সরকারি খাস জমি বন্দোবস্তে অনিয়মের অভিযোগ তুলে রাজশাহীর তানোরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন একদল ভূমিহীন গ্রামবাসী। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে তানোর উপজেলা প্রশাসনিক কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকদের দাবি, মানববন্ধনে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন। পরে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের হাতে বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এর মধ্যে ‘ভূমিদস্যুর বিচার চাই’ লেখা ব্যানারও ছিল।
মানববন্ধনকারীদের অভিযোগ, উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের হরিশপুর মৌজায় থাকা সরকারি খাস জমির একটি অংশ প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে বন্দোবস্ত না হয়ে প্রভাবশালী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের নামে বন্দোবস্তের প্রক্রিয়া চলছে। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের হরিশপুর মৌজার জে.এল. নম্বর–৩৯ এলাকায় প্রায় ১১৫ দশমিক ৫ একর জমি নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
স্মারকলিপির তফসিলে এ জমির আওতাধীন একাধিক দাগের উল্লেখ রয়েছে। তবে মানববন্ধনকারীদের বক্তব্য, অভিযোগটি শুধু একটি জমি বা একটি দাগকে কেন্দ্র করে নয়; হরিশপুর মৌজার আরও একাধিক জমির বন্দোবস্ত ও মালিকানা-সংক্রান্ত বিষয় এর সঙ্গে জড়িত। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস ও চাষাবাদ করে আসছেন বেশ কিছু ভূমিহীন পরিবার।
তাদের দাবি, প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এসব জমির ওপর নির্ভরশীল। ফলে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্তের ক্ষেত্রে প্রকৃত ভূমিহীনদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। মানববন্ধনকারীদের অভিযোগ, কয়েকজন ব্যক্তি সরকারি খাস জমির বিভিন্ন অংশ নিজেদের অথবা স্বজনদের নামে বন্দোবস্ত নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। এ ছাড়া কোনো কোনো জমির নামজারি, খারিজ এবং ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
এসব বিষয়ে সরকারি রেকর্ড ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। ভূমিহীন এলাকাবাসীর পক্ষে মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন আব্দুল আওয়াল ও মিজানুর রহমান। তারা বলেন, প্রকৃত ভূমিহীনদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী বা সচ্ছল ব্যক্তিদের নামে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হলে ভূমিহীনরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
তাই সরকারি নথিপত্র যাচাই, মাঠপর্যায়ে সরেজমিন তদন্ত এবং প্রকৃত ভূমিহীনদের তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। এদিকে মানববন্ধনকারীরা নুরুল ইসলাম, রুস্তম আলী, এনামুল ও নুরনাহার উম্মে খাদিজাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জমি বন্দোবস্তের বিষয়ে অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে রুস্তম আলী মুঠোফোনে বলেন, আমরা সব নিয়ম মেনে এবং দীর্ঘদিন আইনি লড়াই শেষে বৈধভাবে জমির মালিক হয়েছি। আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। আইন অনুযায়ী জমি ফেরত নেওয়ার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তা-ও করা হবে।
এ বিষয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জানা হবে। তদন্তের পর আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানববন্ধন শেষে দেওয়া স্মারকলিপিতে হরিশপুর মৌজার জে.এল. নম্বর–৩৯ এলাকার প্রায় ১১৫ দশমিক ৫ একরসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক জমির সরকারি রেকর্ড, নামজারি ও বন্দোবস্ত-সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে সরেজমিন তদন্ত করে প্রকৃত ভূমিহীনদের অধিকার নিশ্চিত এবং জমি বন্দোবস্তের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবি জানান মানববন্ধনকারীরা।


















