সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার আলিফ আহমেদ চন্দন (২৪) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে দাম্মাম থেকে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে একটি লরির সঙ্গে তাঁদের বহনকারী প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে আলিফসহ সাতজন নিহত হন।
নিহত আলিফ আহমেদ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌর এলাকার মরুরা গ্রামের আব্দুল হাইয়ের একমাত্র ছেলে। প্রায় সাত বছর সৌদি আরবে কর্মজীবন শেষে স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন তিনি। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কৈশোরেই পরিবারের হাল ধরতে সৌদি আরবে পাড়ি জমান আলিফ। প্রবাসজীবনে একবার দেশে এসে বিয়ে করেন। পরে আবার সৌদি আরবে ফিরে যান।
দীর্ঘ সাত বছরের প্রবাসজীবন শেষে এবার স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার দাম্মামে কর্মস্থল থেকে আলিফসহ বিভিন্ন এলাকার সাতজন একটি প্রাইভেটকারে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে একটি লরির সঙ্গে তাঁদের বহনকারী গাড়িটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেটকারে থাকা সাতজনের মৃত্যু হয়। আলিফের ভাই ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আনিসুজ্জামান ছোটন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আলিফের মরদেহ সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, শুক্রবার রাতে তিনি দুর্ঘটনার খবর জানতে পেরেছেন। তিনি আলিফের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং সরকারি পর্যায় থেকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে কাতর আলিফের পরিবার। দীর্ঘ সাত বছর পর প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের কাছে আলিফের দেশে ফেরার স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছে এক বেদনাবিধুর অপেক্ষায়।























