বকুল এই যে গন্ধমাখা বকুল ফুল ফুটেছে, চাঁদ ওঠেছে গগনে। বইছে জোয়ার নদী কূলে, তীর ভেঙেছে ভীষণ ঢেউয়ে। ধান খেয়ে সব সাবাড় করছে বনের কালো শালিকে। দোয়েল ময়না কোকিল গাইছে বসন্তময় লগনে। জোছনা এলে বাড়ির পাশে ধান মাড়াচ্ছে কৃষক।
আঁধার মাখা রাত শেষে এলো দিনের প্রহর। সব কিছুই আছে দেখি এই না ভুবনজুড়ে তুই তো ফিরে আর আসবি না, থাকিস ভীষণ দূরে। মৃত্যু মৃত্যু পেখম মেলেছে, কী চমৎকার নাচ জুড়েছে আঙ্গিনায়! খানিক পরে উড়বে টানা মেলে। পুরনো স্মৃতির সেতারা বেজে ওঠছে হৃদয়ের অলিন্দ নিলয়ে। জারি হয়েছে হুলিয়া ; গিলে ফেলবে এই আমায়। লাল গোলাপ হাতে দাঁড়িয়ে আছে প্রিয়তমা, একদিকে মৃত্যুও ডাকছে আমায়।
কার আহ্বানে সাড়া দিব? আমি মৃত্যু উপেক্ষা করে প্রিয়তমার সঙ্গে অভিসারে বিরহ মিলনে মত্ত। এবার নাই মৃত্যু… প্রিয়তমা আর আমি একাকার, আমরা জেগে দেখি স্বর্গে আছি। রোজনামচা জীবন খরচ করে ফেলছি খুচরা পয়সার মতো, কখনো বাজারে সদাই কিনতে গিয়ে জীবন খরচ হয়ে গেছে। কখনো গোলাপের খরিদ্দার হতে গিয়ে জীবন ভাঙিয়ে মূল্য পরিশোধ করেছি। কখনো আদালতের বারান্দায় মিথ্যা মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে জীবন শেষ করে ফেলেছি।
জীবনতো অহেতুক জেলাখানায়ও খরচ করে এসেছি। জীবন খরচ করে ফেলেছি প্রিয়তমার গলির পথে হাঁটতে গিয়ে। কখনো বা প্রেমিকার সঙ্গে খোশগল্প করতে গিয়ে জীবন খরচ করে ফেলেছি। টেরই পাইনি বাড়ির পাশে বিলে বক, ডাহুক ধরতে ফাঁদ পাততে গিয়ে জীবন খরচ করে ফেলেছি। জীবন খরচ করে এসেছি ফসলের মাঠে ঘুড়ি উড়াতে গিয়ে। জীবন খরচ করে এসেছি ফুলের জলসায়, প্রেমিকার অপেক্ষায় কখনো বা কবিতার আসরে নির্লিপ্ত আড্ডায়।
আহারে! জীবন খরচ করে ফেলেছি অবহেলায় সময় কাটিয়ে, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে। এইতো সেদিন গানের আড্ডায়ও তো জীবন খরচ করে আসলাম। জীবন খরচ করে ফেলেছি মতিন মিয়ার চা দোকানে বসে, কখনো বা জীবন খরচ হয়েছে মানুষের মিথ্যে আশ্বাসের ফাঁকে। এরপর, এরপর হিসেব কষে দেখলাম—অর্ধেক জীবন বিক্রি করে এসেছি ঘাম আর রক্তের বিনিময়ে।
এইতো এভাবেই সময় খেয়ে সাবাড় করে ফেলেছে—আমার শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও সোনালি দিনগুলো।






















