লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনেক ঘরেই থাকছেন না বরাদ্দ পাওয়া আসল উপকারভোগীরা। কোথাও তালাবদ্ধ, আবার কোথাও অন্যের কাছে ঘর ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে নজরদারির অভাবে রাত নামলেই এসব খালি ঘর ও বারান্দায় জমে উঠছে মাদকসেবী, জুয়াড়ি ও বহিরাগতদের নিরাপদ আস্তানা, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃত পুনর্বাসিতদের জন্য চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে রামগঞ্জের ১০টি স্থানে প্রথম থেকে তৃতীয় পর্যায়ে মোট ৩১৫টি ঘর নির্মাণ করা হয়, যেখানে প্রতিটি ঘর ও দুই শতক জমি বাবদ ব্যয় হয় প্রায় ২ লাখ টাকা। তবে স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, প্রকৃত ভূমিহীনদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে এসব ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ফলে অধিকাংশ বরাদ্দপ্রাপ্তই সেখানে থাকেন না। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ৪ নম্বর ইছাপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-সংলগ্ন ৯৪টি ঘরের মধ্যে বসবাস করছেন মাত্র ৪৩ জন। ৫ নম্বর চ-ীপুর ইউনিয়নের গণেশের বাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৩০ থেকে ৩৫ জন মূল বরাদ্দপ্রাপ্ত ছাড়া বাকি ঘরগুলোতে হয় অন্যরা ভাড়া থাকেন, নয়তো খালি পড়ে আছে। আবার ৬ নম্বর লামচর ইউনিয়নের লামচর দিঘির পাড় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৭টি ঘরের মধ্যে ১৫টিতে আসল মালিকেরা রয়েছেন, ১৭টিতে অনাত্মীয়রা বসবাস করছেন এবং পাঁচটি ঘর পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনের বেলায় জনশূন্য থাকলেও সন্ধ্যার পর এসব ফাঁকা ঘর ও বারান্দায় মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আড্ডা বসে। ফলে স্থানীয় নারী, শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় রৌশনারা বেগম, সফিকুল ইসলাম, আবু তাহেরসহ ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা ভুয়া বরাদ্দ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তারা দ্রুত প্রতিটি ঘর পুনরায় যাচাই-বাছাই করে এবং যারা ঘরে থাকছেন না তাদের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীনদের পুনর্বাসন এবং রাতে নিয়মিত পুলিশ টহলের জোর দাবি তুলেছেন।
বিষয়টি নিয়ে রামগঞ্জ মডেল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, কেবল ঘর আর জমি দিলেই পুনর্বাসন সফল হয় না; সঙ্গে যোগযোগব্যবস্থা, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সুবিধাও নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে প্রকল্পের কাক্ষিত সুফল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ বিষয়ে রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, কয়েকটি প্রকল্পে ইতিমধ্যে অভিযান চালানো হয়েছে এবং বাকি এলাকাগুলোতেও নজরদারি বাড়িয়ে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
অন্যদিকে ইউএনও কাজী আতিকুর রহমান বলেন, ‘বরাদ্দ পাওয়ার পরও যারা ঘরে বসবাস করছেন না, তাদের বিষয়ে দ্রুত কঠোর তদন্ত ও যাচাই-বাছাই করা হবে। যারা প্রকৃত উপকারভোগী নন বা ঘরে বসবাস করছেন না, তাদের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত ব্যক্তিদের বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।


















