রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে নদীর পানি নামলেও চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। দক্ষিণ তীরের চরখিদিরপুর, খানপুরসহ বিস্তীর্ণ চর এলাকা এখনো পানির নিচে থাকায় পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন অনেক পরিবার।
প্লাবিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট। একই সঙ্গে গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা। বুধবার সকাল পর্যন্ত রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ দশমিক ২৫ মিটার। বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটারের তুলনায় পানি এখন ৮০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাউবোর মিটারগেজ পাঠক এনামুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পাউবো সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ২৮ মিটার। একই দিন বিকেলে তা কমে ১৭ দশমিক ২৭ মিটারে দাঁড়ায়। মঙ্গলবার দুপুরে আরও কমে ১৭ দশমিক ২৫ মিটারে নেমে আসে। এতে নদীর পানি কমার প্রবণতা স্পষ্ট হলেও চরাঞ্চলের প্লাবিত এলাকা থেকে পানি দ্রুত সরে যাচ্ছে না।
পাউবোর মিটারগেজ পাঠক এনামুল হক বলেন, রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ বর্তমানে ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাঁধের কোথাও ঝুঁকির সৃষ্টি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে রাজশাহী শহরের বিপরীত পাশে ভারত সীমান্তঘেঁষা চরখিদিরপুর ও খানপুরের অধিকাংশ এলাকা এখনো পানিতে নিমজ্জিত। এসব এলাকার অনেক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
কোথাও কোথাও বাড়িঘরের আশপাশে পানি থাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তালাইমারী থেকে বাঁধসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকাতেও পানির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। পানিবন্দি মানুষের সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দেখা দিয়েছে নিরাপদ খাবার পানি ও খাদ্য। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে গবাদিপশুর জন্যও তৈরি হয়েছে সংকট। অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে।
ফলে একদিকে বসতভিটা নিয়ে অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে গবাদিপশু ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী রক্ষার চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। তালাইমারী এলাকার বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, আগের দিনের তুলনায় পানি কিছুটা কমেছে। কিন্তু এখনো বাড়িঘরের ভেতর ও আশপাশে পানি রয়েছে। গবাদিপশুগুলোও স্বাভাবিক জায়গায় রাখা যাচ্ছে না। পানি পুরোপুরি কবে নামবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নদীর পানি কমতে শুরু করলেও চরাঞ্চলের ঘরবাড়ি, রাস্তা ও আবাদি জমি থেকে পানি সরে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরতে আরও সময় লাগবে। এ অবস্থায় দুর্গত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পাশাপাশি গবাদিপশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পদ্মার পানি কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকলেও দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ অবসানে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্লাবিত চরাঞ্চল থেকে পানি সরে যাওয়া এবং সেখানে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনা।


















