যশোরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে অভয়নগরে পাঁচজন, বাঘারপাড়ায় তিনজন, চৌগাছায় চারজন, ঝিকরগাছায় একজন, কেশবপুরে একজন, মণিরামপুরে দুজন, শার্শায় চারজন এবং যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঁচজন ভর্তি হয়েছেন।
এ নিয়ে চলতি বছরে জেলায় ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬ জন। তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত ডেঙ্গু রোগীর প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যশোরের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ১ হাজার ২৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
তাদের মধ্যে ৯২৬ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৯৩ জন। পাঁচজনকে অন্যত্র রেফার করা হয়েছে। উপজেলাভিত্তিক হিসাবে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এ উপজেলায় এ পর্যন্ত ৫০১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪৭১ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন, ২৬ জন বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং চারজনকে অন্যত্র রেফার করা হয়েছে।
বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ পর্যন্ত ৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬০ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং তিনজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন। চৌগাছায় ভর্তি হয়েছেন ১৯ জন। তাদের মধ্যে ১২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং সাতজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ পর্যন্ত ৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং তিনজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
কেশবপুরে ভর্তি হয়েছেন ১২২ জন। তাঁদের মধ্যে ১১২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন, নয়জন চিকিৎসাধীন এবং একজনকে অন্যত্র রেফার করা হয়েছে। মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ পর্যন্ত ৫২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪৩ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং নয়জন বর্তমানে চিকিৎসাধীন। শার্শায় এ পর্যন্ত ৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং বর্তমানে ১৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এ পর্যন্ত ১৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪৪ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং বর্তমানে ২১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া দুজনই যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাদের একজন মণিরামপুর পৌর এলাকার পূর্ণ বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব (৪৫)। গত ৯ জুন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ জুলাই তার মৃত্যু হয়।
অপরজন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর গ্রামের গৌতমের স্ত্রী রেখা রানী (৫০)। ৯ জুলাই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দিনই তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৯৩ রোগীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন অভয়নগরে ২৬ জন। এরপর যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ২১ জন, শার্শায় ১৫ জন, কেশবপুর ও মণিরামপুরে নয়জন করে, চৌগাছায় সাতজন এবং বাঘারপাড়া ও ঝিকরগাছায় তিনজন করে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বাড়িঘর ও আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হয়। তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এডিস মশার বংশবিস্তার বন্ধ করতে না পারলে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত বলেন, হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এরপরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


















