রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার মাল্লাপট্টি ব্রিজসংলগ্ন ড্রাম্পিং প্রকল্পের ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ের সড়কে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উত্থাপিত এই অভিযোগের মূল তীর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের দিকে।
নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ও নকশা পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ লোপাটের অভিযোগ নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের যোগসাজশে রাতের অন্ধকারে পাথরের সঙ্গে ইটের রাবিশ খোয়া মেশানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে স্থানীয়দের তোপের মুখে ওই কর্মকর্তা পাথর থেকে ইটের খোয়া সরিয়ে নিতে বাধ্য হন।
জানা যায়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ‘বাংলাদেশের ৩০টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প’-এর আওতায় মহাখালী কার্যালয়ের অধীনস্থ এই কাজ পেয়েছে বিসমিল্লাহ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। এর স্বত্বাধিকারী মো. মনজুর মোল্লা। এই প্রতিষ্ঠানের আওতায় চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি কাজটি শুরু হয়ে একই বছরের ২১ এপ্রিলের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে চার মাস অতিবাহিত হলেও নানাবিধ অনিয়মের কারণে এখনো কাজ শেষ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বারবার ঠিকাদার পরিবর্তনের নেপথ্যের মূল কারিগর এই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম। সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে কাজের এস্টিমেট (নকশা) নিজের ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করে তিনি মোটা অঙ্কের অর্থ লোপাট করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাথরের মধ্যে ইটের রাবিশ খোয়া মেশানো, সিলেকশন বালুর সঙ্গে ভরাট বালু ও অল্প সিমেন্ট ব্যবহার এবং নম্বরবিহীন ইট দিয়ে গাইড ওয়াল তৈরি করা হয়েছে।
এ ছাড়া গাইড ওয়ালের বেশির ভাগ খুঁটিতে রড না দেওয়া, ১২ মিলি রডের পরিবর্তে ৮ মিলি রড ব্যবহার, খুঁটিতে চারটি রডের পরিবর্তে তিনটি রড দেওয়া এবং ১২ ফুটের পরিবর্তে ৮ ফুট সাইজের খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। এমনকি খুঁটিতে পাঁচমিশালি রড ব্যবহারের কারণে এখনই খুঁটিতে ফাটল ধরেছে এবং রাস্তা নিয়ে গাইড ওয়াল ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে বারবার তর্কবিতর্ক ও কাজ বন্ধের পরও কাজের মানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, এই মানের কাজ তিন মাসের বেশি টেকার কথা নয়। যেকোনো সময় গাইড ওয়াল ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। অথচ অদৃশ্য কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পাথরের সঙ্গে ইটের রাবিশ খোয়া মেশানোর বিষয়টি স্বীকার করে অভিযুক্ত উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, রাতের অন্ধকারে ভুলবশত শ্রমিকেরা এটি করেছিল, যা পরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি নকশায় কাজ করলে কাজটা বেশি দিন টেকসই হতো না। তাই কাজের এস্টিমেট (ডিজাইনে) কিছুটা পরিবর্তন করছি। ’ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি আরও বলেন, কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। আমি কোনো টাকা আত্মসাৎ বা অনিয়ম করিনি। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, গুজব। এ বিষয়ে ৩০ পৌরসভার ডিপিডি মাহমুদুর রশীদ মজুমদার টিপু বলেন, ডাম্পিং প্রকল্পসহ রাস্তার কাজে কোনো অনিয়ম হলে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
অভিযোগের তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


















