রাজনীতির মাঠ আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। একদিকে বিরোধী শক্তিগুলোর লংমার্চ, দাবি আদায়ে অনড় অবস্থান ও আন্দোলন কঠোর করার ঘোষণা; অন্যদিকে তেল-গ্যাস সংকটের চাপ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ এবং সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন।
সব মিলিয়ে ক্ষমতার মাত্র ছয় মাসের মাথায় নতুন এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি সরকার। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটিকে এখনই সরকারের ব্যর্থতা কিংবা বড় রাজনৈতিক সংকটের চূড়ান্ত রূপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং অস্থির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব নেওয়া একটি সরকারের জন্য এটি স্বাভাবিকভাবেই একটি কঠিন সময়। প্রশ্ন হলো, সরকার কি এই চাপকে রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিতে দেবে, নাকি সংকটগুলো সামাল দিয়ে স্থিতিশীলতার পথে দেশকে এগিয়ে নিতে পারবে?
জামায়াত ও এনসিপি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। দাবি না মানলে আন্দোলন আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারিও এসেছে। অন্যদিকে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, ‘গুপ্ত শক্তি’র আশ্রয়ে আবারও স্বৈরাচারীব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা চলছে। এই দুই ধরনের রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, দেশের রাজনীতি এখন শুধু সরকার বনাম বিরোধী দলের প্রচলিত দ্বন্দ্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
রাজপথে সক্রিয় বিভিন্ন শক্তি নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যতের প্রভাবের জায়গা তৈরি করতে চাইছে। রাজনীতি পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো— ক্ষমতার নতুন বাস্তবতায় কে কতটা সংগঠিত, কার মাঠ পর্যায়ে কতটা প্রভাব এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক বন্দোবস্তে কার অবস্থান কোথায় হবে— সেই হিসাব এখন থেকেই শুরু হয়ে গেছে।
তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তার অভিযোগ, দেড় দশকের আওয়ামী শাসনামলে যারা ‘গুপ্ত’ বা ছদ্মবেশী অবস্থানে ছিল, তাদের আশ্রয় ও আশকারায় ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শক্তি দেশে অরাজকতা সৃষ্টি এবং আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। ভঙ্গুর অর্থনীতি, জ্বালানি সংকট ও জনজীবনের দুর্ভোগকে পুঁজি করে কোনো গোষ্ঠী যাতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সরকার ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির অবস্থান পরিষ্কার— রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে কোনো অদৃশ্য বা ছদ্মবেশী শক্তি যাতে আবার রাষ্ট্রকে অগণতান্ত্রিক পথে ঠেলে দিতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান লংমার্চ নিয়ে বলেন, পরিকল্পিতভাবে একটা ঝামেলা করার প্ল্যান ছিল জামায়াতের।
রাতের বেলা মতিঝিলে লাঠিসোঁটা জড়ো করেছিল। জানি না, এই লাঠিগুলো পরবর্তীতে বহরের গাড়িতে তোলা হয় কি না। তবে জামায়াতের বহরে শীর্ষ নেতারা উসকানিমূলক স্লোগান দিয়েছেন। এটি আসলে জামায়াতের ব্যবস্থাপনায়, অর্থায়ন ও জনবলে এনসিপির লংমার্চ। জামায়াত যেহেতু সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চায় না, সে ক্ষেত্রে এনসিপির নেতাদের সামনে রেখে এবং আওয়ামী লীগকে পেছনে রেখে, মাঝখানে থেকে খেলতে চায়!
