোমবার থেকে অনিকের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার রাতে অনিকের এক সহপাঠী ফোনে তাকে না পেয়ে মেসে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার অনুরোধ করেন।

এরপর জয় ও ওই সহপাঠী অনিকের কক্ষের সামনে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি। জয় ভূঁইয়ার ভাষ্য, কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তারা সন্দেহ করেন। পরে জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে তাকালে অনিককে ফ্যানের সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় দেখতে পান। এরপর দরজা খুলে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সহপাঠী ও মেসের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে অনিকের প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়েছিল বলে তারা জানান। এরপর থেকে তিনি অনেকটা নীরব ও একাকী হয়ে পড়েছিলেন বলে তাদের ভাষ্য। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ ও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানান তারা। ঘটনার খবর পেয়ে ঢামেক হাসপাতালে যান জবি ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সুবাস পাল।

তিনি বলেন, “স্টুডেন্টরা আমাকে ঘটনা জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছাই। কিন্তু ততক্ষণে আমাদের স্টুডেন্ট আর বেঁচে ছিল না। ” পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে সুবাস পাল বলেন, “আমি ওর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। ওর বাবার সঙ্গেও কথা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা আসার পর মেডিকেল ও থানার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

স্বজনদের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ” অনিকের গ্রামের বাড়ি সিলেট জেলার শিবপুর উপজেলায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে অনিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদের বিষয়টি সামনে এলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’

রাজধানীর বংশালে মেস থেকে জবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

Update Time : 11:55:39 am, Wednesday, 16 September 2026

রাজধানীর বংশালের চানখারপুলের কায়েতটুলি এলাকার একটি মেসের কক্ষ থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অনিক চন্দ্র পাল নামের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত অনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মেসের কক্ষ থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। অনিকের মেসসঙ্গী ও জবি শিক্ষার্থী জয় ভূঁইয়া জানান, সোমবার থেকে অনিকের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার রাতে অনিকের এক সহপাঠী ফোনে তাকে না পেয়ে মেসে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার অনুরোধ করেন।

এরপর জয় ও ওই সহপাঠী অনিকের কক্ষের সামনে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি। জয় ভূঁইয়ার ভাষ্য, কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তারা সন্দেহ করেন। পরে জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে তাকালে অনিককে ফ্যানের সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় দেখতে পান। এরপর দরজা খুলে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সহপাঠী ও মেসের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে অনিকের প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়েছিল বলে তারা জানান। এরপর থেকে তিনি অনেকটা নীরব ও একাকী হয়ে পড়েছিলেন বলে তাদের ভাষ্য। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ ও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানান তারা। ঘটনার খবর পেয়ে ঢামেক হাসপাতালে যান জবি ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সুবাস পাল।

তিনি বলেন, “স্টুডেন্টরা আমাকে ঘটনা জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছাই। কিন্তু ততক্ষণে আমাদের স্টুডেন্ট আর বেঁচে ছিল না। ” পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে সুবাস পাল বলেন, “আমি ওর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। ওর বাবার সঙ্গেও কথা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা আসার পর মেডিকেল ও থানার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

স্বজনদের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ” অনিকের গ্রামের বাড়ি সিলেট জেলার শিবপুর উপজেলায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে অনিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদের বিষয়টি সামনে এলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।