আজ রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২১ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
বজ্রসহ বৃষ্টি
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩১°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

জাতিসংঘের নতুন মানচিত্রে বদলাল ১৫৬৯ সালের চিত্র, আমেরিকার তীব্র ক্ষোভ

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:42:32 am, Sunday, 6 September 2026
  • 11

জাতিসংঘের নতুন মানচিত্রে বদলাল ১৫৬৯ সালের চিত্র, আমেরিকার তীব্র ক্ষোভ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

আফ্রিকা মহাদেশের আয়তন বাড়িয়ে এবং উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপকে ছোট করে দেখিয়ে বিশ্বের নতুন মানচিত্র গ্রহণের পক্ষে প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। তবে সংস্থাটির এই পদক্ষেপে মোটেও খুশি নয় আমেরিকা। প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন।

গত শুক্রবার, মহাদেশগুলোর স্থলভাগ আরও নির্ভুলভাবে উপস্থাপন করতে আনা আনা এই প্রস্তাবের পক্ষে ১৬৪টি দেশ ভোট দেয়। অন্যদিকে প্রস্তাবের বিপক্ষে ছিল আমেরিকা। ৬টি দেশ কাউকেই ভোট দেয়নি।

জাতিসংঘের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সম-ক্ষেত্রফলবিশিষ্ট এই মানচিত্র বিশ্বের সঠিক ভৌগোলিক আয়তন তুলে ধরবে। এতে, সদস্য রাষ্ট্রকে ১৫৬৯ সালে ফ্ল্যান্ডার্সের মানচিত্রকর জেরার্ডাস মার্কেটরের নকশা করা মানচিত্রের পরিবর্তে এই নতুন মানচিত্র ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

তৎকালীন সময়ে সমুদ্রযাত্রায় দিকনির্ণয়ের সুবিধার জন্য মার্কেটর বিশ্বের প্রচলিত মানচিত্রটি নকশা করেছিলেন।

সাধারণ অধিবেশনে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডাসি। তিনি বলেন, ‘মানচিত্র কখনো নিরপেক্ষ হতে পারে না। যখন এটি আমাদের গ্রহের একটি বিকৃত ছবি তুলে ধরে, তখন ভুল উপস্থাপনকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জিইয়ে রাখার ঝুঁকি তৈরি হয়।’

তবে এই প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপের কারণেই জাতিসংঘ তার গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে। ভোটের আগে জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি ইয়ারিনা ফেরেনসেভিচ বলেন, ‘আসল ও গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোতে মনোযোগ না দিয়ে এই সংস্থা ১৬ শতকের মানচিত্র নিয়ে বিতর্ক করছে।’

মার্কেটর মানচিত্রে স্থলভাগের আকৃতি ও কোণগুলো সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। এতে মহাদেশগুলোর পারস্পরিক আয়তনের আনুপাতিক হিসাব ভুল থেকে যায়। এর মূল কারণ, গোল পৃথিবীকে চ্যাপ্টা মানচিত্রে তুলে ধরার জটিলতা।

পুরোনো এই মানচিত্রে বিষুবরেখায় থাকা অঞ্চলগুলোকে ছোট এবং উত্তরের অঞ্চলগুলোকে অতিরিক্ত বড় করে দেখানো হতো। ফলে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাকে তাদের প্রকৃত আয়তনের চেয়ে অনেক বড় এবং আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকাকে অনেক ছোট দেখাত।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

টানা ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড গড়লেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি

জাতিসংঘের নতুন মানচিত্রে বদলাল ১৫৬৯ সালের চিত্র, আমেরিকার তীব্র ক্ষোভ

Update Time : 12:42:32 am, Sunday, 6 September 2026

আফ্রিকা মহাদেশের আয়তন বাড়িয়ে এবং উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপকে ছোট করে দেখিয়ে বিশ্বের নতুন মানচিত্র গ্রহণের পক্ষে প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। তবে সংস্থাটির এই পদক্ষেপে মোটেও খুশি নয় আমেরিকা। প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন।

গত শুক্রবার, মহাদেশগুলোর স্থলভাগ আরও নির্ভুলভাবে উপস্থাপন করতে আনা আনা এই প্রস্তাবের পক্ষে ১৬৪টি দেশ ভোট দেয়। অন্যদিকে প্রস্তাবের বিপক্ষে ছিল আমেরিকা। ৬টি দেশ কাউকেই ভোট দেয়নি।

জাতিসংঘের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সম-ক্ষেত্রফলবিশিষ্ট এই মানচিত্র বিশ্বের সঠিক ভৌগোলিক আয়তন তুলে ধরবে। এতে, সদস্য রাষ্ট্রকে ১৫৬৯ সালে ফ্ল্যান্ডার্সের মানচিত্রকর জেরার্ডাস মার্কেটরের নকশা করা মানচিত্রের পরিবর্তে এই নতুন মানচিত্র ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

তৎকালীন সময়ে সমুদ্রযাত্রায় দিকনির্ণয়ের সুবিধার জন্য মার্কেটর বিশ্বের প্রচলিত মানচিত্রটি নকশা করেছিলেন।

সাধারণ অধিবেশনে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডাসি। তিনি বলেন, ‘মানচিত্র কখনো নিরপেক্ষ হতে পারে না। যখন এটি আমাদের গ্রহের একটি বিকৃত ছবি তুলে ধরে, তখন ভুল উপস্থাপনকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জিইয়ে রাখার ঝুঁকি তৈরি হয়।’

তবে এই প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপের কারণেই জাতিসংঘ তার গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে। ভোটের আগে জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি ইয়ারিনা ফেরেনসেভিচ বলেন, ‘আসল ও গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোতে মনোযোগ না দিয়ে এই সংস্থা ১৬ শতকের মানচিত্র নিয়ে বিতর্ক করছে।’

মার্কেটর মানচিত্রে স্থলভাগের আকৃতি ও কোণগুলো সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। এতে মহাদেশগুলোর পারস্পরিক আয়তনের আনুপাতিক হিসাব ভুল থেকে যায়। এর মূল কারণ, গোল পৃথিবীকে চ্যাপ্টা মানচিত্রে তুলে ধরার জটিলতা।

পুরোনো এই মানচিত্রে বিষুবরেখায় থাকা অঞ্চলগুলোকে ছোট এবং উত্তরের অঞ্চলগুলোকে অতিরিক্ত বড় করে দেখানো হতো। ফলে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাকে তাদের প্রকৃত আয়তনের চেয়ে অনেক বড় এবং আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকাকে অনেক ছোট দেখাত।