রাজনীতি বিশ্লেষক ড. হেলাল মহিউদ্দিন বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘দোলনা রাজনীতি’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার মতে, ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলেও মূল প্রশ্ন হলো— রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রকৃত পরিবর্তন কতটা আসছে। এখানেই বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় সুযোগ রয়েছে। ক্ষমতার পালাবদলের পর শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, সুশাসন, জবাবদিহি ও রাজনৈতিক সহনশীলতার একটি নতুন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে পারলে সেটিই হবে সবচেয়ে বড় অর্জন।
সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের বক্তব্যেও উঠে এসেছে একই বাস্তবতা। তার মতে, গণতান্ত্রিক উত্তরণের পাশাপাশি অর্থনীতিকে পুনর্গঠন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কমানো এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করা জরুরি। তবে এই কাজগুলো একদিনে সম্ভব নয়। সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাসের কাছাকাছি। যে পরিস্থিতিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে, সেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং অর্থনৈতিক চাপ আগে থেকেই ছিল।
সেই বাস্তবতায় রাষ্ট্রযন্ত্রকে গুছিয়ে নেওয়া, নীতিগত পরিকল্পনা তৈরি করা এবং তা বাস্তবায়নের জন্য সময় প্রয়োজন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের প্রশ্ন, সরকারকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কি পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হচ্ছে? তবে এটাও ঠিক যে, সময়ের প্রয়োজন থাকলেও রাজনীতি অপেক্ষা করে না। রাজপথের আন্দোলন এবং জনজীবনের সংকট সরকারের ওপর চাপ তৈরি করবেই। বিশেষ করে তেল ও গ্যাস সংকট এখন শুধু জ্বালানি খাতের সমস্যা নয়; এটি অর্থনীতি ও রাজনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
জ্বালানি সংকট দীর্ঘ হলে পরিবহন ব্যয় বাড়ে, শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং বাজারে তার প্রভাব পড়ে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম— সবকিছুর সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহের সম্পর্ক রয়েছে। মানুষ যখন দৈনন্দিন জীবনে বাড়তি ব্যয়ের চাপ অনুভব করে, তখন রাজনৈতিক অসন্তোষও সহজে জায়গা করে নেয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকারের জন্য ইতিবাচক দিক হলো, এই বাস্তবতা সম্পর্কে নীতিনির্ধারকেরা সচেতন।
সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত, সরবরাহব্যবস্থার উন্নতি এবং বাজারে এর প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে রাজনৈতিক চাপও অনেকাংশে কমানো সম্ভব। কারণ রাজনৈতিক আন্দোলনের শক্তি শুধু মিছিলের লোকসংখ্যায় নির্ধারিত হয় না। মানুষের বাস্তব জীবনযাত্রার সংকটই শেষ পর্যন্ত রাজনীতির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে। জামায়াত ও এনসিপির আন্দোলন তাই সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আন্দোলনের লক্ষ্য ও সমন্বয়ের ওপর।
রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক বদিউর রহমানের মতে, লংমার্চ বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন কোনো কর্মসূচি নয়। তবে এবারকার কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিরোধী শক্তিগুলো দেখাতে চাইছে যে, তারা এখনো রাজপথে সংগঠিত হওয়ার সক্ষমতা রাখে। কিন্তু সরকারবিরোধী আন্দোলন কার্যকর হতে হলে শুধু অসন্তোষ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন অভিন্ন লক্ষ্য, সমন্বিত কৌশল এবং পারস্পরিক আস্থা।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, একই সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি মাঠে নামলেও তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য সব সময় এক থাকে না। তাৎক্ষণিক দাবিতে ঐক্য থাকলেও ক্ষমতা, নির্বাচন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার প্রশ্নে তাদের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা যায়। বর্তমান আন্দোলনের ক্ষেত্রেও সেই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। জামায়াত, এনসিপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির লক্ষ্য কতটা অভিন্ন, আন্দোলন কতটা সমন্বিত এবং সাধারণ মানুষের বাস্তব সমর্থন কতটা পায়— সামনের দিনগুলোতে সেটিই নির্ধারণ করবে রাজপথের রাজনীতির শক্তি।
এর মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একের পর এক হত্যা ও সহিংসতার খবর মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের মতে, সব হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক নয়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়লে তার রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি হয়। রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এ ক্ষেত্রে সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ যেমন বড়, তেমনি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। অপরাধী যে-ই হোক, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের বাইরে গিয়ে আইনের আওতায় আনার বার্তা প্রতিষ্ঠা করা গেলে জনআস্থা বাড়বে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিস্থিতিকে আরো গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে বলে তিনি মনে করেন। সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে স্থানীয় নির্বাচন অনেক সময় বেশি জটিল।
