উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ঐতিহাসিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র তালোড়ায় অবস্থিত রেলস্টেশনটি। বগুড়া ও সান্তাহার জংশনের ঠিক মাঝামাঝি অবস্থিত এই স্টেশনটি ব্যবহার করে প্রতিদিন দুপচাঁচিয়া ও আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষ কম খরচে এবং নিরাপদে যাতায়াত করে থাকেন।
পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় প্রতিবছর স্টেশনটি থেকে সরকারি কোষাগারে জমা হয় মোটা অঙ্কের রাজস্ব। তবে রাজস্ব আদায়ে সফল হলেও গত দুই দশকে মেলেনি তালোড়া রেলস্টেশনের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া। জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও নানা নাগরিক সংকট নিয়েই প্রতিদিন চলছে এর কার্যক্রম। বর্তমানে তালোড়া স্টেশন হয়ে প্রতিদিন ২টি আন্তঃনগর এক্সপ্রেসসহ মোট ১০টি ট্রেন যাতায়াত করে।
প্রতিদিন গড়ে পাঁচ শতাধিক যাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা ও সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত। অবকাঠামোগত সংকটে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। তীব্র তাপদাহে খোলা প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করা অত্যন্ত কষ্টকর হলেও নেই কোনো সিলিং ফ্যানের ব্যবস্থা।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রী, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য নেই কোনো পরিচ্ছন্ন বা ব্যবহারযোগ্য শৌচাগার। প্ল্যাটফর্মের অধিকাংশ স্থানের পাথরের ব্লক ও পাটাতন ভেঙে উঠে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। যাত্রী বিশ্রামাগারের ছাদ এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত যে, বর্ষাকালে প্ল্যাটফর্মের বারান্দায় অনবরত পানি পড়ে। অতীতে তালোড়া স্টেশনে একসঙ্গে চারটি ট্রেন দাঁড়ানোর ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে অতিরিক্ত লাইনগুলো বন্ধ রয়েছে।
প্ল্যাটফর্মে পোস্ট ল্যাম্প না থাকায় সন্ধ্যার পর পুরো স্টেশন এলাকা অন্ধকারে ঢেকে যায়। নিরাপত্তা প্রহরী নেই। প্ল্যাটফর্মের দক্ষিণ পাশে ৩ নম্বর লাইনসংলগ্ন স্থানে অবৈধ জরাজীর্ণ বস্তি ও দোকান গড়ে ওঠায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। সমস্যা ও দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে তালোড়া স্টেশনের ইনচার্জ (স্টেশন মাস্টার, গ্রেড-৩) সোহাগ হোসেন জানান, আমি যোগদান করেছি প্রায় ১০ মাস হলো।
এই স্টেশনে বহু সংকট রয়েছে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ধারাবাহিকভাবে জানানো হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো উন্নয়ন কাজ শুরু হয়নি। তালোড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল জলিল খন্দকার বলেন, পৌরসভার মেয়র থাকাকালে আমি বহুবার রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা অচিরেই উন্নয়ন কাজ শুরু করার আশ্বাস দিলেও দীর্ঘদিনেও তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন ঘটেনি।
ফলে তালোড়াবাসীসহ আশপাশের মানুষ ক্রমাগত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পৌরসভার রাজস্বে স্টেশনের জায়গার কোনো কর প্রদান করেনি। স্থানীয় বাসিন্দা রহমানসহ নিয়মিত যাত্রীরা জানান, সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধিতে এই স্টেশনের অবদান অনস্বীকার্য। যাত্রীসেবার মান উন্নত করা এবং অবৈধ দখলদারিত্ব উচ্ছেদে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
