সেখানে রাজনৈতিক আদর্শের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিরোধ, অর্থ, প্রভাব, আধিপত্য এবং স্থানীয় ক্ষমতার দ্বন্দ্ব কাজ করে। তবে এই নির্বাচন সরকারের জন্য একটি সুযোগও হতে পারে। প্রতিযোগিতামূলক, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা গেলে তা দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। একই সঙ্গে বোঝা যাবে, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় কোন দলের সাংগঠনিক শক্তি কতটা এবং মাঠ পর্যায়ে জনগণের সমর্থনের চিত্র কী।
সব মিলিয়ে সরকারের সামনে এখন তিনটি বড় পরীক্ষা। প্রথমত, অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট সামাল দেওয়া। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলার পাশাপাশি সংলাপ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা। তৃতীয়ত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই তিনটি ক্ষেত্র একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। জ্বালানি সংকট দীর্ঘ হলে জনঅসন্তোষ বাড়বে।
জনঅসন্তোষ বাড়লে রাজনৈতিক আন্দোলন শক্তি পাবে। রাজনৈতিক সংঘাত বাড়লে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর চাপ পড়বে। তাই সরকারের সামনে এখন শুধু আন্দোলন মোকাবিলার প্রশ্ন নয়; বরং সংকটগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে একটি সমন্বিত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশল নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
রাজনীতি পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকার যদি জনজীবনের বাস্তব সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারে, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে, আইনশৃঙ্খলায় কঠোরতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে পারে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গণতান্ত্রিক পরিসর বজায় রাখে, তাহলে বর্তমান চাপ বড় সংকটে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। মাত্র ছয় মাসের মাথায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটি নিঃসন্দেহে সরকারের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা।
কিন্তু একই সঙ্গে এটি নতুন সরকারের সক্ষমতা প্রমাণেরও সুযোগ। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত। সামনে স্থানীয় নির্বাচন। রাজপথে সক্রিয় বিভিন্ন শক্তি। জনজীবনে রয়েছে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক চাপ। নেপথ্যে চলছে ভবিষ্যতের ক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের নতুন হিসাব। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই উত্তাপ কি সংঘাতের দিকে যাবে, নাকি সরকার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, কার্যকর প্রশাসন এবং জনজীবনের সংকট মোকাবিলার মাধ্যমে পরিস্থিতিকে স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যেতে পারবে?
সামনের দিনগুলোই তার উত্তর দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সংঘাত নয়, স্থিতিশীলতা; প্রতিশোধ নয়, রাজনৈতিক সহনশীলতা; আর শুধু রাজপথের শক্তি প্রদর্শন নয়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ। সরকারের সামনে পরীক্ষা কঠিন। কিন্তু সেই পরীক্ষাই হতে পারে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্ষমতার সবচেয়ে বড় সুযোগ।
লংমার্চ রাজপথের ষড়যন্ত্র,গণতন্ত্র বিনষ্টের চেষ্টা: এদিকে সংসদ বাদ দিয়ে মাত্র ছয় মাসের মাথায় রাজপথে ‘লংমার্চ’-এর নামে বিরোধী দল গণতন্ত্র বিনষ্টের চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনানুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিরোধী দল রাজপথে লংমার্চের কর্মসূচি নিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে অশ্রাব্য ও আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করছে এবং দলকে সেগুলোর আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতে দেখা যাচ্ছে। যা স্পষ্টত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। জনগণের সামনে যেসব শব্দ উচ্চারণ করা যায় না, তা প্রকাশ্যে বলা হচ্ছে। এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিলে বিরোধী দল তাকে দমন-পীড়ন বলে দাবি করে গণতন্ত্র বিনষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে।
জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দল শুধু সমালোচনাই করে যাচ্ছে, অথচ সংকট নিরসনে তাদের গঠনমূলক কোনো প্রস্তাবনা নেই। তারা সংসদে এ বিষয়ে কোনো পরামর্শ না দিয়ে বাইরে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। দেশের রিজার্ভ বৃদ্ধি পাওয়ার মতো ইতিবাচক অর্জনগুলোকে তারা জনগণের সামনে তুলে না ধরে আড়াল করার চক্রান্ত করছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে বিরোধীরা রাজপথে আন্দোলন করে বেড়ালেও সাধারণ জনগণ তাদের এই ভূমিকা ভালোভাবে দেখছে না। দায়িত্বশীল বিরোধী দলের মতো সংসদে নিজেদের দাবি বা প্রস্তাব না তুলে তারা রাজপথ বেছে নিয়েছে, যা মূলত সরকারের সার্বিক উন্নয়ন ঢাকা দেওয়ারই অপচেষ্টা। সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আরও উল্লেখ করেন, বিএনপির পাঁচ দিনব্যাপী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সার্বিক কর্মসূচি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এ উপলক্ষে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেটির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যবহৃত সব বিলবোর্ড ও ব্যানার অবিলম্বে খুলে ফেলতে হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, মাহমুদুর রহমান সুমন, আসাদুল করিম শাহীন, তারিকুল ইসলাম তেনজিং, ডা. জাহিদুল কবির প্রমুখ।


















